Ajker Patrika

জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, শান্ত-মুশফিকের আক্ষেপ

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৪১
জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, শান্ত-মুশফিকের আক্ষেপ
চতুর্থ উইকেটে ১৫৯ রানের জুটি গড়েছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে দুজনেই সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

কাভার ড্রাইভ করার লক্ষ্যেই সামনের পা এগিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু আফগানিস্তানের লেগস্পিনার কায়েস আহমেদের ভেতরে ঢোকা বল শান্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেঙে যায় স্টাম্প। যখন আউট হয়েছেন, তাঁর চোখে-মুখে দেখা গেছে হতাশা। এমনকি ডাগআউটেও বাংলাদেশ অধিনায়কের হতাশার চেহারাই ফুটে উঠেছে।

আর মাত্র ১৮ রান করলেই শান্ত পেয়ে যেতেন দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। হাতছোঁয়া দূরত্বে বাংলাদেশ অধিনায়ক যেমন সেঞ্চুরি ফেলে এসেছেন, মুশফিকুর রহিমও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে হতাশ করেছেন। তিনি আউট হয়েছেন ৮১ রানে। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সেঞ্চুরি করতে না পারলেও ম্যাচের লাগাম বাংলাদেশের হাতেই। ৩২৯ রানের লিড নিয়েই শান্তর দল শেষ করল তৃতীয় দিনের খেলা। হাতে এখনো তাদের ৪ উইকেট।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর ১ ঘণ্টার মথ্যেই আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টেনে দেয় বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ৬১ বলের মধ্যেই হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী আফগানিস্তানের শেষ ৬ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন হাসান। তাঁর আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী।

হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পর হাসান টেস্টে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ১৭ টেস্টে ৫০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম উইকেটের ফিফটি করার রেকর্ডটা তাঁরই। পরবর্তীতে মোহাম্মদ সেলিম সাফিকে ফিরিয়ে ইবাদত হোসেন চৌধুরী আফগানিস্তানের ইনিংস সমাপ্ত করেন। শেষ উইকেট নেওয়ার পর বাচ্চা কোলে দুলানোর মতো ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। ২৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় ২৪০ রানে। অধিনায়ক রহমত শাহ ২১৬ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হাসান নিয়েছেন ৫ উইকেট। ইবাদত পেয়েছেন ৪ উইকেট। অপর উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ লাঞ্চ বিরতির আগেই হারায় ২ উইকেট। যেখানে ১১তম ওভারের চতুর্থ বলে মুমিনুল হককে (৭) বিদায় করেন ইয়ামিন আহমাদজাই। তখনই শেষ প্রথম সেশনের খেলা। ১০.৪ ওভারে ২ উইকেটে বাংলাদেশের স্কোর ৪৪ রান। দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরুর পর দ্রুত আরেক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৫তম ওভারের শেষ বলে আহমাদজাইয়ের অফস্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে স্লিপে শাহিদুল্লাহ কামালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ হাসান তামিম।

ওপেনিংয়ে নামা তামিম ৩৮ বলে ৬ চারে করেন ৩১ রান। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ১৩ রান। তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৭ রান। তিন টপ অর্ডারকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৫৩ রান।

শান্তও কয়েক দফা আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছেন। যেখানে ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ সেলিম শাফিকে পুল করতে যান শান্ত। উইকেটরক্ষক ইকরাম আলী খিল আবেদন করলে আম্পায়ার সাড়া দেননি। আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ রিভিউ নিলে দেখা যায় বল শান্তর গ্লাভস বা ব্যাট কোনো কিছুই স্পর্শ করেনি। তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক কেবল ২ রান করেছেন।

ব্যক্তিগত ৫ রানের সময় আরেকবার জীবন পান শান্ত। আহমাদজাইয়ের বলে শান্ত খোঁচা দিলে ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি উইকেটরক্ষক ইকরাম আলী খিল। স্লিপে থাকা ফিল্ডারও নাগাল পাননি। একবার তো আফগানিস্তানের আবেদনে আম্পায়ার শান্তকে আউট ঘোষণা করেন। ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমান আকবরের বলে এলবিডব্লুর শিকার হওয়ার পর শান্ত রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। বাংলাদেশ অধিনায়কের রান তখন ১১।

শান্ত-মুশফিক এরপর সাবলীলভাবে খেলতে থাকেন। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা গড়েন ১৫৯ রানের জুটি। ১৫তম টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে যখন ১৯ রান দরকার, তখন জিয়াউর রহমানকে স্কুপ করতে যান মুশফিক। ব্যাট-প্যাডে লেগে বল চলে যায় প্রথম স্লিপে শাহিদুল্লাহ কামালের হাতে। ১৪৮ বলে ৯ চারে মুশফিক করেন ৮১ রান।

মুশফিকের বিদায়ে মুহূর্তেই ৩ উইকেটে ২১২ রান থেকে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ৭২তম ওভারের পঞ্চম বলে হাসানকে এলবিডব্লিউর করেন জিয়া। রিভিউ নিয়েও হাসান বাঁচতে পারেননি। মিরাজ প্রথম বল খেলে ডট দিয়েছেন। আগামীকাল চতুর্থ দিনে ৫ রান করা লিটনের সঙ্গে শূন্য থেকে শুরু করবেন মিরাজ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত