Ajker Patrika

হামে শিশুমৃত্যু চলমান

সম্পাদকীয়
হামে শিশুমৃত্যু চলমান

এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে ১০০২ শিশু হাম এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা জানি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা ক্রয়জনিত সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছয় মাসের বেশি সময় পার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এত শিশুর মৃত্যু এবং অনেক মা-বাবার কোল খালি করার দায় কি সরকার এড়াতে পারে? সরকার যদি হাম পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করত, তাহলে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ আকার ধারণ করত না।

সাড়ে পাঁচ মাসে প্রায় ১ হাজারের বেশি শিশুর অকালমৃত্যু প্রমাণ করে, টিকাদান অভিযানের কথা বলা হলেও রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের কৌশলগত ঘাটতি রয়ে গেছে। যেখানে ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই চরম অপুষ্টির শিকার। একটি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক ব্যাধিতে প্রতিদিন গড়ে একাধিক নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে আসে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের গাফিলতি, বিগত বছরগুলোতে টিকা সরবরাহের সংকট এবং বিশেষ টিকা অভিযান বন্ধ থাকার ফলে দেশের একটি বিরাটসংখ্যক শিশু অরক্ষিত থেকে গেছে। এই জাতীয় বিপর্যয় থেকে কোমলমতি শিশুদের বাঁচাতে হলে সরকারকে আমলাতান্ত্রিক অজুহাত অতিক্রম করে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। সে জন্য জরুরি করণীয় হলো, টিকাদান কর্মসূচির পরিধি দ্রুত বিস্তৃত করা এবং কোনো শিশুই যেন টিকার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। শুধু পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে নজর সীমাবদ্ধ না রেখে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। এর জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা জরুরি।

অতি দ্রুত যে টিকা আসার কথা রয়েছে, তা যেন কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না পড়ে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন একটি শিশুও টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে। এ ছাড়া দুর্গম এলাকা, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর শিশুদেরও টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। টিকাদানের বয়সসীমা কমিয়ে এনে দ্রুততম সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লক্ষ্য ঠিক করে টিকাদান অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বিরাট অংশ অপুষ্টির শিকার। তাই মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সঙ্গে পুষ্টিকর খাবারের ব্যাপারেও শিশুদের অভিভাবকদের সচেতন করা জরুরি।

হামের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাদুর্ভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টিকাদানকাঠামো পুনর্গঠন এবং পর্যাপ্ত টিকার জোগান নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমন ভয়াবহ মৃত্যু থেকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আধুনিক কালে হামের মতো একটি রোগের কারণে শত শত শিশুর মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত