
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ৯ মাসের বেশি সময় পর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। আজ বুধবার ভোররাত ৩টা ৫৭ মিনিটে (আইএসটি) ফ্লোরিডার উপকূলে প্রায় ১৭ ঘণ্টার যাত্রা শেষে স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানটি তাঁদের নিয়ে অবতরণ করে। এই যাত্রায় মহাকাশযানে আরও ছিলেন আমেরিকান নভোচারী নিক হেগ ও রাশিয়ান কসমোনট আলেকসান্দ্র গর্বুনভ।
গত বছরের জুন মাসে সুনিতা ও বুচ আইএসএসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। এটি ছিল বোয়িং স্টারলাইনারের প্রথম ক্রু ফ্লাইটের পরীক্ষামূলক যাত্রা। তবে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানের গোলযোগ এবং বিভিন্ন জটিলতার কারণে তাঁদের আট দিনের জায়গায় ৯ মাসের বেশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে আটকে থাকতে হয়। পরে সেটি খালি অবস্থায় পৃথিবীতে ফিরে আসে। এই দীর্ঘদিন মহাকাশে কাটানো কোনো পরিকল্পিত বিষয় ছিল না। ফলে পুরো সময় মহাকাশচারীদের ভয়াবহ ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
মহাকাশে আটকে থাকা এ দুই মহাকাশচারীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নাসা ও স্পেসএক্স আইএসএসে একটি ক্রু-১০ মিশন চালু করে। ১৪ মার্চ স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযানটি ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি মহাকাশকেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে নতুন চার নভোচারী নিয়ে। তাঁরা হলেন নাসার নিকোল আয়ার্স ও আন্নে ম্যাকক্লেইন, রাশিয়ার রসকসমসের কিরিল পেস্কোভ এবং জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) তাকুয়া অনিশি। ১৬ মার্চ তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে পৌঁছান। নভোচারী অদলবদলের মাধ্যমে ক্রু-১০-এর ওই ফ্লাইটে করে ১৮ মার্চ ফেরার যাত্রা শুরু করেন সুনিতা ও বুচ।
এই পুরো সময় তাঁদের যাত্রার ওপর নজর রাখছিলেন নাসা ও স্পেসএক্সের বিজ্ঞানীরা। মহাকাশযানটি যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছিল, তখন বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের কারণে যানের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়। কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নও হয়ে যায়, তবে পরে পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হয়।
ফ্লোরিডার উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরের কাছে অবতরণের সময়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক কিলোমিটার ওপরে মহাকাশযানের প্যারাস্যুট খোলে এবং এটি ধীরে ধীরে নিরাপদে সমুদ্রে নেমে আসে।
তাঁদের আনার জন্য পৌঁছে গিয়েছিল মার্কিন নৌ সেনাবাহিনী।
এরপরে মডিউলসহ সুনিতাদের জাহাজের কাছে নিয়ে আসে নৌবাহিনী। মহাকাশচারীদের হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে তোলা হয় জাহাজে। সেখানে ড্রাগন ক্যাপসুলের দরজা খোলার পরে প্রথমে বেরিয়ে আসেন নিক হগ। তার প্রায় ৫ মিনিট পরে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে বেরিয়ে আসেন সুনিতা উইলিয়ামস।
সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর ২৮৬ দিন ধরে মহাকাশে থেকে পৃথিবীকে ৪ হাজার ৫৭৭ বার প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মোট ১ হাজার ৯৫২ লাখ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন।
মহাকাশে ফিরে আসার পরেও এখনই নিজেদের পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য রাখা হবে একটি বিশেষ জায়গায়, যেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। শুধু এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তাঁরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাবেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি ও এপি নিউজ

পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছেন এবং মহাবিশ্বে আমরা সত্যিই একা নই, এমন কোনো ইঙ্গিতের জন্য সংকেতও শুনে চলেছেন। এবার হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের...
৫ দিন আগে
পৃথিবীর আলো, উষ্ণতা ও প্রাণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস এই সূর্যকে আমাদের কাছে চিরস্থায়ী মনে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একসময় সূর্যও তার বর্তমান রূপ হারিয়ে ফেলবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ঘটতে এখনো বিপুল সময় বাকি।
৯ দিন আগে
আফ্রিকা মহাদেশ ধারণার চেয়েও দ্রুত দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদেরা। মহাদেশটির একটি সক্রিয় রিফট বা ভূত্বক বিচ্ছিন্ন হওয়া অঞ্চল ইতিমধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমা’ বা ক্রিটিক্যাল থ্রেশহোল্ডে পৌঁছে গেছে। ফলে আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এই অঞ্চল ভেঙে গিয়ে সেখানে...
৯ দিন আগে
মানব মস্তিষ্ক বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো, মস্তিষ্কের ভেতরেই একজন ‘মানুষের’ টিকে থাকা। কারণ মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায় তার মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ইচ্ছেমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন না। ফলে মস্তিষ্ক কীভাবে বিকশিত হয়, কীভাবে এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়...
১০ দিন আগে