
আফ্রিকা মহাদেশ ধারণার চেয়েও দ্রুত দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদেরা। মহাদেশটির একটি সক্রিয় রিফট বা ভূত্বক বিচ্ছিন্ন হওয়া অঞ্চল ইতিমধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমা’ বা ক্রিটিক্যাল থ্রেশহোল্ডে পৌঁছে গেছে। ফলে আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এই অঞ্চল ভেঙে গিয়ে সেখানে একটি নতুন মহাসাগর তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, তবে এখানে ‘শিগগির’ বলতে মানুষের সময়ের হিসাবে শিগগির বোঝায় না। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আরও কয়েক মিলিয়ন বছর লাগবে। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক সময়ের হিসাবে কয়েক মিলিয়ন বছর খুবই অল্প সময়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান রোয়ান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই অঞ্চলে রিফটিং প্রক্রিয়া যতটা এগিয়েছে এবং ভূত্বক যতটা পাতলা হয়েছে, আগে কেউ তা বুঝতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘পূর্ব আফ্রিকায় আগে যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গেছে রিফটিং প্রক্রিয়ায়।’
এই আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো এর সঙ্গে মানুষের ইতিহাসের সম্ভাব্য সম্পর্ক। কেনিয়ার তুরকানা রিফট জোনে প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর বা আদি মানবের বিপুলসংখ্যক জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এ কারণে অঞ্চলটিকে মানব বিবর্তনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে নতুন গবেষণার ফল বলছে, আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য এই অঞ্চলটি আফ্রিকার অন্য জায়গার তুলনায় সত্যিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। বরং এখানকার ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলো জীবাশ্ম সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল বলেই এই অঞ্চলে এত বেশি জীবাশ্ম পাওয়া যেতে পারে।
বর্তমানে পৃথিবীর মহাদেশগুলোর অবস্থান আমাদের কাছে স্থায়ী বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে মহাদেশগুলো সব সময়ই নড়াচড়া করছে, যদিও সেই গতি অত্যন্ত ধীর। ২০০ মিলিয়নেরও বেশি বছর আগে পৃথিবীর সব মহাদেশ একসঙ্গে যুক্ত ছিল একটি বিশাল অতিমহাদেশে। দূর ভবিষ্যতে মহাদেশগুলো আবারও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একসঙ্গে মিলিত হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন।
দুটি টেকটোনিক প্লেট যেখানে পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, সেখানে পাহাড় বা পর্বত তৈরি হয়। আর দুটি প্লেট যখন একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তখন সেখানে নতুন মহাসাগর তৈরি হতে পারে। পূর্ব আফ্রিকার রিফট সিস্টেম এ ধরনের দ্বিতীয় প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বর্তমানে আফ্রিকান প্লেট দুটি ভাগে বিভক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর পশ্চিম দিকে রয়েছে বিশাল নুবিয়ান প্লেট, যার মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের বেশির ভাগ অংশ রয়েছে। আর পূর্ব দিকে রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট সোমালি প্লেট, যার মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার উপকূলের বড় একটি অংশ এবং মাদাগাস্কার দ্বীপ রয়েছে।
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই বিশাল রিফট সিস্টেমের একটি নির্দিষ্ট অংশের দিকে নজর দিয়েছেন। এটি হলো তুরকানা রিফট, যা কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্য দিয়ে কয়েকশ কিলোমিটার বিস্তৃত।
গবেষকেরা এই অঞ্চলে আগে সংগ্রহ করা ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্য বা সিসমিক পরিমাপ বিশ্লেষণ করেন। এরপর তারা ওই অঞ্চলের ভূত্বক কতটা পুরু, তা হিসাব করেন। গবেষণায় দেখা যায়, ভূত্বকটি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি পাতলা। রিফটের কেন্দ্রীয় অংশে ভূত্বকের পুরুত্ব মাত্র প্রায় ১৩ কিলোমিটার বা ৮ মাইল। তুলনা হিসেবে বলা যায়, রিফট অঞ্চলটির প্রান্তে ভূত্বকের পুরুত্ব ৩৫ কিলোমিটারেরও বেশি।
কোনো রিফট অঞ্চলে ভূত্বকের পুরুত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটারের নিচে নেমে গেলে সেটি ‘নেকিং’ নামে পরিচিত একটি পর্যায়ে প্রবেশ করে। এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর মহাদেশীয় ভূত্বক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অনিবার্য হয়ে পড়ে। ক্রিশ্চিয়ান রোয়ান বলেন, ‘ভূত্বক যত পাতলা হয়, এটি তত দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এর ফলে রিফটিং প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’
আরও কয়েক মিলিয়ন বছর পর তুরকানা রিফট নেকিং পর্যায় সম্পূর্ণ করে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে। এই ধাপের নাম ‘ওশানাইজেশন’ বা মহাসাগর সৃষ্টি হওয়ার পর্যায়। নাম থেকেই বোঝা যায়, এই পর্যায়েই একটি নতুন মহাসাগর তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভূত্বক এতটাই টান পড়ে পাতলা হয়ে যাবে যে, ভূগর্ভ থেকে ম্যাগমা ওপরে উঠে অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। পরে সেই ম্যাগমা জমে ঠান্ডা হয়ে একটি অববাহিকা তৈরি করবে। এটিই ধীরে ধীরে নতুন সমুদ্রতল বা সিফ্লোরে পরিণত হবে। এরপর ভারত মহাসাগর থেকে পানি ওই অঞ্চলে ঢুকে পড়তে শুরু করবে।
এই প্রক্রিয়া উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত আফার ডিপ্রেশন বা আফার নিম্নভূমিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আগ্নেয়গিরির কর্মকাণ্ডের পর তুরকানা রিফট প্রায় ৪ মিলিয়ন বছর আগে বর্তমান নেকিং পর্যায়ে প্রবেশ করে।
মজার বিষয় হলো, এই সময়কালটি ওই অঞ্চলে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন আদি মানবের জীবাশ্ম এবং অন্যান্য প্রমাণের বয়সের সঙ্গে মিলে যায়। গবেষক দলের মতে, এই দুই ঘটনার সময়ের মিল সম্ভবত কাকতালীয় নয়। রিফট যখন নেকিং পর্যায়ে প্রবেশ করতে শুরু করে, তখন সেখানে পলি বা সেডিমেন্ট জমার হারও বেড়ে যায়। এর ফলে ওই সময়ে সেখানে বসবাসকারী প্রাণী ও জীবনের একটি বিস্তারিত রেকর্ড সংরক্ষিত হওয়ার জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত উপযুক্ত হয়ে ওঠে।
গবেষকেরা তাঁদের গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘এই টেকটোনিক পরিবর্তনের সময়কাল এবং পুরু, ধারাবাহিক জীবাশ্মবাহী স্তর জমা হওয়ার শুরুর সময়ের মধ্যে যে মিল রয়েছে, তা থেকে বোঝা যায়, নেকিং পর্যায় জীবাশ্ম সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছিল।’
তাঁরা আরও লিখেছেন, ‘আমরা প্রস্তাব করছি যে, এই টেকটোনিক পরিবর্তনগুলো তুরকানা রিফট জোনের অসাধারণ প্রত্ন-নৃতাত্ত্বিক রেকর্ড তৈরিতে মৌলিক ভূমিকা পালন করেছে।’ গবেষকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের গবেষণায় এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং তুরকানা অঞ্চলে জীবাশ্ম সংরক্ষণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা যেতে পারে।

মানব মস্তিষ্ক বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো, মস্তিষ্কের ভেতরেই একজন ‘মানুষের’ টিকে থাকা। কারণ মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায় তার মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ইচ্ছেমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন না। ফলে মস্তিষ্ক কীভাবে বিকশিত হয়, কীভাবে এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়...
২০ ঘণ্টা আগে
আনন্দের জন্য বই পড়ার সঙ্গে ভালো মানসিক স্বাস্থ্য, বেশি সহমর্মিতা এবং ডিমেনশিয়ায় বা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘দ্য কুইন্স রিডিং রুমের’ সঙ্গে যৌথভাবে আনন্দের জন্য বই পড়ার উপকারিতা নিয়ে কাজ করেছেন।
৩ দিন আগে
২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণাঞ্চলের উঁচু ভূমির ওপর দিয়ে ২৫১ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ছিল একটি অরবিটার। সেখান থেকে মঙ্গল গ্রহের একটি পাহাড়ের ছবি তোলে সেটি। ছবিটি সাধারণই হওয়ার কথা ছিল। ২০০৬ সাল থেকে নাসার মার্স রিকনেসান্স অরবিটারের হাইরাইজ (HiRISE) ক্যামেরা মঙ্গলের পৃষ্ঠের হাজার...
৫ দিন আগে
বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পের জনক শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। চিত্রশিল্পে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তবে পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে মহাকাশেও যে তাঁর নাম খোদাই করা রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা।
৫ দিন আগে