
লেগস্টাম্পে করা নোমান আলীর ওই ডেলিভারিতে রিভার্স সুইসের চেষ্টা না করলে হয়তো টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরিটা পেয়েই যেতেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগার স্পর্শ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মনমরা হয়ে মাঠ ছেড়েছেন, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাট যেভাবে কথা বলছে, সেটা সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপকে ভুলে দিতে যথেষ্ট বৈকি।
বাংলাদেশের যে কয়জন ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ট্রলের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শান্তর নামটা সবার ওপরের দিকেই থাকবে। ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজেকে মেলে ধরতে না পারায় তো নিয়মিত তাঁকে ধুয়ে দিতেন ভক্তরা; হতো কঠোর সমালোচনা। কেউ কেউ তো কুড়িতেই শান্তর ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু সকালের সূর্য যে সব সময় সারা দিনের আভাস দেয় না, সেটাই বোঝাচ্ছেন শান্ত।

সমালোচনার খোরাক অবশ্য জুগিয়েছিলেন শান্ত নিজেই। ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাটিংয়ে নেমে হতাশ করতেন। বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও দলে তাঁর জায়গা পাওয়ার বিষয়টি ঠিক মেনে নিতে পারতেন না ক্রিকেটামোদীরা। এত ট্রল ও তুমুল সমালোচনার মাঝেও শান্তর ওপর ভরসা রেখে গেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেটার প্রতিদানই বোধ হয় দিচ্ছেন শান্ত। বাঁহাতি ব্যাটার প্রমাণ করে যাচ্ছেন—চাপের মুখেও তাঁর ওপর আস্থা রাখা ছিল সেরা সিদ্ধান্ত।
শান্ত কি নিজেকে নিয়ে হওয়া সমালোচনায় কর্ণপাত করতেন? করারই তো কথা। হয়তো এসব দেখে ভীষণ মন খারাপও করতেন। রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ বলে কথা। তাই বলে সমালোচনা বা ট্রলের মুখে হারিয়ে যাননি। বরং বাজে সময়কে শক্তিতে পরিণত করেছেন। সেই শক্তিতে বলীয়ান শান্তই এখন ব্যাট হাতে দলের অন্যতম প্রধান ভরসার নাম। কথায় নয়, নিন্দুকদের সব সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন ব্যাট হাতেই। শান্তর কাজ তো সেটাই—রান করে যাওয়া।
একটা সময় সমালোচনায় বাক্সবন্দী হয়ে থাকা শান্তর সময়টা কেমন যাচ্ছে, সেটা জানার জন্য পরিসংখ্যানে চোখ রাখা যাক। টেস্টে সবশেষ ২১ ইনিংসে করেছেন ৯৮৫ রান। এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন মাত্র পাঁচবার; সেঞ্চুরি চারটি। টেস্টে ২০২৫ সালটা তো আরও দারুণ গেছে শান্তর। ৬ ম্যাচের ১০ ইনিংসে করেন ৫৩২ রান; যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ। যেন নিন্দুকের মুখে করা চপেটাঘাত।
নতুন বছরেও শান্তর শুরুটা হয়েছে মনে রাখার মতো। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১০১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। কিন্তু নোমানের বলে রিভার্স সুইস করতে গিয়ে সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়েছেন। তাতে দারুণ এক রেকর্ড হাতছাড়া হয়েছে শান্তর। ইতিহাসের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে তিন টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া হয়নি তাঁর। এই আক্ষেপকে পেছনে ফেলে এমন উড়ন্ত শুরু শান্তকে তৃপ্তিই দেবে বেশি। টেস্টে গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেশি রান করবেন শান্ত, এমন আশা করা এখন সময়ের দাবি।
টেস্টে শান্তর সবচেয়ে বড় গুণ হলো, ফিফটি হলেই সেটাকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া। ৫ ফিফটির বিপরীতে তাঁর আটটি সেঞ্চুরি সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে। ছন্দ ধরে রাখলে খুব শিগগির এই সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক বনে যাবেন। সমান ১৩টি করে সেঞ্চুরি করে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। মুকুটটা বোধ হয় আর বেশি দিন নিজেদের কাছে রাখতে পারছেন না তাঁরা।
ওয়ানডেতেও ছন্দে আছেন শান্ত। এই বছর এখন পর্যন্ত খেলা ৬ ওয়ানডেতে তাঁর সংগ্রহ ২০৯ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা করেছিলেন ডাক মেরে। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে অন্য দুই ম্যাচে মুনশিয়ানা দেখান। পরের দুই ম্যাচে খেলেন ৫০* ও ১০৫ রানের ইনিংস। ১৫৫ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক তিনি। এখানেও যেন শান্তর জয়গান।
এমন ফর্মে থাকা শান্তকে নিয়ে নিন্দুকের ট্রল বা সমালোচনা এত দিনে থেমেছে নিশ্চয়। একটা সময় যাঁরা বিষোদগার করতেন, তাঁদের মুখেই এখন এই ব্যাটারের প্রশংসাবাক্য ঝরার কথা। চারদিকে এমন বাহবা শুনে শান্ত কি থেমে যাবেন? আত্মতৃপ্তি কি তাঁকে পেছনে নিয়ে যাবে? বর্তমান সময়ে এই আলোচনা খোদ নিন্দুকের কাছেও ভালো লাগবে না। আপনি বরং নিজের কাজটা করে যান শান্ত। আপনার ব্যাট এভাবেই কথা বলুক।

ভারত-পাকিস্তান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন অতীত। রাজনৈতিক বৈরিতায় দুই দলের দেখা হয় শুধু আইসিসি ইভেন্টে। মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখা যায় না লড়াই। টেস্ট তো সুদূর অতীত। এবার ধুলো জমে যাওয়া স্মৃতির পাতায় ফিরিয়ে নিয়ে গেল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হকরা পেছনে ফেলে দিলেন ভারতকে।
২৩ মিনিট আগে
বাংলাদেশ দল পঞ্চম দিনে ঝুঁকি নেবে না—সালমান আলী আঘা গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বলেছিলেন। কিন্তু সেই কথাকে ভুল প্রমাণ করল বাংলাদেশ। প্রথম তিন-চার দিনে যে গতিতে রান হয়েছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে আজ পঞ্চম দিনে রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।
২ ঘণ্টা আগে
বোলিংয়ের সময় নাহিদকে খুব একটা পরামর্শ দেওয়া লাগেনি শান্তর, ‘আগে হয়তো একটু বেশি প্রয়োজন হতো এখন ধীরে ধীরে শিখছে, ধীরে ধীরে করছে। কারণ নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া থেকে বল করা গুরুত্বপূর্ণ। যেটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে এবং সে নিজে থেকে শিখবে।’
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে ভারতীয় দলের জন্য নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান সাবেক এই ক্রিকেটার।
৪ ঘণ্টা আগে