
শহরের পাখিরা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ভয় পায় এবং নারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব বজায় রাখে—সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পিপল অ্যান্ড নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানীদের যেমন চমকে দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন রহস্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষেরা কোনো পাখির যতটা কাছাকাছি যেতে পারেন, নারীদের ক্ষেত্রে পাখিরা তার চেয়ে গড়ে অন্তত এক মিটার বেশি দূরত্ব বজায় রেখে আগেই উড়ে চলে যায়।
ইউরোপের পাঁচটি দেশ—ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং চেক প্রজাতন্ত্রের একদল গবেষক যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। মানুষ ঠিক কতখানি কাছে পৌঁছালে শহরের পাখিরা নিরাপদ বোধ করে না এবং উড়ে পালিয়ে যায়, তা পরিমাপ করাই ছিল এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।
গবেষকেরা সাধারণ কাক ও কবুতর থেকে শুরু করে রবিন পাখির মতো কিছুটা দুর্লভ প্রজাতিসহ মোট ৩৭টি ভিন্ন প্রজাতির পাখির ওপর এই পরীক্ষা চালান। প্রতিটি প্রজাতির ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রতি পাখিদের সতর্কতা বা ভীতি অনেক বেশি।
গবেষণার ফলাফল যাতে কোনো ব্যক্তিগত আচরণ বা বাহ্যিক পার্থক্যের কারণে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য গবেষকেরা কঠোর বৈজ্ঞানিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে রয়েছে—
পোশাক ও উচ্চতা: পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নারী ও পুরুষদের উচ্চতা ছিল প্রায় সমান এবং তাঁদের পোশাকও ছিল একই ধরনের, যাতে লিঙ্গভিত্তিক পোশাকের কোনো প্রভাব না পড়ে।
শারীরিক বৈশিষ্ট্য: চুল বা অন্য কোনো স্পষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য ঢেকে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যাতে আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যে কোনো লিঙ্গভেদ দৃশ্যমান না থাকে।
গতি ও ভঙ্গি: উভয় পক্ষকেই একটি নির্দিষ্ট গতিতে সোজা পাখিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গবেষকদের এতসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পাখিরা নিখুঁতভাবে নারী ও পুরুষের উপস্থিতি আলাদা করতে পেরেছে এবং নারীদের দেখলেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেছে।
পাখিরা কেন নারীদের প্রতি বেশি সন্দিহান, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে গবেষকেরা দুটি সম্ভাব্য তত্ত্ব দিয়েছেন:
১. হাঁটার ভঙ্গি: নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক শারীরিক গঠন, দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি এবং হাঁটার ছন্দের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নারীদের হাঁটার এই বিশেষ ভঙ্গিটি হয়তো পাখিদের কাছে সহজাতভাবেই বেশি হুমকিস্বরূপ মনে হতে পারে।
২. শরীরের গন্ধ: দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে পাখিদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত দুর্বল। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, পাখিদের ঘ্রাণশক্তি মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। যদি এই ধারণা সত্য হয়, তবে নারীদের শরীর থেকে নিঃসৃত বিশেষ কিছু রাসায়নিক সংকেত পাখিরা দূর থেকেই টের পায় এবং নিজেদের নিরাপদ রাখতে দূরত্ব বজায় রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস’-এর ২০২২ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, প্রকৃতিতে যারা দুরবিন ও শক্তিশালী ক্যামেরা নিয়ে পাখির ছবি তোলেন বা পাখি পর্যবেক্ষণ করেন (বার্ডার), তাঁদের মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান।
গবেষণার এই ফলাফল নিয়ে পাখি পর্যবেক্ষকদের একাংশের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের অনেক অভিজ্ঞ নারী পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, দলগতভাবে পাখি দেখার সময় পাখিদের মধ্যে এমন কোনো বাড়তি ভীতি বা অস্বস্তি তাঁরা কখনো লক্ষ্য করেননি। উপরন্তু, পুরুষ পর্যবেক্ষকেরাই সাধারণত ছবি তোলার জন্য পাখিদের বেশি কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই রহস্যের জট পুরোপুরি খুলতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন। তবে আপাতত এটুকুই স্পষ্ট যে, শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে টিকে থাকার লড়াইয়ে পাখিরা মানুষের লিঙ্গভেদের মতো অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলোও নিজেদের মতো করে বুঝতে শিখছে।

মহাকাশে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসা নাসার গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইফট’ মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে রক্ষায় এক নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) নাসার অর্থায়নে তৈরি ‘লিংক’ নামের একটি রোবোটিক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য তিনটি যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে সুইফটকে ধরে আবার নিরাপদ কক্ষপথে
২ দিন আগে
দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে—এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের বীজ বা জীবাণু কি মহাকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে? ‘প্যানস্পারমিয়া’ নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো গ্রহে প্রাণের মৌলিক উপাদান তৈরি হলে বৃহৎ উল্কাপাত বা মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সেই গ্রহের পৃষ্ঠের কিছু অংশ...
৫ দিন আগে
আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংকের ১৯৪০-এর দশকে লেখা দুটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করেছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিংগার নেচার’ (Springer Nature)।
৮ দিন আগে
থোরিয়াম-২২৯ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কার্যকর নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করলেন ইউরোপ ও চীনের দুই স্বাধীন গবেষক দল। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক ঘড়িকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ডার্ক ম্যাটার অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
১৯ দিন আগে