Ajker Patrika

পাকিস্তানের এক আদালতও চেপে ধরেছেন রিজওয়ানকে

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৪৬
পাকিস্তানের এক আদালতও চেপে ধরেছেন রিজওয়ানকে
মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপর এখন লাহোর আদালতের চাপ। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজে কী যে ঝামেলায় ফেঁসেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, সেটা নিজেই ভালো জানেন। জাতীয় সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থার (এনসিসিআই) তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে লাহোর উচ্চ আদালতও চেপে ধরেছেন।

রিজওয়ানকে হয়রানি না করতে এনসিসিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন লাহোর উচ্চ আদালত। তবে অনলাইনে বেটিং ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালু রাখার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সূত্রের বরাতে আজ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে। রিজওয়ানের করা একটি পিটিশন খারিজ করে লাহোর উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলাম এই লিখিত আদেশ জারি করেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে এক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী এনসিসিআইএ রিজওয়ানকে জড়িয়ে কথিত অনলাইন বেটিং ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের বিষয় তদন্ত করছে। সরকারের আইনজীবী আদালতকে জানান, বিষয়টি ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পিসিইএ) ২০১৬-এর ১৪ ধারার আওতায় পড়ে। এই ধারাটি অবৈধ আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আদালতকে আরও জানানো হয়, সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য থেকে এই বিষয়ে রিজওয়ানের কথিত সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন লাহোর উচ্চ আদালত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) দুর্নীতি বিরোধী নীতিমালা অন্য কোনো চলমান আইনের অধীনে চলা কার্যক্রমকে বাতিল করতে পারে না বলে মনে করেন আদালত।

আইসিসির নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধিতেও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে লাহোরের আদালত মনে করছেন। তাই আইসিসির নিজস্ব শৃঙ্খলাব্যবস্থা থাকার কারণে কোনো আইনগতভাবে অনুমোদিত রাষ্ট্রীয় সংস্থার তদন্ত পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হয় না। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা হাজিরার জন্য নোটিশ দেওয়া মানেই যে তিনি অপরাধী, ব্যাপারটা তা নয়।

রিজওয়ানের বিরুদ্ধে এনসিসিআইএ নিজেদের এখতিয়ারের মধ্য থেকেই তদন্ত করছে বলে লাহোরের উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। তদন্ত সংস্থার কোনো অসৎ উদ্দেশ্যেরও প্রমাণ পাননি লাহোরের আদালত। খেলাধুলায় দুর্নীতি খুঁজে তা নির্মূল করাই এনসিসিআইএর উদ্দেশ্য বলে আদালত রায় দিয়েছেন।

এনসিসিআইএর তদন্তকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোরের আদালতে কদিন আগে একটা পিটিশন দায়ের করেছিলেন রিজওয়ান। এমনকি পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক ব্যাটার আইসিসিরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।

লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর রিজওয়ান, ইমাম উল হকসহ সাত পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। রিজওয়ানের মতো ইমামের বিরুদ্ধেও বেটিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। এনসিসিআইএ দুজনেরই ফোন ঘেঁটেছিল। যদিও কিছু পায়নি। পরবর্তীতে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছে ইংলিশদের কাছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত