দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক ভয়াবহ ও বর্বর সংস্কৃতি জেঁকে বসেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। নতুন সরকার গঠনের পর সবার আশা ছিল সে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু সরকার গঠনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সে অবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটেনি।
সম্প্রতি ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’ (এমএসএফ)-এর এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, শুধু মে মাসেই মব সহিংসতায় ৩২ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ঘটনা।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের আশকারা ছিল এসব ঘটনায়। একটি ঘটনার কথা না বললেই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থীকে পোশাক পরা নিয়ে হেনস্তা করেছিলেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হলে সেই কর্মচারীকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তী সময়ে শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই ব্যক্তিকে ফুলের মালা পরিয়ে শাহবাগ থানা থেকে মুক্ত করে আনেন। এ ঘটনা প্রমাণ করেছিল, সে সময় ধারাবাহিকভাবে মবের ঘটনাগুলো কাদের ইশারায় সংঘটিত হয়েছিল।
শুধু কি নারী নিগ্রহ? বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের হেনস্তা করা, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ভাঙা, মেয়েদের খেলা বন্ধ করে দেওয়া এবং নানা স্থানে বাউল-লালনসংগীতের আসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সব ঘটনা ঘটেছিল তথাকথিত তৌহিদি জনতার ব্যানারে। সবশেষে দুটি জাতীয় দৈনিক এবং দুটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিস পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, অলিখিত সেই সরকারের অংশ ছিল জামায়াত ও এনসিপি।
সরকার সে সময় ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার পর সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আগের সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশৃঙ্খল থাকার অজুহাত দিয়েছিল। কিন্তু এখন তো সেই বাহিনী শৃঙ্খলার মধ্যে এসেছে। তাহলে এখনো কেন সেই ঘটনাগুলো ঘটবে?
এখন কোনো মবের ঘটনা মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। এখনো যখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মবের আক্রমণের শিকার হন, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভটিই নড়বড়ে হয়ে আছে। বর্তমান সরকারের জন্য এসব প্রতিরোধ করা জরুরি। নতুবা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কথাটির যৌক্তিকতা থাকে না। সরকার এখনো মব
সংস্কৃতি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখাতে পারছে না।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। মব সহিংসতার প্রতিটি ঘটনায় দলমত-নির্বিশেষে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকারের প্রধান কাজ হলো নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মব ভায়োলেন্স শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের কাঠামোগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এর জন্য প্রয়োজন জিরো টলারেন্স নীতি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ। তাই জনমনে স্বস্তি ও রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুটি প্রতিবেদনে চোখ পড়তেই মনে হলো, এখনই এই ব্যাপারগুলোয় সতর্ক না হলে দেশের রাজনৈতিক স্বাস্থ্য নাজুক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াবে। খবরগুলো সুখকর নয়। কিন্তু তার একটা প্যাটার্ন আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, যাঁরা এই অঘটনগুলো ঘটাচ্ছেন, তাঁদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়।
১১ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের পথটি আদালতে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের কৌশল থেমে নেই; বরং তারা নতুন একটি হাতিয়ার খুঁজে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যখন ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্টের (আইইইপিএ) আওতায়...
১৩ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে গত রোববার ডিজিটালি চুক্তি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার...
১৭ ঘণ্টা আগে
আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক আরোপের বিষয়টি দুর্বল হওয়ার পরও বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের চাপ থামেনি। এখন ধারা ৩০১ ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ ৬০ অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের নতুন হুমকি তৈরি করা হচ্ছে।
১ দিন আগে