বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারটি হাস্যকর এক গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষালয়ের প্রশাসনে নিজ সমর্থকদের ঠাঁই দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। সেটা বোধ হয় ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আওয়ামীকরণের পাল্টা ব্যবস্থা। শোনা যায়, ড. ইউনূসের আমলে এই সুযোগ বেশি পেয়েছিলেন জামায়াত-সমর্থিত শিক্ষকেরা।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী শিক্ষকদের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এবং নিজেদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের সেই পদে বসাচ্ছে, এ রকম খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। অর্থাৎ আওয়ামী, জামায়াতি পার হয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো বিএনপির রঙে রঙিন হবে। আওয়ামীকরণের কথা বলার সময় এ কথাও বলা উচিত, আওয়ামী আমলের আগে বিএনপিও তাদের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিএনপিকরণ করেছিল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ক্ষমতায় যেই দল যাবে, তারাই তাদের রঙে রাঙিয়ে নেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন। তাই এ ক্ষেত্রে ‘গণ-আন্দোলনে’র কোনো সুফল যে পড়েনি, সেটা বলাই বাহুল্য।
উপাচার্য নিয়োগপ্রক্রিয়া কেমন হবে, সেটা নিয়ে সুশীল সমাজে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। ক্ষমতাবঞ্চিত রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন গোলটেবিল বৈঠকে কিংবা টক শোতে উপাচার্য নিয়োগের ধ্রুপদি সংজ্ঞা দিতে কুণ্ঠিত হয় না। তাদের কথা শুনলে মনে হয়, ক্ষমতায় এলে দলীয় উপাচার্য নিয়োগের ঐতিহ্য থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বের করে আনতে পারবে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যেই লাউ সেই কদু অবস্থাই বিরাজ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি সুরম্য প্রাসাদের সমাহার ভেবে নেওয়া হয়, তাহলে আলোচনা আর এগিয়ে নেওয়ার দরকার নেই। বিশ্ববিদ্যালয় তো চিন্তাচর্চার জায়গা। সেটাই তার মূল পরিচয়। সেই চিন্তাচর্চাকে এগিয়ে নিতে হলে প্রশাসনকে হতে হবে দলমত-নির্বিশেষে সবার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাচার্য যিনি হবেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে সরকারি দলের অনুসারী হবেন—এটা কোনো নিয়ম হতে পারে না। অথচ বছরের পর বছর অলিখিতভাবে সেই নিয়মই চলছে। এই যে সাম্প্রতিককালে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষালয়ে যে আন্দোলন চলছে, সেটাও যে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়ার জন্য, এমন নয়। যাঁরা নতুন উপাচার্যের বিরোধিতা করছেন, তাঁরাও হয়তো মনে মনে চান, তাঁদের মতাদর্শী উপাচার্য। ফলে যেটা হয়েছে, সেটা শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো ফল এনে দিতে পারেনি। দলীয় উপাচার্য সামগ্রিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঠিকভাবে চালাবেন, নাকি দলের নির্দেশ মেনে চলবেন—এই বিতর্ক থেকে কি তাঁরা বেরিয়ে আসতে পারবেন?
উপাচার্য নির্বাচিত হতে হবে রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে। তাহলেই নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য উপাচার্য পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের কলুষিত রাজনীতির কাছে কি সেই সংবাদ পৌঁছায়?
আমাদের দেশে উপাচার্য হিসেবে এমন অনেক মনীষীকে দেখা গেছে, যাঁরা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে তাঁরা কখনোই শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করেননি, বরং শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছেন। রাজনৈতিক আনুগত্যই যদি উপাচার্য হওয়ার যোগ্যতা হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কী করে এগোবে?
আর এই দুষ্টচক্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রক্ষা করবে কে?

বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার শিগগির দেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবে। একটি নির্বাচিত সরকারের বার্ষিক বাজেট সে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনার (যেমন পাঁচসালা পরিকল্পনা) মধ্যে প্রোথিত থাকে। সুতরাং সেই বাজেট একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করে এবং সে বাজেটের লক্ষ্যসমূহ দীর্ঘমেয়াদি সেই....
৮ ঘণ্টা আগে
একুশ শতকের শুরুতে আমরা প্রযুক্তির যে দ্রুতগতির কথা কল্পনা করেছিলাম, ২০২৬ সালে এসে তা শুধু গতির নামান্তর নয়, বরং আমাদের অস্তিত্বের সংজ্ঞাকেই আমূল বদলে দিচ্ছে। আজকের বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বহুমুখী শাখার একীভবন। তথ্যপ্রযুক্তি, অণুপ্রযুক্তি (মলিকিউলার টেক) এবং ন্যানোপ্রযুক্তি আজ...
৯ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়েই এটি এখন সর্বজনস্বীকৃত অভিমত যে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি-আকাঙ্ক্ষা ও দায়িত্বহীন অমানবিক গাফিলতির কারণেই বাংলাদেশে আজ শত শত শিশুর প্রাণহানি ঘটছে।
১ দিন আগে
আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় কৃষকের প্রকৃত প্রয়োজনের প্রতিফলন অনেক সময়ই আংশিক থেকে যায়। কৃষিকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও লাভজনক করতে বর্তমান সরকারের নানা কার্যকর ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
১ দিন আগে