Ajker Patrika

অস্ট্রেলিয়ার সামনে কী করবে বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
অস্ট্রেলিয়ার সামনে কী করবে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। ছবি: বিসিবি

সকাল যদি দিনের পূর্বাভাস দেয়, তাহলে ‘খবর’ আছে নাজমুল হোসেন শান্ত-তাওহীদ হৃদয়দের! ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। দলটির আনকোরা পেসার ক্যাম্পবেল টম্পসনের কাছেই একের পর এক আত্মসমর্পণে মাত্র ৫৪ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। তাহলে পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়ার সামনে কী করবে বাংলাদেশ—এমন একটা কৌতূহল নিয়েই আগামীকাল ভোরে শুরু হতে যাচ্ছে ডারউইন টেস্ট।

এই ডারউইনেই ঠিক ২৩ বছর আগে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। তখনো একটা কৌতূহল ছিল টেস্ট ক্রিকেটে ‘দুগ্ধজাত শিশু’ বাংলাদেশকে নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড হুকস হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, চাইলে এই বাংলাদেশের বিপক্ষে এক দিনেই টেস্ট শেষ করে দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া! না, সেবার অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে হওয়া টেস্ট ম্যাচ এক দিনে নয়, শেষ হয়েছিল তৃতীয় দিনে। এবার কী হবে?

যাহোক, সত্যটা এই—আনকোরা টম্পসনের সুইং ও ধারাবাহিক লাইন-লেন্থ আর বাউন্সের সামনেই প্রস্তুতি ম্যাচে যে অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের, সেখানে পরীক্ষিত প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউডদের সামনে অস্বস্তিতে পড়তেই হবে শান্ত-হৃদয়দের।

বিশ্বমানের পেসারদের সামনে ব্যাটারদের অস্বস্তিতে পড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু ডারউইন টেস্টে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে কতটা ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখাতে পারবেন শান্ত-হৃদয়রা, এটাই দেখার।

প্রস্তুতি ম্যাচের ৫৪ রানে অলআউট হওয়াটা বাংলাদেশের সামর্থ্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। টেস্ট ক্রিকেটে প্রস্তুতি ম্যাচ ও মূল ম্যাচের বাস্তবতা আলাদা। বাংলাদেশ ব্যাটারদের লক্ষ্যই হতে হবে নতুন বল সামলে প্রথম ঘণ্টা পার করা, এরপর সেশন ধরে নিজেদের ইনিংস এগিয়ে নেওয়া। শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দিলে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুব কমই থাকে।

আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বরে। এই ব্যবধানই দুই দলের সিরিজে অসম একটা লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেয়। এই বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত একটা মৌসুমের শুরু। এই সিরিজ দিয়েই ছন্দে ফেরার লক্ষ্য কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজলউডদের। যেমনটা বলেছেন হ্যাজলউড, ‘এই দলটি, বিশেষ করে এর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। সবচেয়ে বড় সিরিজগুলো নিশ্চিতভাবেই ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে। আমি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কখনো জিতিনি, তাই আমাদের সামনে আসা এই তিনটি সিরিজে শুধু আমার নয়, পুরো দলের জন্যই কিছু লক্ষ্য পূরণের বাকি রয়েছে।’

শুধু বোলিংই নয়, ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত এই অস্ট্রেলিয়া। উসমান খাজা অবসর নেওয়ায় ওপেনিংয়ে সঠিক জুটির সন্ধানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট ট্রাভিস হেডের সঙ্গে জ্যাক ওয়েদারাল্ডকেই ইনিংসের গোড়াপত্তনে পাঠাতে পারেন। ২০২৩ সালের পর প্রথম টেস্ট শতকের খোঁজে থাকা মারনাস লাবুশেন অথবা ক্যামেরন গ্রিন তিন নম্বরে নামতে পারেন; এরপরে আসবেন স্টিভ স্মিথ, অ্যালেক্স কেরি এবং সম্ভাব্য বিউ ওয়েবস্টার।

সিরিজ শুরুর আগেই যেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ, সেখানে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এসেছে চোটাঘাত। চোটে পড়ে দলের সেরা পেসার নাহিদ রানার খেলা হচ্ছে না। ডারউইনে খেলা হচ্ছে না আরেক পেসার শরীফুল ইসলামেরও। দুজনের অনুপস্থিতিতে সফরকারী দলের পেস আক্রমণের বাড়তি দায়িত্ব বর্তেছে তাসকিন আহমেদের কাঁধে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে হলে শুধু ভালো কয়েকটি স্পেল নয়, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক বোলিং করতে হবে তাসকিনকে।

অবশ্য দলের ওপর আস্থা রাখছেন অধিনায়ক শান্ত। অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার আগেই তিনি বলেছেন, ‘এই দলের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে এবং বিশ্বাস করি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’

সেই ভালো ক্রিকেট খেলতে পারাটাই হবে বাংলাদেশের এই সফরের অর্জন। পারবেন কি শান্তরা?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত