
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে গত রাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশের ক্রিকেটারের বিদায়ের পর সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা দিয়েছেন আবেগী বার্তা।
সাকিব, তামিম, মাশরাফি বিন মর্তুজা মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ—বাংলাদেশের এই পঞ্চপান্ডব মনে রাখার মতো অসংখ্য মুহূর্ত এনে দিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব সবশেষ খেলেছেন গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে মাহমুদউল্লাহ বিদায় বলার পর সাকিব নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গত রাতে লিখেছেন, ‘রিয়াদ ভাই, আপনার সঙ্গে খেলা এবং আপনার কাছ থেকে শেখা আমার জন্য সৌভাগ্যের। আপনি মাঠে এবং মাঠের বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই উদাহরণ স্থাপন করেছেন এবং আপনার রেকর্ডই কথা বলে। খেলার প্রতি আপনার আত্মনিবেদন এবং ভালোবাসার জন্য জাতি আপনার কাছে ঋণী।আল্লাহ আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে ভালো রাখুন এবং আপনার নতুন যাত্রায় আপনাকে পথ দেখান।’
৫০ টেস্ট, ২৩৯ ওয়ানডে ও ১৪১ টি-টোয়েন্টি—বাংলাদেশের জার্সিতে ৪৩০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মাহমুদউল্লাহ করেছেন ১১০৪৭ রান। গড় ৩১.৮৩। ৯ সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৫৬ ফিফটি। যার মধ্যে টেস্টে তিনি তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন পাঁচবার। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ৫০ ম্যাচে তাঁর রান ২৯১৪। মাহমুদউল্লাহর বিদায়বেলায় নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তামিম লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বর্ণিল ক্যারিয়ারের জন্য ধন্যবাদ রিয়াদ ভাই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম এক স্তম্ভ ছিলেন এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে অনেকের অনুপ্রেরণা ছিলেন। ড্রেসিংরুমে আমরা যে মুহূর্ত শেয়ার করেছি, সেগুলো আজীবন মনে রাখার মতো। ক্রিকেটে আপনার অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও আসন্ন দিনগুলোর জন্য শুভকামনা।’
২০২০ সালের পর মাশরাফি আর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেননি। তাঁর (মাশরাফি) নেতৃত্বে মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১০ ম্যাচ খেলেছেন। মাহমুদউল্লাহকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গত রাতে মাশরাফি লেখেন, ‘দারুণ এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন রিয়াদ। তোর নামের পাশে যে সংখ্যাগুলি আছে, সেসবের সীমানা ছাড়িয়ে তুই আমাদের কাছে আরও অনেক ওপরে। আমরা জানি, দলের তোকে কতটা প্রয়োজন ছিল এবং দলের সেই চাওয়ার সঙ্গে তুই কতটা মিশে গিয়েছিলি।মাঠের ভেতরে-বাইরে তোর সঙ্গে কত স্মৃতি! কত কত আনন্দ আর হতাশায় একাকার হয়েছে আমাদের সময়!।’
ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা পারফরম্যান্স বাংলাদেশ করেছে ২০১৫ সালে। মাশরাফির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে মাহমুদউল্লাহর দুই সেঞ্চুরি দারুণ অবদান রেখেছে। পরবর্তীতে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কার্ডিফে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর জোড়া সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ ওঠে সেমিফাইনালে। ৮ বছর আগের সেই টুর্নামেন্টে অধিনায়ক মাশরাফি কার্ডিফের গ্যালারিতে করেছেন বাধভাঙা উদযাপন।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চার সেঞ্চুরির চারটিই মাহমুদউল্লাহ করেছেন আইসিসি ইভেন্টে। যার দুইটি ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এবং একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। মাহমুদউল্লাহর এমন অর্জন নিয়ে মাশরাফি লিখেছেন, ‘অ্যাডিলেড আর কার্ডিফে তোর সেঞ্চুরির কথা আজ আবার মনে পড়ছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, তোর এই অর্জন কেড়ে নিতে পারবে না কেউ। তবে আশা করি, তোকে আদর্শ মেনে বৈশ্বিক আসরে তোর চার সেঞ্চুরির রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে দেশের অনেকে। বড় মঞ্চে তুই যেভাবে নিজের সেরাটা মেলে ধরেছিস, সেই পথ অনুসরণ করবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ঘরোয়া ক্রিকেটে তোর বাকি দিনগুলো উপভোগ্য হবে আর অবসর জীবন কাটবে আনন্দে, এই কামনা থাকল।’

মুশফিক ৫ মার্চ ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। গুনে গুনে এক সপ্তাহ পর মাহমুদউল্লাহ গত রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে নিয়ে মুশফিক লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর মাঠে আপনার সঙ্গে খেলা সত্যিই অনেক সম্মানের। আপনার দিকনির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ। মনে রাখার মতো অনেক স্মৃতিই আছে আমাদের। দেশের জন্য আপনি যা অর্জন করেছেন, তাতে আমি অনেক গর্বিত। মাশাআল্লাহ আপনার অবসর জীবন উপভোগ করুন রিয়াদ ভাই।’
আরও খবর পড়ুন:

তামিম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। আগে যা হতো—একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার মতো যথেষ্ট সময় থাকে। আমরা এ
৪ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে এখন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ব্যাটিং, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে ফিল সিমন্সের বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাইয়ের এমন সম্ভাবনা যখন বাংলাদেশের সামনে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌশল নিয়ে কৌতূহল জেগেছে অনেকের। তবে সিমন্স তা খোলাসা করেননি।
৫ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পরও প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের। বরং তাঁর দাবি, বাংলাদেশ যে ভালো দল, সেটি আগেই তাঁদের জানা ছিল। প্রথম দিনের পরই ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে সেটিও বুঝে গিয়েছিলেন তাঁরা।
৬ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরা। এবার তাদের সামনে ইতিহাস সমৃদ্ধ করার হাতছানি। ম্যাকেতে পরশু শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টটা নিয়েই এখন ভাবনা প্রধান কোচ ফিল সিমন্স
৬ ঘণ্টা আগে