Ajker Patrika

রাকসু: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেই নেতারা, হতাশ শিক্ষার্থীরা

  • ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির।
  • শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসবের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
  • প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এগিয়ে নেতারা।
দীন ইসলাম, রাবি
রাকসু: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেই নেতারা, হতাশ শিক্ষার্থীরা
ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশাল জয়ও পেয়েছিল তারা। তবে প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, রাকসুর নেতারা জাতীয় রাজনীতিতেই বেশি সক্রিয়। তাঁদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডও সমালোচিত।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১২টি প্যানেলের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি, এজিএসসহ ২০টিতে জয়লাভ করে।

রাকসু নির্বাচনে ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবিরি। এসবের মধ্যে ছিল রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা, শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ ও আবাসন ভর্তুকি, মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, ২০ শয্যার আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, লাইব্রেরির সম্প্রসারণ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট, প্রশাসনিক সেবা অ্যাপ এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গবেষণা বৃত্তি, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা ও শিক্ষক বিনিময়, পরিবহন ও নিরাপত্তা উন্নয়ন, অন-ক্যাম্পাস কর্মসংস্থান, নারী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স, ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, অপরাধ দমন এবং দলীয় শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতিও ছিল ইশতেহারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাদিয়া হক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৯ মাস পরও রাকসু তাদের ইশতেহারের অর্ধেকও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ, ২০ শয্যার মেডিকেল সেন্টার এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট কবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।’

দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পর একটি সেমিনারে রাকসু তাদের ‘১০০ দিনে ১০৩টি কাজ’ শিরোনামে একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকার অধিকাংশই ছিল কবর জিয়ারত, সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় সভা, ক্রীড়া প্রদর্শনী, স্মারকলিপি প্রদান ও কাওয়ালি আয়োজনের মতো কার্যক্রম। আর দৃশ্যমান কাজের মধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আবাসিক হলগুলোয় ইন্টারনেট সেবা শক্তিশালী করা।

নেতাদের নিয়ে বিতর্ক

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রাকসু নেতারা মাঠে না থাকলেও বিভিন্ন সময় বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যায় রাকসুর ভিপি ও শিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান জাহিদকে। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তিনি দুটি গণমাধ্যমের দাবিও জানান।

শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ও রাকসুর ভিপি পদপ্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘ইশতেহার বাস্তবায়নে রাকসুকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হতো। কিন্তু শিবির-সমর্থিতরা সে ধরনের চাপ সৃষ্টিকারী ভূমিকা নেয়নি; বরং রাকসুকে জামায়াতি আদর্শ বিস্তারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

তবে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘২৪টি ইশতেহারের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বা চলমান। বাকি ৪১ শতাংশ মেয়াদের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে শিক্ষক হেনস্তা ও বিভিন্ন দাবিতে মব সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনাতেও উঠে এসেছে তাঁর নাম। এ নিয়ে তদন্তও করছে পিবিআই।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, তারা এমন কিছু মুখরোচক ইশতেহার দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যেটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

উপাচার্য ও রাকসু সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও রাকসু দুটি পৃথক সত্তা। উভয়েই নিজ নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যে কাজ করে। রাকসুর নিজস্ব তহবিল ও ইশতেহার থাকলেও শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। রাতারাতি বা এক বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করা বাস্তবসম্মত নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত