Ajker Patrika

‘শুধু ভিনির একার নয়, এবারের বিশ্বকাপটা হবে ব্রাজিলের’

ক্রীড়া ডেস্ক    
‘শুধু ভিনির একার নয়, এবারের বিশ্বকাপটা হবে ব্রাজিলের’
হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। ছবি: এএফপি

ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্রটা যে ব্রাজিলের ভালোই জানা। নিউইয়র্কে গত রোববার মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল সেলেসাওরা। এক সপ্তাহ না যেতেই আজ ফিলাডেলফিয়ায় হাইতিকে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। জয়ের পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে।

ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোলের পর গোল করে যাওয়া ভিনির জাতীয় দলে অফফর্ম নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। এবারের বিশ্বকাপকে তাই নিজেকে চেনানোর মঞ্চ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন ভিনি। দুই ম্যাচে দুই গোল করেছেন। রয়েছে এক অ্যাসিস্টও। যার মধ্যে আজ হাইতির বিপক্ষে মাথিয়াস কুনিয়ার একটি গোলে ভিনি অ্যাসিস্ট করেছেন। এমনকি কুনিয়ার আরেক গোলে ভিনি পরোক্ষ অবদান রাখেন।

আজ হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দুর্দান্ত জয়ের পর ভিনিকে যেমন আনচেলত্তি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, একই সঙ্গে দল নিয়েও আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে কোচের। হাইতি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘সে বিশ্বকাপে খুব ভালো ফর্মে এসেছে। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো। আমরা এটা মনে করছি না যে এটা কেবল ভিনিসিয়ুসের বিশ্বকাপ হবে। এটা ব্রাজিলেরও বিশ্বকাপ হবে বলে আশা করছি।’

৪০ মিনিটে ডান পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। ডাগআউটে ফেরার সময় চোখের পানি মুছতে থাকেন তিনি। কোচ আনচেলত্তিকেও তখন কিছুটা চিন্তিত দেখা গেছে। কারণ, মাত্র তিন মাস আগে যে ডান পায়ের মাংসপেশিতে রাফিনিয়া ব্যথা পেয়েছিলেন, সেখানেই ফের ব্যথা পাওয়ায় তাঁর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা জেগেছে। ম্যাচ শেষে রাফিনিয়ার প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন, ‘আগামীকাল রাফিনিয়ার অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। এই মুহূর্তে আমরা জানি না ঠিক কী ঘটেছে।’

রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে ৪০ মিনিটে মাঠে নামান রায়ান। কেন রায়ানকেই খেলিয়েছেন আনচেলত্তি—এ প্রশ্নের উত্তরে কোচ বলেন, ‘আমি রায়ানকে খেলিয়েছিলাম। কারণ, সে গুণগত ফুটবলার। রাফিনিয়ার চেয়ে তার খেলার ধরন কিছুটা আলাদা। কোন খেলোয়াড় মাঠে নামবে আর কে নামবে না—সবকিছুই আসলে এই ছোটখাটো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।’

হাইতিকে হারানোর পর এখন ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে ওঠাই ব্রাজিলের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ। ব্রাজিল, মরক্কো দুই দলেরই পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানের কারণে এগিয়ে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের পরের ম্যাচ ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। একই দিনে ‘সি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে মরক্কো খেলবে হাইতির বিপক্ষে। এই স্কটল্যান্ডের জয় রয়েছে হাইতির বিপক্ষেই।

নকআউট পর্বে যে অবস্থাতেই উঠুক না কেন, গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে বলে মনে করেন আনচেলত্তি। আজ হাইতি ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘এটি তেমনই ছিল যা আমি আশা করেছিলাম। খেলার মান উন্নত করা, কম ভুল করা, রক্ষণভাগে আরও নিয়ন্ত্রণ রাখা; রক্ষণাত্মক দিক থেকে এটি একটি ভালো ম্যাচ ছিল। আমরা উন্নতি করেছি এবং পরের ম্যাচে আরও উন্নতি করব। নকআউট পর্ব ভালোভাবে শুরু করতে আমাদের এই গ্রুপ পর্বের পুরো সুবিধা নিতে হবে।’

ব্রাজিল সবশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে ২০০২ সালে। সেবার তারা হারিয়েছিল জার্মানিকে। পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আর কোনো শিরোপা নেই ব্রাজিলের। এবার সেলেসাওদের হেক্সা মিশন পূর্ণ হয় কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত