Ajker Patrika

দলীয় ডিসিদের প্রমাণ সংগ্রহ করছি, অপসারণের জন্য তালিকা দেব: তাহের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
দলীয় ডিসিদের প্রমাণ সংগ্রহ করছি, অপসারণের জন্য তালিকা দেব: তাহের

ভোটের আগে ‘দলীয়’ ডিসি–এসপিদের অপসারণ চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে রদবদল করার দাবি জানিয়েছিল জামায়াত। অন্তর্বর্তী সরকার সে পদ্ধতিতেই পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছিল।

সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ করেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেও আমরা ভিন্নতা দেখেছি। দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে একই ধরনের ঘটনা। কোথাও নমিনেশন গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কোথাও বাতিল করা হয়েছে।’

তাহের বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে ‘অবৈধভাবে শাস্তি পাওয়া’ তিনজন নেতার মধ্যে দুজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই মামলা, একই আদালত। কিন্তু সিনিয়র নেতা হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এক দেশে একই আইনে দুই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

নায়েবে আমির তাহের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। সেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা দেখেছে, তারা আইনকে দেখেনি। আমরা বলেছি—এসব ডিসি ও এসপিকে অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে...আমরা পর্যবেক্ষণ করে তালিকা দেব। প্রমাণ সংগ্রহ করছি।’ যথাযথ প্রমাণসহ তালিকা দিলে ইসি ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করেন তিনি।

ইসির কাছে ডিসি-এসপিদের কোনো তালিকা দিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে তাহের বলেন, ‘ডিসিদের মধ্যে পক্ষপাতমূলক আচরণ হচ্ছে। আমরা ডিসি-এসপির তালিকা দিইনি। আমরা পর্যবেক্ষণ করে তালিকা দেব এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছি।’

ইসির প্রতি এখনো আস্থা রয়েছে জানিয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আমরা বলেছি—বর্তমানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। একটি দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আজ আমি তথ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে বলেছি, আপনাদের টেলিভিশন এখনো মুসলমান হয়নি। কারণ, এটা নিরপেক্ষ হয়নি। উনি অনেকটা স্বীকার করেছেন। অসহায়ত্বের কথা বলেছেন।’

তাহের বলেন, ‘কোনো কোনো ব্যক্তিকে অনেক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, আবার একই পর্যায়ের অন্য নেতারা তা পাচ্ছেন না। প্রটেকশন বেশি বা কম দেওয়া আমাদের ইস্যু নয়। এটা যেহেতু নির্বাচনের সময়, জনমনে প্রশ্ন আছে। অন্য সময় হলে কোনো ইস্যু হতো না।’

প্রচারণা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘একটি দলের পক্ষ থেকে ভিজিএফ কার্ড, কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে—ক্ষমতায় গেলে সবাই পাবে। এটি সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। ইসি আশ্বাস দিয়েছে—এমন কিছু ঘটলে তারা ব্যবস্থা নেবে। আমরা অপেক্ষায় আছি।’

জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি লেভেল প্লেইং ফিল্ডে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কারণ, বাংলাদেশে আজকের এই সমস্যার প্রধান কারণই হচ্ছে বিগত ৫৬ বছরে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া। আগামী নির্বাচনটি যদি এ রকমই একটা অ্যারেঞ্জ নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে এবং দেশ আরও বেশি বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যাবে। একটি দল এটি করতে গিয়ে তো নির্বাসনে আছে। সুতরাং, আরেকটা দল যদি করে, তারাও একপর্যায়ে নির্বাসনে যাবে। তারপর যদি আরও একটা দল করে, তারাও যাবে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় দেশে কোনো রাজনৈতিক দলই থাকবে না।’

আপনি বলেছেন, ৫৬ বছরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি; তাহলে আগের সব নির্বাচন কি বিতর্কিত ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, ‘না, আমি মনে করি, যে ধরনের খুব সিরিয়াস সুষ্ঠু হওয়া দরকার ছিল, সে রকম নির্বাচন বাংলাদেশে হয়নি। ৯১ সালে, ২০০১ সালে কিছুটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল।’

জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানে ভর করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যদি বদলাতে হয় তখন, বিসিবিকে তামিমের প্রশ্ন

‘ভারতের বাইরে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেললে সেটা ক্রিকেটের জন্য বাজে দেখাবে’

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ৬২ বছর বয়সে গর্ভধারণ, ভাইরাল নারী

ঋণখেলাপিতে আটকে যেতে পারেন কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত