অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে চূড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা

কাগিসো রাবাদার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু, শেষটা করলেন অফ স্পিনার সাইমন হারমার। দুজনের তোপে কেপটাউন টেস্টের পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। তাতে ১৭৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে প্রোটিয়ারা। এই জয়ের সুবাদে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও ফিরে পেয়েছে তারা।
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের কঠিন সমীকরণ থাকলেও উইকেট দেখে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ ছিল। চতুর্থ দিন পিচে ব্যাটিং করা খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু রাবাদার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সেই আশায় দ্রুতই পানি পড়ে। দিনের প্রথম ওভারেই ম্যাট রেনশ ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা দেন তিনি। পরে নিজের প্রথম স্পেলে ট্রাভিস হেডকেও শিকার করেন এই পেসার। পাঁচ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে তুলে দেন রাবাদা।
এরপর নিউল্যান্ডসের ঘূর্ণি-সহায়ক উইকেটে ছড়ি ঘোরান হারমার। চতুর্থ ওভারে অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলিকে ফেরানোর পর লাঞ্চের ঠিক আগে মিচেল স্টার্ককেও ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন ৬০ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
হারমারের ঘূর্ণিতে বাকি ব্যাটসম্যানরাও দাঁড়াতে পারেননি। ২১.১ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২০ রানে ১০ উইকেট—টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়েছেন এই স্পিনার। টেস্টে এটি তাঁর তৃতীয় পাঁচ উইকেটের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। নবম উইকেটে দুজনের ৪৫ রানের জুটিই ইনিংসের সর্বোচ্চ। ৯০ বল খেলে ১১ রান করা কামিন্সকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন হারমার। এরপর জশ হ্যাজলউডকে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন তিনি। লায়ন ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র স্পষ্ট তাদের শীর্ষ আট ব্যাটসম্যানের পরিসংখ্যানে। ক্যামেরন গ্রিন ছাড়া আর কেউ ৩০ বলও খেলতে পারেননি। ১১০ বল মোকাবিলা করে ২৭ রান করেন গ্রিন। ইনিংসে টানা ১২ ওভার মেডেনও গেছে অস্ট্রেলিয়ার।
এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চতুর্থ দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল স্বাগতিকেরা। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়ল তারা, যা ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর এই প্রথম।









