Ajker Patrika

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

চ্যালেঞ্জের মুখে বড় নেতারাও

  • সবার নজর বিভিন্ন দলের বড় প্রার্থীর দিকে।
  • রাজনীতির সমীকরণ এবার অনেকটাই পাল্টে গেছে।
  • একচেটিয়া প্রভাব দেখাতে পারছেন না তেমন কেউ।
  • পরিচিত, আলোচিত অনেক নেতাই নির্ভার নন।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
চ্যালেঞ্জের মুখে বড় নেতারাও
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুজিবুর রহমান, সারজিস আলম, মামুনুল হক, নুরুল হক নুর ও হাসনাত আবদুল্লাহ

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ভোটযুদ্ধ নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। সেই হিসাব-নিকাশে বেশি করে আসছে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের নাম। যেসব প্রার্থীর দিকেই থাকে কিনা দলমত-নির্বিশেষ সব ভোটারের নজর। এবার আওয়ামী লীগবিহীন ভোটের মাঠে রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে। এ ছাড়া ভোটারের ভাবনায় পরিবর্তন এবং বড় দলের বিদ্রোহীদের আবির্ভাবসহ নানা কারণে অনেক প্রভাবশালী প্রার্থীর জয় কম-বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সারা দেশে আজকের পত্রিকার সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ চিত্র।

রাজধানীতে হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকার অন্যতম নাম বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাস অভিজ্ঞতার বিচারে অনেক এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না। জুলাই যোদ্ধা নাসীরুদ্দীন তরুণসহ ভোটারদের কতখানি প্রভাবিত করবেন, তা সতর্কভাবেই নজরে রাখছে তাঁর শিবির।

মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ববি হাজ্জাজ। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে জাতীয় পরিচিতি এবং এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা হওয়ায় শক্ত অবস্থানেই রয়েছেন মামুনুল। তবে মাঠের সার্বিক চিত্র বলছে, রাজধানী শহরে ধানের শীষের বিপরীতে জিততে হলে তাঁকে বেশ লড়াই দিতে হবে।

বিএনপির বড় প্রার্থীদের মধ্যে তারেক রহমানের পরই রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অভিজ্ঞ প্রার্থী ফখরুলের একটি বড় শক্তির জায়গা তাঁর ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’। জীবনের শেষলগ্নে সম্মান জানাতে এলাকার ভোটাররা মির্জা ফখরুলকে বেছে নিতে পারেন—এই আলোচনাও আছে। এরপরও ভোটের মাঠে শতভাগ নিশ্চিন্ত থাকছেন না তিনি। কারণ নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই উঠে এসেছেন।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নির্বাচনী প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু বিনা চ্যালেঞ্জে জিতবেন, তা বলা যায় না। টুকুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। স্থানীয়দের মতে, এখানে বিএনপির পুরুষ ভোটার বেশি, আর জামায়াত এগিয়ে নারী ভোটারে। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

ফেনী-৩ আসনে লড়ছেন বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জামায়াতের প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক। আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক। তবে মানিকের হয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও ভোটের মাঠে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে জয় পেতে ঝানু ব্যবসায়ী ও নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে।

জামায়াতের শীর্ষ নেতা, দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। রাজশাহী-১ আসনে মুজিবুর রহমানের বিপরীতে লড়ছেন একই আসনে বিএনপি থেকে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। আসনটিতে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মুজিবুর রহমান এর আগে ১৯৮৬ সালে ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সমীকরণ হঠাৎ বদলে গেছে। এতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ১১ জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ (মো. আবুল হাসনাত)। তবে পরে বিএনপি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেওয়ায় তিনি হাসনাতকে কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন বলে অনেকের ধারণা।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের হয়ে লড়ছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তাঁকে মুখোমুখি হতে হবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের। নেতা-কর্মীদের বড় অংশ হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন। বিএনপির ভোটব্যাংক ভাগ হয়ে যাওয়ায় এই আসনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন নুর।

ঝুঁকিতে রয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও। নুরের মতো তাঁকেও মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীর। রাশেদ খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেবও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা যায়।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ভোটে লড়ছেন পঞ্চগড়-১ আসন থেকে। তাঁকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে, ধানের শীষের ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের। এলাকার পুরোনো নেতা, সাবেক স্পিকারের উত্তরাধিকারী হিসেবে নওশাদ এই আসনে ইতিমধ্যে সুপরিচিত। সার্বিকভাবে এই আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন এনসিপির অন্যতম মুখ সারজিস আলম।

ফেনী-২ আসনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মো মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী জয়নাল আবদিনের। আসনটিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মঞ্জুর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। এর বাইরে ১১ দলীয় জোটের অংশীদার দলের নেতা-কর্মীরাও তাঁর হয়ে কাজ করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ধারালো বক্তব্যের জন্য সুপরিচিত রুমিন ফারহানা। জোটের স্বার্থ রাখতে গিয়ে এই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দেয়নি তাঁকে। বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব হবেন ভোটের বাক্সে রুমিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অধিকাংশই রুমিনের হয়ে কাজ করছেন। কিন্তু স্পষ্টতই ভোট ভাগ হওয়ায় রুমিন ফারহানার নিশ্চিত থাকার উপায় নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের অবস্থাও কিছুটা একই রকম। বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি মাথাল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তুলনামূলকভাবে অপরিচিত প্রতীক মাথালের দিকে নজর টানতে বেগ পেতে হচ্ছে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের। এ ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে সাকির পরিচিতি কিছুটা কম হওয়ায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুজ্জামান কামালই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা-৩ আসনে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন দলের আরেক সুপরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এই আসনের স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমর্থন বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিককালে বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যাঁদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংক রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অন্যতম নেতা কেন্দ্রীয় যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রেজাউল কবির পলের সমর্থকেরা গয়েশ্বরের পাশে থাকছেন না। এ বিষয়গুলো গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

(আজকের পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই খবরে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল মারা গেছেন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত-আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়: সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি

ঢাকা–১৮ আসনে নির্বাচন না করার ঘোষণা মাহমুদুর রহমান মান্নার

আইসিসি-পিসিবির সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ লাহোরে বিসিবি সভাপতি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত