ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম প্রধান ইবাদত। নামাজ শুরু হয় ‘তাকবিরে তাহরিমা’ বা আল্লাহু আকবার বলার মাধ্যমে, আর শেষ হয় ‘সালাম’ ফেরানোর মাধ্যমে। সালাম ফেরানোর মধ্য দিয়েই একজন নামাজি ব্যক্তি নামাজ সম্পন্ন করেন। শরিয়তের পরিভাষায় এই সালাম ফেরানো ওয়াজিব।
নামাজ সম্পন্ন করার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে প্রথমে ডান দিকে এবং তারপর বাম দিকে সালাম ফেরানো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) ডান ও বাম উভয় দিকে সালাম ফেরাতেন এবং উভয় দিকেই আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলতেন।’ (জামে তিরমিজি: ২৯৫)
নামাজের সালামের সময় শব্দগুলো অতিরিক্ত দীর্ঘ বা ‘মদ’ (টেনে) না করে স্বাভাবিকভাবে উচ্চারণ করতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেছেন, সালাম ‘হাজফ’ করা সুন্নত। বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে মোবারক (রহ.) এই ‘হাজফ’-এর ব্যাখ্যায় বলেন—‘হাজফ’ অর্থ হলো, সালামের শব্দকে বেশি ‘মদ’ না করা, অর্থাৎ টেনে দীর্ঘ না করা। (জামে তিরমিজি: ২৯৭)
সালাম শুরু ও শেষ করার সঠিক পদ্ধতি: সালাম ফেরানোর সময় শরীর বা বসার ভঙ্গি সোজা থাকবে এবং মাথা ঘোরানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হয়। সালাম ফেরানোর সঠিক নিয়ম হলো, নামাজি ব্যক্তির চেহারা যখন কেবলার দিকে সোজা থাকবে, ঠিক তখনই সে সালামের প্রথম শব্দ বলা শুরু করবে। এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে নিজের চেহারা কেবলার দিক থেকে ডান দিকে ফেরাবে। অনুরূপভাবে, দ্বিতীয় সালামের সময়ও চেহারা সোজা কেবলার দিকে থাকা অবস্থায় বাক্য শুরু করবে এবং বলতে বলতে চেহারা বাম দিকে ফেরাবে।
এই পদ্ধতির সপক্ষে ইসলামের বিখ্যাত মনিষী ও ফকিহগণ স্পষ্ট মত দিয়েছেন। বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইমাম নববি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে লিখেছেন—‘কেবলার দিকে চেহারা থাকা অবস্থায় সালাম শুরু করবে এবং চেহারা ঘোরানো অবস্থায় সালাম সম্পন্ন করতে থাকবে। যেন চেহারা ঘোরানো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালামের বাক্য বলাও শেষ হয়ে যায়।’ (আলমাজমু শরহুল মুহাজ্জাব: ৩/৪৫৮)

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
সময়ের পরিক্রমায় প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলামের আলো আরবের সীমানা পেরিয়ে অনারবের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। গোত্রভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ভেঙে ইসলাম তখন এক বিশাল রাষ্ট্রীয় রূপ ধারণ করে। ষষ্ঠ বছরের ঘটনা; তখন ইরাকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিশিষ্ট সাহাবি হজরত...
১ দিন আগে
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এটি আল্লাহ তাআলার নিকট বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাসগুলোর অন্যতম। ইসলামের ইতিহাসে মহররমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, বিশেষ করে আশুরা ও কারবালার স্মৃতি। এসব ঘটনা মুসলমানদের জন্য শিক্ষা, অনুপ্রেরণা এবং জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা বহন করে।
১ দিন আগে
মেক্সিকো বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাচীন মায়া সভ্যতার পিরামিড, মারিয়াচি ব্যান্ডের চঞ্চল সুর কিংবা রোমান ক্যাথলিক চার্চের সুউচ্চ মিনার। কিন্তু এই চিরচেনা লাতিন সংস্কৃতির আড়ালে দেশটির বুকে নিঃশব্দে গড়ে উঠেছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ইতিহাস—ইসলাম আগমনের গল্প। ১২ কোটি ৬০ লাখের বেশি জনসংখ্যার...
১ দিন আগে