Ajker Patrika

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

সম্পাদকীয়
ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে সরকার নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিলেও এ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় পরিচয়ে। এ ছাড়া তালিকায় বিএনপি নেতার বয়স্ক মা, স্ত্রী ও কৃষি কর্মকর্তার বাবাকেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক দাবি করেছেন, শতভাগ নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিলারশিপ পরিবর্তনের কথা বলেছেন স্বয়ং কৃষিমন্ত্রী। নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের একটা বড় অংশের অতীতে সার বিক্রির অভিজ্ঞতা নেই। নিজস্ব গুদামও নেই তাদের।

অনৈতিক প্রক্রিয়ায় সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে আগামী মৌসুমে যে সারের সংকট তৈরি হবে না, তার নিশ্চয়তা কি আছে? যদি নীতিমালা উপেক্ষা করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই সৎ নন। তাঁরা যে ভবিষ্যতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার অপচেষ্টা চালাবেন না, এ কথার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসায়িক নৈতিকতাও তাঁদের কাছে আশা করা যায় না। ফলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার না পেলে এর প্রভাব পড়বে কৃষি খাতের ওপর। অভিযোগ আছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সার নিয়ে নানা অপকর্মের কারণে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এখন সারা দেশে নানা ধরনের শীতকালীন শাকসবজির চাষ হচ্ছে। এই সময় এবং এর পরে ইরি মৌসুমে যদি একইভাবে সারের সংকট তৈরি করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের আমলে নেওয়া দরকার।

যদিও কৃষি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শতভাগ নীতিমালা মেনে ডিলার নিয়োগের দাবি করা হয়েছে এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে ডিলারশিপ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু আশ্বাসেই মাঠপর্যায়ের অনিশ্চয়তা যে কাটবে, তার সম্ভাবনা কতটুকু? এ বিষয় নিয়ে অবশ্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিবাচক সংবাদ। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

সবচেয়ে জরুরি হলো, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ামাত্রই রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অযোগ্যদের ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে এবং যোগ্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও কৃত্রিম সংকট রোধে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় পর্যাপ্ত সারের মজুত নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি খাতকে দলীয় এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। সারের মতো স্পর্শকাতর কৃষি উপকরণের বিলিবণ্টন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা ঠিক হবে না। আমাদের প্রত্যাশা, সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি শক্ত হাতে দমন করা হবে। তা না হলে এ দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত