Ajker Patrika

বড় মঞ্চে কেন ব্যর্থ বাংলাদেশের ক্রিকেট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বড় মঞ্চে কেন ব্যর্থ বাংলাদেশের ক্রিকেট
খালি হাতে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে লিটনরা। ছবি: বিওএ

আরও একটি বড় মঞ্চের পরীক্ষা, আরও একবার ব্যর্থ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এশিয়াডে সান্ত্বনার ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। এভাবে শূন্য হাতে ফেরার গল্প আর নতুন কি! কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশ বড় দলগুলোকে হারিয়ে দেয়। এমনকি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের বিশ্বকাপও একবার জেতা হয়েছে। কিন্তু এশিয়া কাপ, এশিয়ান গেমস, বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার ব্যর্থ।

১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম বড় মঞ্চে পা দেওয়া। ১৯৯৯ থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাত ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেও কোনোবার সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০০৭ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু, ৯টিতে অংশ নিয়ে কোনোটির শেষ চারেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ব্যর্থতার গল্প বেশি। ছয়টিতে অংশ নিয়ে শুধু ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছিল।

২০১০ এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের হাত ধরে সোনা এসেছিল বাংলাদেশের। যখন প্রতিবেশী দেশগুলো এশিয়াডে ক্রিকেটকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে শুরু করল, ক্রিকেটে সোনার পদকের আশা ফিকে হতে শুরু করে। এবার তো এশিয়াড ক্রিকেট থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

এশিয়া কাপে তিনবার (২০১২, ২০১৬, ২০১৮) সম্ভাবনা জাগিয়েও আরাধ্য শিরোপা জেতা হয়নি। আট বছর হয়ে গেল, বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালেও উঠতে পারেনি। অথচ নিজেদের সোনালি প্রজন্ম হারিয়ে নতুন যুগে পা দেওয়া শ্রীলঙ্কাও একবার শিরোপা (২০২২) জিতেছে। টেস্ট খেলুড়ে প্রথম ১০টি দলের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েই আইসিসির কোনো ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। বাকি সব দলের একাধিক শিরোপা ঘরে উঠেছে।

বাংলাদেশ দলে যখন তাদের ইতিহাসের সেরা পাঁচ ক্রিকেটার—মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ একসঙ্গে লম্বা সময়ে খেলেছেন, তাঁরা সবাই যখন নিজেদের সেরা সময় পার করেছেন—বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই সোনালি প্রজন্ম একাধিকবার বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের আশা জাগিয়েও পারেননি। যদিও তাঁরা ট্রফি দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য মাপতে আগ্রহী ছিলেন না। এ-ও ঠিক, দেশের ক্রিকেটকে আরেকটি ধাপে নিতে তাঁদের অবদান অপরিসীম। তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতির ‘হিরো’ বা ‘আইকন’ হিসেবে, যাঁদের দেখে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে এসেছেন, উদ্বুদ্ধ কিংবা অনুপ্রাণিত হয়েছেন দেশের হয়ে দারুণ কিছু করতে।

তবে যত অবদান থাকুক, একটি দেশের খেলা এগিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ প্রতীক ধরা হয় বড় কোনো ট্রফি। শিরোপা জিতলে যেমন পুরো জাতিকে নতুনভাবে জেগে উঠতে শক্তি জোগায়, হাজারো সমস্যার মধ্যে সবাই আনন্দ খুঁজে পায়; একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর বার্তাও দেয়। গৌরবের এমন মুহূর্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট খুব বেশি উপহার দিতে পারেনি। হ্যাঁ, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নবীন দল হিসেবে পাকিস্তানকে হারানো, ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো, ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মতো কিছু সাফল্য রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কিছু স্মরণীয় জয় আছে। কিন্তু বড় ক্যানভাসে এসব সাফল্য যে কিছুই নয়।

বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি জেতার আনন্দটা কী, কত প্রজন্ম চলে গেল, বাংলাদেশের কাছে তা এখনো অজানাই থেকে গেল। ট্রফি জিতবে কী, প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খেলতে গেলেই দর্শক-সমর্থকদের যেন ক্যালকুলেটর নিয়ে বসতে হয় সমীকরণ মেলানোর হিসাব করতে। বড় মঞ্চে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সেই কথা তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ব্যঙ্গ-রসিকতায় সান্ত্বনা নেন ক্রিকেট ফ্যানরা—‘সব সময় আমাদের টার্গেট নেক্সট ওয়ার্ল্ড কাপ, নট দিস ওয়ার্ল্ড কাপ!’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত