Ajker Patrika

বয়সী অস্ট্রেলিয়ার ছিল বেশি অভিজ্ঞতাও

ক্রীড়া ডেস্ক    
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত ছিলেন স্টার্ক-হেডরা। ছবি: ক্রিকইনফো
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত ছিলেন স্টার্ক-হেডরা। ছবি: ক্রিকইনফো

সিরিজ শুরুর আগে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া দলকে ‘ড্যাডস আর্মি’ বলে কটাক্ষ করেছিল ইংলিশ মিডিয়া ও ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা। শেষ পর্যন্ত ‘ড্যাড’দের অভিজ্ঞতারই জয় হয়েছে মাত্রই শেষ হওয়া অ্যাশেজে।

২০০৫ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হয়ে এসে খুব বেশি দিন স্বপদে থাকতে পারেননি গ্রেগ চ্যাপেল। দুই বছরের মধ্যেই কোচের দায়িত্ব ছেড়ে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। বয়স বেশি বলে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দল থেকে ‘প্রিন্স অব কলকাতা’খ্যাত সৌরভ গাঙ্গুলীকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত চাকরিই হারাতে হয় গ্রেগ চ্যাপেলকে।

পুরোনো এই ঘটনা নতুন করে বলার একটা প্রাসঙ্গিকতা আছে। সেই সময় কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের কেউ কেউ এমনও বলেছিলেন, ‘বুড়োদের নিয়েই অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব শাসন করছে, আর বয়স বেশি বলে ভারতীয় দল থেকে উনি সৌরভকে বাদ দিতে চান।’ টেস্টে তখন অস্ট্রেলিয়ার রাজস্ব। ২০০৫ সালে টানা জয়ের যে ধারা শুরু হয়েছিল, সেটি অব্যাহত ছিল। আগের টানা ১৬টি টেস্ট জয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা পন্টিংয়ের দলটির বেশ কজনেরই বয়স ছিল মধ্য ত্রিশের কাছাকাছি।

ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম ও ‘বার্মি আর্মি’রা বোধ হয় ভুলেই গিয়েছিল, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের বয়স হলে অভিজ্ঞতাও বাড়ে! সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কী কী করা যায়, সেটা দেখিয়েছিল রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া! মাত্রই শেষ হওয়া অ্যাশেজে তা আবারও অস্ট্রেলিয়া দেখাল মিচেল স্টার্ক, স্টিভ স্মিথ, মাইকেল নেসারদের হাত ধরে। এই তিন ক্রিকেটারেরই বয়স—৩৫!

অথচ অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর আগে ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে ‘মাইন্ড গেম’ খেলতে গিয়ে তাদের বয়সটাকেই বেছে নিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে বলা হয়েছিল ‘ড্যাডস আর্মি’। শুধু হেড, স্টার্ক, স্মিথই নয়; অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে থাকা আরও কয়েকজনের বয়স ছিল মধ্য ত্রিশের কাছাকাছি। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারির বয়স ৩৪, পুরো সিরিজেই রানের ফল্গুধারা বইয়ে দেওয়া ট্রাভিস হেডের বয়স ৩২। আবার মধ্য ত্রিশ পেরিয়ে যাওয়া কয়েকজন ক্রিকেটারও খেলেছেন মাত্রই শেষ হয়ে যাওয়া অ্যাশেজে। সিডনি টেস্টে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানা উসমান খাজার বয়স ৩৯। নাথান লায়নের বয়স ৩৬। সিরিজে একটিমাত্র টেস্ট খেলা, নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বয়সও ত্রিশ ছাড়িয়ে।

সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ‘ড্যাডস আর্মি’ বলার মধ্যে একটা যৌক্তিকতা থাকলেও কখনো কখনো ‘ড্যাড’দের অভিজ্ঞতা কাজে লাগে।

এবার অ্যাশেজের সূচনা পার্থ টেস্টে রান তুলতেই যেখানে প্রথম তিন ইনিংসে হিমশিম খেয়েছেন দু্‌ই দলেরই ব্যাটাররা, সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়েছিলেন ‘ড্যাড’ ট্রাভিস হেডই।

পার্থে জয়ের পর বউ-বাচ্চার সঙ্গে হেডের একটা ছবি দিয়ে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান শিরোনাম দিয়েছিল—‘ইংল্যান্ড’স ড্যাডি’।

পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী স্টার্ক সিরিজে সবচেয়ে বেশি ৩১ উইকেট নিয়েছেন। সিরিজ শেষে আসল কথাটাই বলেছেন তিনি, ‘দলের বয়স নিয়ে অকারণেই এত আলোচনা। এই সিরিজে অনেক সময় অভিজ্ঞতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। আমরা দেখেছি, আপনি যদি নিজের ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করেন, বা এখনো যথেষ্ট ভালো হন, তাহলে বয়স কোনো বিষয় নয়। আমাদের দল সেটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি ও কাজে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। আর তার ফলটা তো এ বছর আমরা দেখলাম।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশ, মোদির প্রত্যাশা

মাদুরোর মতো পুতিনকেও কি তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র? যা বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের ‘বড় সাফল্য’: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ভৈরব নদে পাওয়া লাশটি ‘ঘাউড়া রাজীবের’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত