
সিলেটে আজ চতুর্থ দিনেই পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের আশায় বুক বেঁধেছিলেন দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পড়া যেখানে পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘ট্রেন্ডে’ পরিণত হয়েছে, তাতে এমনটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। কিন্তু সব রোমাঞ্চ জমে রয়েছে পঞ্চম দিনের জন্য। বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট আর পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান।
চা পানের বিরতির আগে শান মাসুদকে ফিরিয়ে ম্যাচে একহাত দিয়ে রাখে বাংলাদেশ। তখনই স্বাগতিকদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান রিজওয়ান-সালমান। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের (রিজওয়ান-সালমান) ১৩৪ রানের জুটি ভাঙার পর তাইজুল যখন আরও এক উইকেট পেলেন, তখন চতুর্থ দিনে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সিলেটে ততক্ষণে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ফ্লাডলাইট। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ৫টা ৩০ মিনিট বাজতেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান।
৩ উইকেট হাতে নিয়ে ১২১ রান—তেমন একটা কঠিনও নয় পাকিস্তানের জন্য। সিলেট টেস্টের উইকেট এখনো ব্যাটারদের জন্য বধ্যভূমি হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে রিজওয়ান ৭৫ রানে ব্যাটিং করছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন সাজিদ খান। সাজিদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেহেতু সেঞ্চুরি আছে এবং সিলেটে প্রথম ইনিংসে ২৮ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন, বাংলাদেশের কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকারই কথা। কাল শেষ দিনে প্রথম সেশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সফরকারীদের দ্রুত গুটিয়ে দেওয়াটাই শ্রেয় হবে বাংলাদেশের জন্য।
৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ চতুর্থ দিনে শূন্য থেকেই শুরু করে পাকিস্তান। সফরকারীদের নামের পাশে কেবল ২ ওভার। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে সফরকারীরা ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হন। প্রথম দুই উইকেটেই অবদান রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যেখানে ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাহিদ রানাকে কাট করতে যান আবদুল্লাহ ফজল (২)। পয়েন্টে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মিরাজ। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে (২১) ১৬তম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাকিস্তানের হাল ধরেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। তাঁরা (মাসুদ-বাবর) খেলেছেন টেস্ট-ওয়ানডের মিশেলে। ভালো বলকে সমীহ করেছেন, বাজে বল পেলে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। তৃতীয় উইকেটে ১১৫ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন বাবর-মাসুদ।
৩৫তম ওভারের প্রথম বলে বাবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। গ্ল্যান্স করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন বাবর (৪৭)। পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বুঝতেও পারেননি কী করতে গিয়ে তিনি উইকেট হারিয়েছেন। এখান থেকেই তাইজুল-রানা পর্যায়ক্রমে উইকেট নিতে থাকেন। বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার সৌদ শাকিলকে (৬) ফেরান রানা। এবারও ক্যাচ ধরেন লিটন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা তাইজুল দিয়েছেন ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে। তাতে মাহমুদুল হাসান জয়ের কৃতিত্বই বেশি। মাসুদের ব্যাটের কোণায় লেগে যাওয়া বল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে ধরেন জয়। পাকিস্তানি অধিনায়কও বিশ্বাস করতে পারেননি কীভাবে জয় ক্যাচটা ধরেছেন। সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে ২৯ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন মাসুদ। ১১৬ বলে ৮ চারে করেন ৭১ রান। পাকিস্তান অধিনায়কের এটা টেস্টে ১৪তম ফিফটি।
মাসুদের বিদায়ে পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৪৪.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬২ রান। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পতন যেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধছিলেন কখন শেষ হবে খেলা। কিন্তু টেস্ট খেলা যে এমনই। সেই খেলায় স্বাগতিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন সালমান-রিজওয়ান। অবশেষে ৮২তম ওভারের পঞ্চম বলে সালমানকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন তাইজুল।
১০২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ রান করেন সালমান। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে ক্ষোভও ঝেড়েছেন তিনি। সালমানকে ফেরানোর পর হাসান আলীকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করেছেন তাইজুল। প্রথম স্লিপে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন শান্ত। তাইজুলের জোড়া আঘাতে ৮৩.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৩০৪ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। সফরকারীরা এরপর ১৬ বল খেলার পর দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে তাঁদের স্কোর এখন ৩১৬।

ক্রিকেট তো শুধু দক্ষতারই খেলা নয়। মনস্তাত্বিক খেলাও বটে। আচরণবিধির শিকল পায়ে থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জিততে স্লেজিংয়ে তৈরি হয় অন্য রকম উত্তেজনা। এসব কথার লড়াইয়ে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার উদাহরণ কম। বরং বাংলাদেশকে কথার চাবুকে কাবু করার উদাহরণই বেশি। তবে আজ মোহাম্মদ রিজওয়ান-লিটন দাসের মধ্যে যা হয়েছে
১১ ঘণ্টা আগে
দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পুরো বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ উন্মাদনায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়ে দেখা যায় অকল্পনীয় উত্তেজনায়। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বেজে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের দামামা। আর্জেন্টিনা-ভক্ত শাহরিয়ার নাফীসকেও স্পর্শ
১১ ঘণ্টা আগে
সরকারের হস্তক্ষেপে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) ভেঙে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা তো কাজ করছিলই। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে সেই শঙ্কা থেকে অনেকটাই মুক্ত। আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এসএলসির নবগঠিত কমিটির।
১২ ঘণ্টা আগে
বোলারের বোলিং করার সময় থামিয়ে দেওয়া মোহাম্মদ রিজওয়ানের কাছে নতুন কিছু নয়। আজ সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে রিজওয়ান এমনটি করেছেন তাইজুল ইসলামের সঙ্গে। মাঝপথে থেমে যাওয়ায় তাইজুল স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত। এরপর লিটন দাসের সঙ্গে রিজওয়ানের সেই তর্কযুদ্ধ। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রসিকতা করলেন...
১৩ ঘণ্টা আগে