Ajker Patrika

ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত হবে অপরিণামদর্শী: বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত হবে অপরিণামদর্শী: বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুনরায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ।

আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে বসতভিটা, তিন ফসলি উর্বর জমি, পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস হবে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। কোনো যুক্তিতেই এ ধরনের কয়লা উত্তোলনকে লাভজনক বা জনস্বার্থসম্মত বলা যায় না।

বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের এই নেতা বলেন, এসব আশঙ্কার কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি ও এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীর স্থানীয় জনগণ রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান গড়ে তুলেছিলেন। ওই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি সরকার কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ থেকে সরে আসে এবং আন্দোলনরত জনগণের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি’ করে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ১৯৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি কোম্পানি ফুলবাড়ীতে কয়লার সন্ধান পায়। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে কয়লার স্তরের গভীরতা, ভূ-প্রকৃতির গঠন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ এবং ঘনবসতির বিষয়গুলো বিবেচনা করে কোম্পানিটি ওই এলাকায় কোনো পদ্ধতিতেই কয়লা উত্তোলনকে যুক্তিসংগত ও লাভজনক মনে করেনি। পরে তারা প্রকল্প থেকে সরে যায়।

ইকবাল কবির জাহিদ অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানিকে মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটির বিনিময়ে ফুলবাড়ী কয়লাখনি ইজারা দেয়। তখন এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আমিন, সালেকিন ও তরিকুল নিহত হন এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন।

জাহিদ আরও বলেন, ফুলবাড়ীর জনগণের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে সেখানকার প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা পেয়েছে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে আবারও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চিন্তা করা হবে অবাস্তব ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত।

বিবৃতিতে সরকারকে ফুলবাড়ীতে কয়লাখনি করার চিন্তা থেকে সরে এসে ভোলার গ্যাস উত্তোলনে অধিক মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান ইকবাল কবির জাহিদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত