Ajker Patrika

১৬ বছর পর সেই মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১৬: ৪৯
১৬ বছর পর সেই মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন
মেক্সিকোর ফুটবলারদের অনুশীলন। ছবি: এএফপি

আবারও সেই জুন মাস, আবারও বিশ্বমঞ্চে মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি লড়াই। তবে এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। ঠিক ১৬ বছর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গের সকার সিটিতে সিফিউই শাবালালার সেই চোখ ধাঁধানো গোলের পর রাফায়েল মার্কেসের সমতায় ফেরার গল্প আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতির পাতায় অমলিন।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই উদ্বোধনী ম্যাচেরই এক মধুর পুনরাবৃত্তি দেখতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। আজ রাত ১টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকায় যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম বাঁশি বাজবে, তখন শুধু একটি ম্যাচেরই শুরু হবে না, বরং উন্মোচিত হবে ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম সংস্করণের এক নতুন অধ্যায়। প্রথম দেশ হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের অনন্য কীর্তি নিয়ে ঘরের মাঠে নামছে মেক্সিকো, আর তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে আফ্রিকার ‘বাফানা বাফানা’।

ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি মেক্সিকানদের ওপর আছে প্রত্যাশার আকাশচুম্বী চাপ। ১৯৯৪ থেকে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা সাত আসরে শেষ ষোলোর গেরো পার হতে না পারা মেক্সিকোর ফুটবল সংস্কৃতিতে কোয়ার্টার ফাইনালকে বলা হয় অভিশপ্ত ‘পঞ্চম ম্যাচ’। এবার অবশ্য দল বাড়ায় সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ‘ষষ্ঠ ম্যাচ’ পর্যন্ত যেতে হবে স্বাগতিকদের। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাটাতে কোচ হাভিয়ের আগুইরে মাঠের কৌশলের চেয়েও বেশি জোর দিয়েছেন দলের মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় শক্তিতে। খেলোয়াড়দের জাতীয়তাবোধ ও শিকড়ের টান জাগ্রত করতে তিনি পুরো দলকে নিয়ে গেছেন দেশের নৃবিজ্ঞান জাদুঘরে। এই অভিনব অভিজ্ঞতা নিয়ে মেক্সিকান কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, ‘আমরা নৃবিজ্ঞান জাদুঘরে গিয়েছিলাম, এটা এককথায় চমৎকার ছিল। খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা; তাদের জানা উচিত, আমরা ঠিক কোথা থেকে এসেছি।’ মনস্তাত্ত্বিক শক্তি বাড়াতে ক্যাম্পে এসেছিলেন কিংবদন্তি বক্সার হুলিও সিজার শাভেসও, যিনি খেলোয়াড়দের অভিশপ্ত ‘পঞ্চম ম্যাচ’ ভুলে আরও বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

মাঠে মেক্সিকোর মূল ভরসা রাউল হিমেনেস, আর ১টি গোল করলেই যিনি দেশের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন। তাঁর সঙ্গে আক্রমণে জুটি বাঁধবেন সৌদি প্রো লিগে গোলবন্যা বইয়ে দেওয়া হুলিয়ান কিনোনেনস। আর গোলপোস্টের নিচে থেকে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়বেন গোলরক্ষক গিয়োর্মো ওচোয়া।

বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা এই ম্যাচে পরিষ্কার আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামলেও তাদের লড়াইয়ের মানসিকতায় কোনো খামতি নেই। যদিও সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্স বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোসকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি, তবুও বিশ্বমঞ্চের আগে পুরো দেশ যেভাবে দলের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা খেলোয়াড়দের রক্তে দোলা দিচ্ছে।

আফ্রিকার বাজারে ইতিমধ্যে উধাও হয়ে গেছে জাতীয় দলের সব জার্সি। এই অভূতপূর্ব সমর্থন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এটা আমাদের দলের জন্য বিশাল এক অনুপ্রেরণা। দেশের মানুষের জন্য আমরা মাঠে সিংহের মতো লড়াই করব।’

কৌশলগত দিক থেকে ঘরের মাঠের সুবিধা আর স্কোয়াডের গভীরতায় মেক্সিকো এগিয়ে থাকবে ঠিকই, তবে ব্রোসের কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল স্বাগতিকদের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শেষ ১১ ম্যাচের ৯টিতেই গোল পেয়েছে। তবে আসতেকার আগের দুই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কোনো দলই জয়ের মুখ দেখেনি। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে মেক্সিকোর প্রতি বাজি ধরবেন অনেকে, তবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যে এক চুলও ছাড় দেবে না।

হেড টু হেড

ম্যাচ ৪

মেক্সিকো ২

দক্ষিণ আফ্রিকা ১

ড্র ১

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত