
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে অগ্রণী কিছু ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মনে করছেন, মানুষ এখন আর আগের মতো কেবল শতবর্ষ আয়ুর স্বপ্ন দেখছে না। বরং এমন এক সময় আসছে, যখন আমরা স্বাভাবিক আয়ুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময়, অর্থাৎ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারি।
এ ভাবনার পেছনে রয়েছেন খ্যাতিমান ফিউচারিস্ট রে কারজওয়াইল, ইয়ান পিয়ারসন ও অবারি ডি গ্রে। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকসের যুগান্তকারী অগ্রগতির ফলে মানুষ ‘কার্যত অমরত্ব’ লাভ করতে যাচ্ছে।
কম্পিউটারবিজ্ঞানী ও লেখক রে কারজওয়াইল বলেন, ২০২৯ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘সিঙ্গুলারিটি’ বা অনন্যতা। আর ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মেশিনের প্রকৃত একীভবন ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এই একীভবনের মধ্যে থাকবে—ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস, ক্লাউডভিত্তিক কনশাসনেস এবং ন্যানোবট, যা শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিরসনে কাজ করবে।
এভাবে মানুষের ‘মন’ অন্তত অমর হয়ে উঠবে, এমনকি একটি সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তা তৈরি হবে, যা আজকের তুলনায় লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে।
তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—এই মৃত্যু প্রতিরোধ কি প্রযুক্তিপন্থী আশাবাদের দিবাস্বপ্ন!
২০২৩ সালে ইন্টারনেট ব্রাউজার নেটস্কেপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ধনকুবের বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেন বলেন, ‘আমাদের সভ্যতা প্রযুক্তির ওপর গড়ে উঠেছে, প্রযুক্তিই আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের গৌরব।’
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সামাজিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা দুই অধ্যাপক জানান, প্রযুক্তি সমাজের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না।
২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তাঁরা বলেন, দারিদ্র্যের মতো জটিল সমস্যার সমাধান বহুস্তরীয় হতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি কেবল একটি অংশ। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিকে সব সমস্যার একমাত্র সমাধান মনে করার রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এতে ক্ষমতাবানদের স্বার্থই প্রাধান্য পায়, সাধারণ মানুষের নয়।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ইয়ান পিয়ারসনও মনে করেন, কেবল ধনীরা প্রথমে এই ‘অমরত্ব’ অর্জন করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কিছু সৌভাগ্যবান ব্যক্তি জিন প্রকৌশল, রোবোটিকস ও ডিজিটাল চেতনাকে ভার্চুয়াল জগতে বা কৃত্রিম শরীরে আপলোড করার মাধ্যমে হাজার বছরের আয়ু লাভ করতে পারবেন।
তাঁর আশা, এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে মধ্যবিত্তদের কাছেও পৌঁছাবে। পাশাপাশি তিনি ক্যানসার, হৃদ্রোগসহ বহু প্রাণঘাতী রোগের উন্নত চিকিৎসা এবং কোষের ক্ষয় মেরামতের মাধ্যমে বার্ধক্য রোধেরও আশা দেখান।
বায়োমেডিকেল জেরোনটোলজিস্ট অবারি ডি গ্রে বার্ধক্যকে একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে দেখেন এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ধক্য প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করেন।
তবে এত বছর বাঁচার পর মানুষের মধ্যে জীবন নিয়ে তাড়া বা আগ্রহ কমে যাবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বিরক্ত। তিনি বলেন, যারা এখন ১৫ বা ২০ বছর বয়সী তরুণ, তারা তো ৫০ বছর পর মরতেই হবে এমন ভেবে জীবন চালায় না।
অতএব, দীর্ঘায়ু মানুষকে নিষ্ক্রিয় বা অনুৎসাহী করে তুলবে—এ ধারণা সঠিক নয় বলেই তাঁর মত।
তথ্যসূত্র: পপুলার মেকানিকস

পৃথিবীর আলো, উষ্ণতা ও প্রাণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস এই সূর্যকে আমাদের কাছে চিরস্থায়ী মনে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একসময় সূর্যও তার বর্তমান রূপ হারিয়ে ফেলবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ঘটতে এখনো বিপুল সময় বাকি।
২ দিন আগে
আফ্রিকা মহাদেশ ধারণার চেয়েও দ্রুত দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদেরা। মহাদেশটির একটি সক্রিয় রিফট বা ভূত্বক বিচ্ছিন্ন হওয়া অঞ্চল ইতিমধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমা’ বা ক্রিটিক্যাল থ্রেশহোল্ডে পৌঁছে গেছে। ফলে আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এই অঞ্চল ভেঙে গিয়ে সেখানে...
৩ দিন আগে
মানব মস্তিষ্ক বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো, মস্তিষ্কের ভেতরেই একজন ‘মানুষের’ টিকে থাকা। কারণ মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায় তার মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ইচ্ছেমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন না। ফলে মস্তিষ্ক কীভাবে বিকশিত হয়, কীভাবে এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়...
৪ দিন আগে
আনন্দের জন্য বই পড়ার সঙ্গে ভালো মানসিক স্বাস্থ্য, বেশি সহমর্মিতা এবং ডিমেনশিয়ায় বা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘দ্য কুইন্স রিডিং রুমের’ সঙ্গে যৌথভাবে আনন্দের জন্য বই পড়ার উপকারিতা নিয়ে কাজ করেছেন।
৬ দিন আগে