সম্পাদকীয়

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ কবে ফিরে আসবে, সেটা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। নানা কারণে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির হয়ে উঠছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ২৯ দিনের আন্দোলনের পর উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। এতে কি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে? চাপের মুখে উপাচার্য পরিবর্তনে কি শিক্ষা-সংকট মিটবে?
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) তিন মাস ধরে চলছে অস্থিরতা। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য নিহত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাস-পরীক্ষা। উত্তপ্ত হয়ে আছে পুরো ক্যাম্পাস। একটানা প্রতিবাদ, গণজমায়েত, মিছিল। একই চিত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে। ছাত্রদের তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় বোতল ছুড়ে মারা—এসব ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ আর শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং ক্ষমতা ও প্রতিরোধের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতন ঘটায়নি, ছাত্রদের মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সংগঠিত হলে তাঁরা অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারেন—এই উপলব্ধি একদিকে যেমন রাজনৈতিক সচেতনতা ও শক্তি, অন্যদিকে কখনো কখনো তা হয়ে উঠছে লাগামহীন প্রত্যাখ্যানের প্রবণতা। ছাত্রদের একটি অংশ আজ কোনো নিয়ম কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা মানতে চায় না।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারহীনতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দায়িত্বহীন প্রশাসনিক আচরণই এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ। সংকট তীব্র হলে উপাচার্য বদল, সাময়িক প্রতিশ্রুতি—এসব হয়তো আগুন নিভিয়ে রাখে কিছুদিন, কিন্তু চুল্লিতে জমা পড়ে থাকা ক্ষোভ একসময় আবার বিস্ফোরিত হয়।
দেশের কোথাও এখন আর স্থায়ী শান্তি নেই শিক্ষাঙ্গনে। অথচ পড়াশোনা, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা—এসবই শিক্ষার মূল ভিত্তি। সব জায়গায় সংস্কারের কথা শোনা যায়—প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, এমনকি রাজনৈতিক সংস্কারের কথাও বহুল শ্রুত। কিন্তু শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কোনো সিরিয়াস পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
কোথাও কি জাতীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে—আমরা কেমন শিক্ষা চাই? শিক্ষার লক্ষ্য কী? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী রকম নাগরিক তৈরি করবে? এসব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে
আমরা শুধু আগুন নেভাচ্ছি, সমস্যার শিকড় উপড়ে ফেলছি না।
আজ প্রয়োজন সাহসী, দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। শিক্ষাঙ্গনকে শিক্ষার জায়গা করে তুলতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে মেধা, যুক্তি, চিন্তা ও সংলাপের চর্চাকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-প্রশাসন—সব পক্ষকে নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপ জরুরি।
না হলে আজ বরিশাল, কাল খুলনা, পরশু ঢাকা—এই স্রোত একদিন কোথায় গিয়ে ঠেকবে, আমরা কেউ জানি না। হয়তো সেদিন ‘শিক্ষা’ শব্দটাই মুছে যাবে আমাদের অভিধান থেকে। এখনই সময় জেগে ওঠার, শিক্ষা নিয়ে ভাবার এবং ভাবনা থেকে কাজ শুরু করার।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ কবে ফিরে আসবে, সেটা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। নানা কারণে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির হয়ে উঠছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ২৯ দিনের আন্দোলনের পর উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। এতে কি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে? চাপের মুখে উপাচার্য পরিবর্তনে কি শিক্ষা-সংকট মিটবে?
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) তিন মাস ধরে চলছে অস্থিরতা। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য নিহত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাস-পরীক্ষা। উত্তপ্ত হয়ে আছে পুরো ক্যাম্পাস। একটানা প্রতিবাদ, গণজমায়েত, মিছিল। একই চিত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে। ছাত্রদের তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় বোতল ছুড়ে মারা—এসব ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ আর শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং ক্ষমতা ও প্রতিরোধের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতন ঘটায়নি, ছাত্রদের মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সংগঠিত হলে তাঁরা অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারেন—এই উপলব্ধি একদিকে যেমন রাজনৈতিক সচেতনতা ও শক্তি, অন্যদিকে কখনো কখনো তা হয়ে উঠছে লাগামহীন প্রত্যাখ্যানের প্রবণতা। ছাত্রদের একটি অংশ আজ কোনো নিয়ম কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা মানতে চায় না।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারহীনতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দায়িত্বহীন প্রশাসনিক আচরণই এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ। সংকট তীব্র হলে উপাচার্য বদল, সাময়িক প্রতিশ্রুতি—এসব হয়তো আগুন নিভিয়ে রাখে কিছুদিন, কিন্তু চুল্লিতে জমা পড়ে থাকা ক্ষোভ একসময় আবার বিস্ফোরিত হয়।
দেশের কোথাও এখন আর স্থায়ী শান্তি নেই শিক্ষাঙ্গনে। অথচ পড়াশোনা, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা—এসবই শিক্ষার মূল ভিত্তি। সব জায়গায় সংস্কারের কথা শোনা যায়—প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, এমনকি রাজনৈতিক সংস্কারের কথাও বহুল শ্রুত। কিন্তু শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কোনো সিরিয়াস পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
কোথাও কি জাতীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে—আমরা কেমন শিক্ষা চাই? শিক্ষার লক্ষ্য কী? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী রকম নাগরিক তৈরি করবে? এসব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে
আমরা শুধু আগুন নেভাচ্ছি, সমস্যার শিকড় উপড়ে ফেলছি না।
আজ প্রয়োজন সাহসী, দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। শিক্ষাঙ্গনকে শিক্ষার জায়গা করে তুলতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে মেধা, যুক্তি, চিন্তা ও সংলাপের চর্চাকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-প্রশাসন—সব পক্ষকে নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপ জরুরি।
না হলে আজ বরিশাল, কাল খুলনা, পরশু ঢাকা—এই স্রোত একদিন কোথায় গিয়ে ঠেকবে, আমরা কেউ জানি না। হয়তো সেদিন ‘শিক্ষা’ শব্দটাই মুছে যাবে আমাদের অভিধান থেকে। এখনই সময় জেগে ওঠার, শিক্ষা নিয়ে ভাবার এবং ভাবনা থেকে কাজ শুরু করার।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি ‘অলটারনেটিভস’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক।
১৭ ঘণ্টা আগে
উত্তর আমেরিকার শীতকালটা বেশ অদ্ভুত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ১০ তারিখে পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে এসে দেখলাম, সব ঝকঝকে পরিষ্কার, রোদ ঝলমল দিন, রাস্তার কোলে সরু ফিতার মতো স্বল্প কিছু তুষার স্তূপ জড়ো হয়ে রয়েছে, ছোট ছোট সাদা সাদা তুষারের পাতলা টুকরো রয়েছে পাহাড়ের উপত্যকাজুড়ে, নিষ্পত্র বৃক্ষময় বনের ভেতর।
১৭ ঘণ্টা আগে
দেশে বর্তমানে ১৭ লাখ ৮০ হাজার শিশু শ্রমে নিযুক্ত আছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজেই রয়েছে ১০ লাখের বেশি শিশু। এ রকম একটি তথ্য হাজির করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই সরকার শিশুশ্রম দূর করতে চায়।
১৭ ঘণ্টা আগে
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের তীব্র সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার একটি সংকেত মাত্র। যদিও সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির ঘাটতি দীর্ঘকালের। সাধারণভাবে কখনো কম কখনো বেশি ঘাটতি নিয়েই দেশ চলেছে। এবারের মতো সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব কালেভদ্রেই হয়ে থাকে।
২ দিন আগে