
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর এবার উপজেলা নির্বাচনেও না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বিএনপি। গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সভায় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভা মনে করে, ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে দলের যে সিদ্ধান্ত, সেটা পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না। সুতরাং এই উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নাই।’
এদিকে উপজেলা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে শুরু থেকে দলের অভ্যন্তরে মতানৈক্য ছিল। তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও কেন্দ্র চুপ থেকেছে। এই অবস্থায় কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা না করে প্রথম ধাপের নির্বাচনে অংশ নিতে এরই মধ্যে বিএনপির অন্তত অর্ধশত নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এখন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পার হওয়ার পরে দলের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল। এই অবস্থায় বিএনপির যাঁরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাঁদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, বিলম্বিত এই ঘোষণা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই উঠেছে প্রশ্ন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকের মনোভাব এমন যে প্রয়োজনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও নির্বাচনে অংশ নেবেন।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দেরিতে সিদ্ধান্ত আসা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির অনেক নেতা। কেন্দ্রের এমন ভূমিকাকে ‘খামখেয়ালিপনা’ উল্লেখ করে এই নেতারা বলছেন, উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে অনেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আগে থেকে। দল এ ব্যাপারে কিছু না বলায় তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন, এবার হয়তো দল এ ব্যাপারে নমনীয় থাকবে। অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন। শেষ সময়ে এসে দলের এমন সিদ্ধান্ত ভালো হলো না।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. শাহাজাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দল কী করবে না করবে জানি না। বিএনপির বাইরে নির্বাচন করব। বিএনপি কী দেয় না দেয়, ওটা ওদের ব্যাপার। ১০ বছর ধরে ভাইস চেয়ারম্যান আছি, আমি নির্বাচন করব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের এখনো জানা নেই, কারা কারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আমরা আলাপ করব। এরপর বিষয়টা দেখব।’
এদিকে বিএনপির যাঁরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাঁদের তালিকা করা হচ্ছে জানিয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজকের পত্রিকাকে বলেন, যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হবে।
প্রিন্স বলেন, এখনো সময় আছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। এরপরেও কেউ দলের সিদ্ধান্ত না মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি। সেদিন থেকেই প্রধান দলগুলোর প্রার্থী তথা নেতারা প্রতিপক্ষকে কথার যুদ্ধে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণা একটি সপ্তাহ পেরোতেই মাঠের রাজনীতির কৌশলগত রূপান্তর চোখে পড়ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে। তাঁদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।
৮ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল সফরে আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
৯ ঘণ্টা আগে