
দুই মাস আগে বাংলাদেশ সফরে এসে নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে পুড়েছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ জয়ে রানা হয়েছিলেন সিরিজসেরা। এবার বাংলাদেশ সফরে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণ টেস্ট খেলতে এসেছে পাকিস্তান। ফর্মের তুঙ্গে থাকা রানাকে এক রকম হুঁশিয়ারি দিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির সঙ্গে বাউন্সার—ব্যাটারদের বেশির ভাগ সময়ই নাহিদ রানা এভাবে ঘায়েল করেন। শুধু তাই নয়, ইদানীং ইয়র্কার লেংথে বল ফেলে স্টাম্প উপড়ে ফেলছেন। ফর্মটাও রানার পক্ষে কথা বলছে। নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই সিরিজেই সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই ছয় ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে এসেছে ১৬ উইকেট। আর সম্প্রতি পিএসএলে ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর দল পেশোয়ার জালমি হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।
মিরপুরে পরশু শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্ট। আজ পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এসে শুরুতেই বলেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম।’ রানার প্রসঙ্গ আসতেই তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শাহিন। বাংলাদেশের গতিতারকাকে নিয়ে পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘রানা অনেক ভালো ফর্মে রয়েছে। বাংলাদেশ তাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাইবে। তবে আশা করি এবার খুব বেশি সুবিধা সে করতে পারবে না।’
ছন্দে থাকা রানার ওপর যেন বাড়তি চাপ না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে বলে মনে করেন সিমন্স। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ বলেন,‘আমি আপনাকে বলি নাহিদ রানার সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো দিকটি কী—তা হলো সে কোথায় আছে এবং তাকে কী করতে হবে সে সম্পর্কে তার স্বচ্ছ ধারণা। একজন খেলোয়াড় যে কি না সবেমাত্র খেলায় এসেছে, তার ড্রেসিংরুমের মানসিকতা এবং প্রস্তুতির ধরন আমার মতে অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত। তার ক্ষেত্রে আমাদের নজরদারি করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা যেন তাকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ না করিয়ে ফেলি। সে পুরোপুরি ফিট না থাকলে আমরা তাকে টেস্ট ম্যাচে খেলাব না। কেবল এই কারণে যে আমরা তাকে এবং তার গতি চাই। আমাদের পেসারদের একটি ভালো গ্রুপ রয়েছে। গতির কথা বললে বর্তমানে সে-ই এগিয়ে আছে। আমাদের তার যত্নও নিতে হবে।’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় তো দূরে থাক, কখনোই ফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। ২০১৯-২১ প্রথম চক্র তারা শেষ করেছিল পাঁচ নম্বরে থেকে। দ্বিতীয় চক্রে (২০২১-২৩) তাদের অবস্থান ছিল সপ্তম। আর সদ্য শেষ হওয়া ২০২৩-২৫ চক্রে পাকিস্তান ৯ দলের মধ্যে ৯ নম্বরে থেকে শেষ করেছিল। যেখানে ২০২৪ সালে পাকিস্তান নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশের কাছে।
২০২৫-২৭ চক্রে পাকিস্তানের অবস্থান পাঁচ নম্বরে। তাদের সফলতার হার ৫০ শতাংশ। গত বছর ঘরের মাঠে পাকিস্তান ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। অতীত ভুলে বাংলাদেশ সিরিজকে তাই পাখির চোখ করছেন শাহিদ। এবার তাঁর লক্ষ্য আরও বড়। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘দেখুন অতীত তো অতীতই। অতীত নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কীভাবে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা যায়। শুধুমাত্র একটা সিরিজ জয় নয়। দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’
মিরপুরে খেলা হলেই আলোচনায় থাকে উইকেট। বেশির ভাগ সময় স্পিনবান্ধব উইকেট বানানো হয় বলে ‘ধানখেতের উইকেটের’ তকমা দেওয়া হয় মিরপুরের উইকেটকে। যদিও এ বছর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের দুই সিরিজের উইকেটে ব্যাটে-বলের সমান লড়াই দেখা গেছে।
কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে করাচির হানিফ মোহাম্মদ হাই পারফরম্যান্স সেন্টারেও ট্রেনিং ক্যাম্প করেছিল পাকিস্তান। পিএসএলের কয়েকজন ক্রিকেটারও ছিলেন সেই অনুশীলনে। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে শাহিন বলেন,‘বাংলাদেশ আগেও স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়েছিল। আমাদের লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা। আমরা কন্ডিশন ভালো ব্যবহারের চেষ্টা করব। সাজিদ এবং নোমানের মতো ভালো স্পিনার আছে। তবে পেসারদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। ২০ উইকেট নিয়ে জেতাই আমাদের লক্ষ্য।’
বাংলাদেশে এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছে পাকিস্তান। দুই ভেন্যুতে হবে সিরিজের দুই টেস্ট। সিলেটে ১৬ মে শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

কখনো টেস্ট, কখনো ওয়ানডে—সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল এমনই। ভালো বলকে যেমন সমীহ করেছেন, বিপরীতে বাজে বল পেলে বাউন্ডারিতে পরিণত করতে বিন্দুমাত্র সংকোচ করেননি তিনি। পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে ধবলধোলাই করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন লিটন।
১৬ মিনিট আগেসুখবরের বন্যায় ভাসছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে টপকে গেল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন এবার বাংলাদেশ সুখবর পেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কাছ থেকেও। টেস্ট ইতিহাসের সেরা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
১ ঘণ্টা আগে
সিলেটে আজ পঞ্চম দিনে লাঞ্চের আগেই পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক সময় টেস্টে জিততেই পারত না বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারালেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিম-লিটন দাসরা। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে ভারতকে টপকে গেল বাংলাদেশ।
২ ঘণ্টা আগে
লং অনে তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচ ধরতেই গল্প শেষ পাকিস্তানের। তাইজুল ইসলামও সফরকারীদের ইনিংসে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার পর মুষ্টিবদ্ধ উদ্যাপন করলেন। ধারাভাষ্যকক্ষে আতহার আলী খান বলে উঠলেন, ‘এবার আরও এক বাংলাওয়াশ।’ ডাগআউট থেকে ভেসে আসছে করতালি। শান্ত-তাইজুল-মাহমুদুল হাসান জয়সহ পুরো বাংলাদেশ করল বাঁধভাঙা
২ ঘণ্টা আগে