Ajker Patrika

বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ২৩: ১৬
বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা

আইন ও বিচার বিভাগকে আবার দলীয়করণের চেষ্টা করে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আইন বিভাগকে বিএনপি আবার দলীয়করণের চেষ্টা করেছে। সেই দলীয়করণের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের যে সচিবালয় ছিল, সেটিকে বিলুপ্ত করে দিয়ে বিচার বিভাগের দলীয়করণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করার চূড়ান্ত সাংবিধানিক নিষ্পত্তি বিএনপি করেছে। এটি আমাদের জাতির জন্য লজ্জার। ৫ আগস্টের পরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছিলাম। তারই অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিএনপি এসে আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে।’

আজ সোমবার (২৫ মে) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপি ও জেলা ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি মামলা করে। ছাত্রদলের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলন শেষে শহরের পায়রা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচার বিভাগকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে এসে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। পোস্টিং ও প্রমোশনের অজুহাতে বিচারকদের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে আমাদের মনে হয়, আইনমন্ত্রী যে ধরনের নির্দেশনা দেন, সেটাই রায় হয়ে কোর্ট থেকে আসে। আইনমন্ত্রী যেমন রায় লিখে দেন, বিচারকেরা সেটাই পড়ে শোনান।’

হাসনাত বলেন, ‘সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। আমরা দেখছি, নিউমোনিয়ায় শিশু মারা যাচ্ছে, শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।’

সরকারের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘আগে নিজেদের দলকে সংশোধন করুন। আইন বিভাগকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, তা বন্ধ করুন। বিচার বিভাগকে স্বাধীন হতে দিন। তাহলেই বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। আমরা দেখলাম, রামিসার বাবা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিচার বিভাগের ওপর তাঁদের কোনো বিশ্বাস নেই। আওয়ামী লীগের আমলে যেমন গণভবন থেকে বিচার বিভাগ পরিচালিত হতো, এখনো ঠিক একইভাবে পরিচালনার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক থেকে শুরু করে গরুর বাজার পর্যন্ত কোথাও দলীয়করণ বাদ যাচ্ছে না।’

এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। বন্দর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিসিবি কিংবা এস আলমকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থান। আমাদের সহযোদ্ধা আশিককে দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ যাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দিয়েছি, তারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঝিনাইদহে থানায় বসে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে ওসি দুধ চা ও টোস্ট বিস্কুট খাচ্ছেন। অন্যদিকে আমাদের নেতা-কর্মীদের বাসা ভেঙে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে—এটি তাদের পরিকল্পনার অংশ কি না।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখলাম, ২৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন—‘‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’’। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে গরুর বাজার পর্যন্ত দলীয়করণ কি সেই পরিকল্পনার অংশ? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিকেট বোর্ড পর্যন্ত দলীয়করণও কি সেই পরিকল্পনার অংশ? সরকারকে তা স্পষ্ট করতে হবে। বাস্তবে সরকারের হাতে কোনো পরিকল্পনা নেই। এই সরকারকে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন, মিলিটারি ও এস আলম বিভিন্নভাবে হাইজ্যাক করে নিয়েছে। ফলে সরকার আর সরকারের হাতে নেই। যদি সরকার জনগণের সরকার হতে চায়, তাহলে জনগণের কাছে ফিরে আসতে হবে। এস আলমের ওপর ভর করে সরকার টিকে থাকতে পারে না। যদি ব্যবসায়ী, আমলা ও প্রশাসন সরকার টিকিয়ে রাখতে পারত, তাহলে ৫ আগস্ট আসত না। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে মানুষ বিকল্প বেছে নেবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘২২ মে থেকে ঝিনাইদহে বিএনপি যেভাবে বিরোধীমত দমনের চেষ্টা করছে, তা আপনারাই দেখছেন। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ওপর মসজিদের সামনে হামলা হয়েছে। হামলার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ যেভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে মামলা দিত, এখন একই কায়দায় এনসিপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

হাসনাত অভিযোগ করেন, এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা করতে থানায় গেলে আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। ওপর মহল থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পুলিশ মামলা নেয়নি। অথচ ছাত্রদলের মামলা দ্রুত নেওয়া হয়েছে এবং এনসিপির ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে, সাদা পোশাকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ভয়ংকর বিষয় হলো, ডিবি এসবের দায়ও স্বীকার করছে না। আওয়ামী লীগের আমলে যেমন সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটত, এখনো একই ঘটনা ঘটছে।

হাসনাত বলেন, ‘আদালতের অফিস সময় শেষ হওয়ার পর অয়নকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আশিকের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে আসা আইনজীবীকেও আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এটি আইনমন্ত্রীর জন্য লজ্জাজনক। জুলাইয়ের পরে আমরা আশা করেছিলাম, নিরপেক্ষ পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু এখনো পুলিশ নির্দিষ্ট দলের চেতনায় কাজ করছে। পুলিশের কাজ জনগণের সেবা করা, আইনগত বিষয় আইন অনুযায়ী সমাধান করা। অথচ আমরা দেখছি, সরকারদলীয় নির্দেশের অপেক্ষায় থেকে পুলিশ আবারও পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত