Ajker Patrika

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২৩ বছর আগে কী ঘটেছিল, জানালেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩২
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২৩ বছর আগে কী ঘটেছিল, জানালেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক
বিসিবি প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন কিছু নয়। আইসিসি ইভেন্ট তো বটেই, টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতেও সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সৌম্য সরকার, রাকিবুল হাসান, রিপন মন্ডলদের খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের হিসেব করলে সেটা ১৮ বছর পর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক অতীতের এক ঘটনা আজ জানালেন সংবাদ সম্মেলনে।

২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশ ধবলধোলাই হয়েছিল। তবে টেস্টের হিসেব করলে যেতে হবে আরও পেছনে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন সেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলে শেন ওয়ার্ন ছাড়া যে সবাই খেলেছিলেন, সেটা আবার মনে করালেন সুমন। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সেই সফরের সঙ্গে বর্তমান সফরের একটা মিল আছে। স্টিভ ওয়াহর সেই দলে সব খেলোয়াড় খেলেছিলেন। কেউ বাকি ছিলেন না। শুধু শেন ওয়ার্ন সম্ভবত ডোপ কেস ছিল বলে খেলেননি। ম্যাকগিল খেলেছিলেন। তারা তাদের পূর্ণাঙ্গ দল নিয়েই খেলেছিল।’

কদিন আগে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়নি বলে অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল দিয়েছে। কথাটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, নাথান লায়নের মতো তারকারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই। যখন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সময় যখন এগিয়ে আসছে, তখন অতীত ইতিহাস নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের কৌতুহল বেড়েছে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যে দুই টেস্ট ম্যাচ তাদের মাঠে খেলেছে বাংলাদেশ, এরপরে আর তাসমান পাড়ের দেশটিতে খেলা হয়নি বাংলাদেশের।

২৩ বছর আগে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন দলে থাকা সুমন আজ বিসিবি প্রধান নির্বাচক। সেই দুই টেস্টেই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। ডারউইনের টেস্ট শেষ হয়েছিল তিন দিনে আর কেয়ার্নসে বাংলাদেশ হেরেছিল চার দিনেই। পুরোনো ঘটনার স্মৃতিচারণ করে আজ সংবাদ সম্মেলনে সুমন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন যাই, তখন তো আমাদের নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। দুই-একদিনে টেস্ট শেষ হবে-এমন কথাবার্তা চলছিল। আমরা কিন্তু চার দিন টেস্ট খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। সেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যেসব দল যেত, অধিকাংশ দলই তিন দিনে হেরে বসত।’

এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কী ধরনের উইকেট বানানো হবে, সেটা তো সময়ই বলে দেবে। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় এবারের টেস্ট সিরিজের সম্ভাব্য উইকেট সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন সুমন। বিসিবি প্রধান নির্বাচক আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দেখুন, আমি জানি না এখনো কী উইকেট ডারউইন এবং ম্যাকেতে আমাদের জন্য বানাচ্ছে। কেয়ার্নসে আমরা আগে যখন খেলেছি, তখনকার উইকেটটা... ডারউইনের উইকেটটা কিন্তু অনেকটা আমাদের মতোই। কারণ, ডারউইন কিন্তু আমাদের কাছাকাছি। কন্ডিশনটা কিন্তু ঠিক অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন না। এখন তারা যদি আমাদের জন্য পেস সহায়ক উইকেট বানায়, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। তবে ডারউইনের কন্ডিশন অনেকটা আমাদের মতো। মানে পার্থ, ব্রিসবেন অথবা মেলবোর্নের মতো না। এখন কেমন আমি গেলে হয়তো ভালো বুঝতে পারব।’

কামিন্স-হ্যাজলউড-লায়নদের অস্ট্রেলিয়া দলে ব্যাটিং লাইনআপে আছেন ট্রাভিস হেড-অ্যালেক্স ক্যারির মতো তারকারা। আর বাংলাদেশ পাচ্ছে না নাহিদ রানার মতো তারকা বোলারকে। নেই লিটন দাসের মতো তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটারও। পাঁচ বছর পর টেস্টে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও আছেন। সুমনের মতে অস্ট্রেলিয়া সফরে এই বাংলাদেশ দলও দারুণ কিছু করতে পারে। বিসিবি প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমার মতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা ভালো। কারণ, তাদের বোলাররাও আক্রমণাত্মক। তার মানে এটা না যে আপনি একেবারে সব বলই ছেড়ে দেবেন। তবে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করলে মনে হয় অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে সফল হওয়া সম্ভব।’

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক মানসিকতায় খেললে দলেরই ক্ষতি হবে বলে মনে করেন সুমন। বিসিবি প্রধান নির্বাচক আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আপনি যদি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় থাকেন, তারা (অস্ট্রেলিয়া) যেকোনো কিছু করে ফেলবে। তবে তারা আশা করবে না যে আপনি তাদের ওপর আক্রমণ করবেন। আমার মতে যদি ব্যাটাররা একটু ওই (আক্রমণাত্মক) মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারি আমাদের ব্যাটাররা, সেটা মনে হয় বেশি কাজে দেবে। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। তবে কোচ আছেন, ম্যানেজমেন্টে অনেকেই আছেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত