
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সৌরজগতের অন্যতম প্রতিকূল গ্রহ শুক্রে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তবে সেই প্রাণের উৎপত্তি শুক্রে হয়নি, বরং পৃথিবী থেকেই সেখানে প্রাণ পৌঁছে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে—এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের বীজ বা জীবাণু কি মহাকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে? ‘প্যানস্পারমিয়া’ নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো গ্রহে প্রাণের মৌলিক উপাদান তৈরি হলে বৃহৎ উল্কাপাত বা মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সেই গ্রহের পৃষ্ঠের কিছু অংশ মহাকাশে নিক্ষিপ্ত হতে পারে। পরে সেই উপাদান অন্য গ্রহে পৌঁছে সেখানে প্রাণের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৬ সালের লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স কনফারেন্সে (এলপিএসসি) উপস্থাপিত এক নতুন গবেষণায় শুক্র গ্রহে পৃথিবীর অণুজীব পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি (জেএইচইউএপিএল) এবং স্যান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজের গবেষকেরা।
তাঁরা ২০২১ সালে তৈরি ‘ভেনাস লাইফ ইকুয়েশন’ (ভিএলই) ব্যবহার করে শুক্রের বায়ুমণ্ডলে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করেন। গবেষণার ফলাফল বলছে, পৃথিবী থেকে আগত জৈব উপাদানের সহায়তায় শুক্রের মেঘ স্তরে প্রতি শতকে অন্তত কয়েক দিন অণুজীব টিকে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
গবেষকেরা প্রথমে পরীক্ষা করেন, জৈব পদার্থ মহাকাশ ভ্রমণ সহ্য করতে পারে কি না। আগের বিভিন্ন কম্পিউটার সিমুলেশন ও পৃথিবীতে পাওয়া উল্কাপিণ্ডের বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, জৈব উপাদান আন্তঃগ্রহ মহাকাশে টিকে থাকতে সক্ষম।
শুক্রের পৃষ্ঠ অত্যন্ত উষ্ণ ও প্রতিকূল হলেও এর মেঘ স্তরের কিছু অংশে তুলনামূলকভাবে সহনীয় তাপমাত্রা ও চাপ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব অঞ্চলে অণুজীবের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী থেকে শত শত বিলিয়ন জীবকোষ শুক্রে পৌঁছেছে এবং এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিত থাকার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। মডেলের সর্বোত্তম অনুমান বলছে, প্রতি বছর প্রায় ১০০টি জীবকোষ শুক্রের মেঘ স্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং গত এক বিলিয়ন বছরে পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন জীবকোষ সেখানে পৌঁছেছে।
ফলে ভবিষ্যতে যদি কোনো মহাকাশ অভিযান শুক্রে প্রাণের সন্ধান পায়, তবে সেটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ভিনগ্রহের প্রাণ নাও হতে পারে; বরং পৃথিবী থেকেই বহু আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অণুজীবের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হতে পারে।

আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংকের ১৯৪০-এর দশকে লেখা দুটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করেছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিংগার নেচার’ (Springer Nature)।
৩ দিন আগে
থোরিয়াম-২২৯ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কার্যকর নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করলেন ইউরোপ ও চীনের দুই স্বাধীন গবেষক দল। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক ঘড়িকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ডার্ক ম্যাটার অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
১৪ দিন আগে
পুরুষদের চুল পড়া বা টাক পড়া (অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া) সমস্যার চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উদ্ভিদের শিকড় অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই আবিষ্কারটি প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা ও আধুনিক বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
১৯ দিন আগে
সৌরজগৎকে সাধারণত মানব সভ্যতার অন্যতম স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো হিসেবে দেখা হয়। পৃথিবীতে যাই ঘটুক না কেন, গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট নিয়মে পরিক্রমা করে চলেছে এবং আকাশে একটি সুশৃঙ্খল বিন্যাস তৈরি করছে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, সৌরজগতের অতীত হয়তো এতটা শান্ত ও সুশৃঙ্খল ছিল না।
২৩ দিন আগে