Ajker Patrika

ভারতকে ভয় ধরিয়ে দিয়েও ফাইনালে ওঠা হলো না ইংল্যান্ডের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০০: ৫৩
ভারতকে ভয় ধরিয়ে দিয়েও ফাইনালে ওঠা হলো না ইংল্যান্ডের
দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেও ইংল্যান্ডকে জেতাতে পারলেন না জ্যাকব বেথেল। ছবি: এএফপি

জিততে হলে রেকর্ড গড়েই জিততে হতো ইংল্যান্ডের। এ ক্ষেত্রে ইংলিশদের প্রেরণা ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ই। ২০১৬ সালে এখানেই দক্ষিণ আফ্রিকার ২৩০ রান চেজ করে জিতেছিলেন ইংলিশরা। চেনা সেই ভেন্যুতেই এবার ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারতকে ভয় ধরিয়েও দিয়েছিলেন জ্যাকব বেথেল, উইল জ্যাকসরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। বেথেলের সেঞ্চুরি বৃথা করে ৭ রানে জিতে ফাইনালে উঠে গেছে ভারত। আগামী রোববারের ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৪৫ রান। হাতে ছিল ৫ উইকেট। কিন্তু ১৮তম ওভারে এসে জসপ্রীত বুমরা দিলেন মাত্র ৬ রান। তাতে যে চাপ বাড়ল ব্যাটারদের ওপর, সেটি সমাল দিতেই পরের ওভারে স্যাম কারান (১৮) আউট। আর শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে গেলেন ৪৮ বলে ১০৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা বেথেল। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে শেষ হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে এসে যেমন শুরুটা হওয়া দরকার, তেমন হয়নি ইংল্যান্ডের। প্রথম ওভারে ১৩ রান তুললেও দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ৩ বলে ৫ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার শিকার হয়ে ফিরে যান ফিল সল্ট। শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির আগেই আউট হয়ে যান হ্যারি ব্রুক। ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই এই ব্রুককেই ভারতীয় বোলারদের বেশি মাথাব্যথার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। আউট হওয়ার আগে ৬ বলে ৭ রান করেন অধিনায়ক। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি জশ বাটলারও। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই বাজে ফর্ম কাটালেও এই সেমিফাইনালের আগে ব্রুক বলেছিলেন, বড় ম্যাচের খেলোয়াড় বাটলার, সেমিফাইনালে ঠিকই জ্বলে উঠবেন। ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ১৭ বলে ২৫ রান করে উইকেটে থিতু হয়েও নিজের সহজাত খেলাটা খেলতে পারেননি। ফল বাটলারের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের স্কোর—৬৪/৩!

তখনো ইনিংসের ষষ্ঠ ওভার শেষ হয়নি। তাই তিন উইকেট হারালেও রানরেট খুব খারাপ ছিল না। এরপর দলীয় সেঞ্চুরির আগে আউট হয়ে যান টম ব্যান্টনও (১৭)। তারপর ইংল্যান্ডকে খেলায় ধরে রেখেছিলেন জ্যাকব বেথেল। ৪৫ বলে রানের তিন অঙ্ক ছোঁন বেথেল। আর আউট হওয়ার আগে ৮টি চার ও ৭ টি ছয়ে ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন তিনি। শেষ দিকে রানের সমীকরণ মেলাতে ৪ বলে জফরা আর্চার ১৯ রান করলেও শেষরক্ষা হয়নি ইংল্যান্ডের।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করে সঞ্জু স্যামসনের ৪২ বলে ৮৯, শিবম দুবের ২৫ বলে ৪৩ এবং ইশান কিষাণের ১৮ বলে ৩৯ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে ২৫৩ তোলে ভারত। ওভারপ্রতি রান তোলার গড় ১২.৬৫।

সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও রানের তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি স্যামসন। অপরাজিত থাকলেও ৯৭ রানে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। ইংলিশ বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে ২৬ বলে ফিফটিতে পা রাখেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ওপেনিংয়ে এসে অভিষেক শর্মা এ ম্যাচেও ব্যর্থ হলে স্যামসনের সঙ্গে জুটি গড়েন ইশান। দুজনের মারমুখী ব্যাটিংয়ে গড়িয়ে চলতে থাকে ভারতের রানের চাকা। ৪৫ বল খেলে দুজনে ৯৭ রান যোগ করলে নবম ওভারেই ১০০ ছোঁয় ভারত, ১৭তম ওভারে ২০০!

ভারত ২০০ ছোঁয়ার অনেক আগেই আউট হয়ে যান স্যামসন। আগের ম্যাচের মতো এদিনও সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ ভারতীয় এই ওপেনার। উইল জ্যাকসের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৪২ বলে করেন ৮৯ রান। ৮টি চার ও ৭টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসটির স্ট্রাইকরেট ২১১.৯০। তাঁর এই ইনিংসই ভিত গড়ে দেয় বড় সংগ্রহের।

দলীয় ১৬০ রানে স্যামসনের বিদায়ের আগেই ৩৯ রানের ঝোড়ো ক্যামিও খেলে আউট হয়ে যান ইশান কিষাণ। ৪টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংস। কিষাণ ও স্যামসনের গড়ের দেওয়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে পরের ব্যাটাররাও হাত খুলে খেলেছেন। তাতে পরের ব্যাটাররা কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও কম বলে বেশি রান করে রান সংগ্রহের গতিকে সচল রাখেন। শিবম দুবে ২৫ বলে করেন ৪৩ রান, হার্দিক পান্ডিয়া ১২ বলে ২৭, তিলক ভার্মা ৭ বলে ২১। আর তাতেই ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৫৩।

ভারতের স্কোরই বলছে, বল হাতে ভালো করতে পারেননি ইংলিশ বোলাররা। ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের প্রাণ ভাবা হয়েছিল যাঁকে, সেই জফরা আর্চার ২ উইকেট নিলেও রান দিয়েছেন ৬১। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে এটাই কোনো বোলারের সর্বোচ্চ রান দেওয়ার রেকর্ড। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন উইল জ্যাকস (২/৪০) ও আদিল রশিদ (২/৪১)।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত