এ রকম খবর বহু আছে। তারপরও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে কারাগারে গেছেন, এ খবরটিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর বলে মনে করছি। যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে তার দায়ও তাঁকে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।
আমরা এই মামলা নিয়ে বিশদ আলোচনায় যাচ্ছি না। আমাদের দৃষ্টিপাত ভিন্ন এক বাস্তবিকতার দিকে। সমাজে এমন একটি প্রবণতা গড়ে উঠছে, যাতে মানুষে-মানুষে সম্পর্কটাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আলোচ্য নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করেছেন তাঁর সাবেক স্বামী, যিনি ভোলা শিল্পকলা একাডেমির একজন কর্মকর্তা। বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘দাম্পত্য-সম্পর্ক থাকাকালে তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি তাঁর সাবেক স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ছিল। বিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রী ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’ এখানেই আমাদের প্রশ্ন। ইদানীং প্রায়ই দেখা যায়, ‘আপত্তিকর ছবি’ মানুষে-মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হয়ে উঠছে। বোঝা যায়, এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের একটা বড় ভূমিকা আছে।
একটি স্মার্টফোনে এখন এত ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় যে তা ডেস্কটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। এই ফোনে থাকা ক্যামেরাটি যে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় ভূরি ভূরি। সম্পর্ক যখন ভালো থাকে, তখন যে ছবিগুলো তোলা হয়, সে মুহূর্তে সেই ছবিগুলোকে ‘আপত্তিকর’ বলে মনে হয় না। সম্পর্ক যখন শিথিল হয়ে আসে, তখন সেই ছবিগুলোই হয়ে ওঠে মারণাস্ত্র। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নারী কর্মকর্তাও সাবেক স্বামীর ‘আপত্তিকর’ ছবিগুলো তুলে দিয়েছেন ফেসবুকে।
সাধারণ নীতিনৈতিকতা উঠে আসে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা থেকে। একজন মানুষ তার আশপাশের বাস্তবতা থেকে আচরণ শেখে। যেকোনো মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায় আছে মানুষের। এই স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই দায়বোধ ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মোটেই কাজ করেনি। এবার আরও একটি প্রশ্ন তোলা দরকার, কেন মানুষ ‘আপত্তিকর’ ছবি তুলবে, যা অন্য মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়? তাহলে কেমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে? দুজন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, স্নেহ যদি না থাকে, তাহলে সেটা আসলে কেমন সম্পর্ক?
পারস্পরিক অবিশ্বাসের জন্ম হচ্ছে কেন, কেন একজন অন্যজনের ব্যক্তিগত বা গোপনীয় বিষয়কে প্রকাশ্যে আনতে কোনো দ্বিধা করছেন না, গবেষকেরা নিশ্চয়ই তা নিয়ে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলতে চাইছি, সামাজিক সম্পর্কগুলো যদি এ রকম নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবেন? বিশ্বাস না থাকলে সেটা কেমন সম্পর্ক? পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কেন প্রশ্নের সামনে এসে পড়ছে, তা নিয়ে ভাবা দরকার।

রাষ্ট্রভাষার বিষয়টা তো দ্বন্দ্বেরই ঘটনা একটা। রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের দ্বন্দ্ব। বাংলা ভাষার কপালেই ছিল এটা যে, একেবারে শুরু থেকেই তাকে যুদ্ধ করে এগোতে হবে; যুদ্ধটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই। রাষ্ট্র কখনোই তার পক্ষে ছিল না। এত শত বছর পরে, হাজার বছরের ইতিহাস পার হয়েই...
৩ ঘণ্টা আগে
প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ১৯৮৫ সালের ২০ মে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাই। এবারই আমার জীবনে প্রথম ভোট গ্রহণ। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর বাজারের অদূরে ভান্ডা মজলিসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আমার নির্ধারিত কেন্দ্র।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ইউক্লিডের কাছে জ্যামিতি শিখতে আসা এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেন: ‘এগুলো শিখে আমার কী লাভ হবে?’ ইউক্লিডের উত্তর ছিল: ‘ওকে একটি মুদ্রা দাও, কারণ সে যা শেখে তার বিনিময়ে লাভ চায়।’ এই উত্তর কেবল একটি রসিকতা নয়, বরং জ্ঞানের প্রকৃত স্বরূপের ঘোষণা।
৩ ঘণ্টা আগে
ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার মাস—আবেগ, আত্মত্যাগ আর গৌরবের মাস। এই মাস এলেই আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি ভাষাশহীদদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি মাতৃভাষার অধিকার। প্রতিবছর মাসজুড়ে অমর একুশে বইমেলার আয়োজন সেই স্মৃতিকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
১ দিন আগে