
বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে একটি চিনিজাতীয় অণুর সন্ধান পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে—এরিথ্রুলোজ (Erythrulose) নামে পরিচিত এই চিনি রাস্পবেরি, কিউই এবং বিভিন্ন লাল রঙের ফলে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চিনি আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি বিশাল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘেও বিদ্যমান। আবিষ্কারটি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জীবনের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে।
সোমবার (১৩ জুলাই) এই বিষয়ে ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকা’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬ হাজার ৭৪৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত G+ 0.693-0. 027 নামের একটি বিশাল আণবিক মেঘে নতুন চিনির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রথম কোনো চিনিজাতীয় অণু আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে শনাক্ত হলো।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং স্পেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যারোস্পেস টেকনোলজির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির জ্যোতিরসায়নবিদ ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা বলেন, আণবিক মেঘগুলো আসলে বিশাল রাসায়নিক কারখানার মতো কাজ করে। এখানেই নতুন নক্ষত্র ও গ্রহের জন্ম হয়, পাশাপাশি জটিল রাসায়নিক যৌগও তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানান, এসব মেঘের ঘন ধূলিকণা পরমাণু ও অণুগুলোকে একত্রিত হয়ে আরও বড় ও জটিল অণু গঠনের সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে ধূলিকণা অতিবেগুনি রশ্মি ও উচ্চশক্তির বিকিরণ থেকে এসব সূক্ষ্ম অণুকে রক্ষা করে, ফলে চিনির মতো ভঙ্গুর যৌগও টিকে থাকতে পারে।
এই আবিষ্কারের জন্য গবেষকেরা স্পেনের দুটি শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ—‘ইয়েবেস ৪০ মিটার’ এবং ‘আইরাম ৩০ মিটার’ ব্যবহার করেন। এগুলো রেডিও তরঙ্গ গ্যাস ও ধূলিকণার ঘন স্তর ভেদ করে ভেতরের রাসায়নিক সংকেত সংগ্রহ করতে পারে। প্রতিটি অণু নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র রেডিও সংকেত বা ‘বারকোড’ তৈরি করে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট অণুকে শনাক্ত করেন।
তবে চিনিজাতীয় অণু শনাক্ত করা সহজ ছিল না। তরল ও আঠালো প্রকৃতির হওয়ায় পরীক্ষাগারে এর সুনির্দিষ্ট সংকেত তৈরি করা কঠিন ছিল। সম্প্রতি ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে কঠিন অবস্থায় রূপান্তর করে লেজারের সাহায্যে বাষ্পে পরিণত করার একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। এই পদ্ধতিতেই এরিথ্রুলোজের স্বাক্ষর সংকেত নির্ধারণ করা সম্ভব হয় এবং পরে মহাকাশের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
গবেষণায় আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, তিন-কার্বনবিশিষ্ট সহজ চিনি থেকে ধাপে ধাপে চার-কার্বনবিশিষ্ট এরিথ্রুলোজ তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে তিন-কার্বন চিনির খুব কম উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর পরিবর্তে গবেষকেরা মনে করছেন, দুই-কার্বনবিশিষ্ট গ্লাইকোলঅ্যালডিহাইড এবং ইথিলিন গ্লাইকোল নামের দুটি অণু একত্রিত হয়ে এরিথ্রুলোজ তৈরি করেছে।
এখন গবেষকেরা আরও জটিল চিনিজাতীয় অণুর সন্ধান করছেন এবং অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এসব অণুর স্থায়িত্ব পরীক্ষা করছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন পর্যন্ত মহাকাশে ৩০০ টিরও বেশি অণু শনাক্ত হয়েছে, যার বেশির ভাগই মানুষের জন্য বিষাক্ত। তবে ক্রমেই এমন জটিল যৌগের সন্ধান মিলছে, যেগুলো জীবনের মৌলিক উপাদান তৈরির পূর্বসূরি। ফলে নতুন এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান কেবল পৃথিবীতেই নয়, নক্ষত্র ও গ্রহের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মহাজাগতিক আণবিক মেঘগুলোতেও স্বাভাবিকভাবে তৈরি হতে পারে।

প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে খাওয়ার উপযোগী, ভ্যানিলা-স্বাদের কুকি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। জিনগতভাবে পরিবর্তিত ইস্ট বা খামির ব্যবহার করে এই কুকি তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
প্রায় দুই দশক ধরে আমরা জানি, চাঁদে কোনো না কোনো ফর্মে অর্থাৎ কোনো না কোনো রূপে পানি রয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা ঠিক জানি না, চাঁদের যেসব গর্তে সব সময় ছায়া থাকে, সেখানে কতটা ব্যবহারযোগ্য বরফ জমে আছে বা সেই বরফ কতটা গভীরে চাপা পড়ে আছে কিংবা ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে।
৭ দিন আগে
যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পলিটেকনিকো দ্য তুরিনের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেলোড (মালামাল) মহাকাশে পাঠাতে বিশ্বের প্রধান মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে ভারতের খরচ সবচেয়ে বেশি।
৭ দিন আগে
একই পুরুষ ইঁদুরের জিনগত উপাদান ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ ও স্ত্রী ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। জিন সম্পাদনা বা ‘জিন এডিটিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে পুরুষ ভ্রূণ থেকে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ অপসারণ করে এই রূপান্তর ঘটানো হয়েছে।
৯ দিন আগে