শামস আজমাইন নামের ছেলেটি বড়ই দুর্ভাগা! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন তিনি। অপরাধ কী তাঁর? তিনি স্মার্টফোনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলে বাবাকে মেসেঞ্জারে পাঠাচ্ছিলেন? আচ্ছা! এখানে বাবা এলেন কোথা থেকে? তাঁকে কেন প্রশ্নপত্র পাঠাতে হবে? নিজের ছেলে নকল করছেন শুনলে বাবা তাঁকে কষে এক চড় দেবেন বলেই তো এতকাল জানা ছিল। কিন্তু ছেলেটি তাঁর বাবার কাছে প্রশ্নপত্র পাঠাচ্ছিলেন বাবা তার সমাধান করে দেবেন বলে! ভাবা যায়!
একালের বাবারা কি নিজ সন্তানের পড়াশোনাকে এভাবেই দেখেন? সন্তান স্কুল-কলেজের সময়টা কাটিয়েছেন পড়াশোনা না করেই, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় যে প্রশ্নগুলো এসেছে, তার সমাধান করার দায় বর্তেছে বাবার ওপর। এ কেমন ‘পারিবারিক চুক্তি’? ব্যাপারটা যে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি, সে কথা বোঝার মতো বয়স তো বাবা-ছেলে দুজনেরই হয়েছে। তারপরও কেন তাঁরা এ রকম কাণ্ড করার ঝুঁকি নিতে গেলেন?
এ প্রশ্নের জবাব সহজে মিলবে না। কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ভাবনা দিয়ে এই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার কোনো কারণ নেই। একজন বাবা তাঁর সন্তানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সুস্থ মস্তিষ্কে মেনে নিতে পারেন না। যে নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হয় মানুষ, তাতে এ ধরনের কোনো আচরণের সুযোগ নেই। বাবা কিংবা অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের মধ্যে সুরুচির প্রকাশ দেখতে চান, নৈতিকতার চাষবাস দেখতে চান। কিন্তু সে রকম একটি পরিবেশ কেন সৃষ্টি হলো না এই পরিবারে? আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে আরেকটি প্রশ্ন, এ রকম বাবা কি একজনই আছেন আমাদের দেশে? নাকি সকলের বুদ্ধির অগোচরে এ রকম বাবাদের সংখ্যা বাড়ছে?
বহু আগে যাযাবরের লেখা ‘দৃষ্টিপাত’ নামের অনবদ্য এক বইয়ে একটি বাক্য লেখা হয়েছিল। বাক্যটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন উপলক্ষে। ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’—এই ছিল বাক্যটি। এখন প্রযুক্তির এই শনৈঃশনৈ উন্নতির যুগে বাবা-ছেলের এই সম্পর্ককে ‘বেগ’ না ‘আবেগ’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে? ঠান্ডা মাথায় বিবেচনা করলে এই আচরণের মধ্যে ‘বেগ’ও পাওয়া যাবে না, ‘আবেগ’ও পাওয়া যাবে না। শুধু পাওয়া যাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন এক বিভীষিকার গল্প। এই ছেলে কিংবা এই বাবা বাস্তবতার মধ্যে বসে যে গল্পটি লিখলেন, তা অমার্জনীয়। এর ক্ষমা হয় না।
কোটা-মেধা ইত্যাদি অনেক কথা বলা হয়েছে। নতুন জামানায় কোটা আর মেধার পার্থক্য খুঁজে দেখা দরকার। মেধার বিজয় চাইলে তো মেধার চাষবাস করতে হবে। পরিশ্রম আর চর্চা ছাড়া কি মেধা বিকশিত হতে পারে? শিক্ষার্থীদের অনেকেই হঠাৎ করে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যও মেধার দরকার পড়ে, সে কথা কি অবান্তর হয়ে যাবে? শঙ্কার জায়গা হলো, অভিভাবকেরা যদি এখন পড়াশোনাকে জলাঞ্জলি দেওয়া সন্তানদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠেন, তাহলে দেশ যাবে কোন দিকে? গোটা জাতির অন্ধকার ভবিষ্যৎকে কি এরা ভয়ও করে না?

কয়েক দিন আগে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলাম। পাশেই জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রাচীর। সে প্রাচীরের দেয়ালে জুলাই বিপ্লবের পর একটি চমৎকার অর্থপূর্ণ ব্যঙ্গচিত্রের গ্রাফিতি চোখে পড়তেই দাঁড়িয়ে পড়লাম। গ্রাফিতিটি এঁকেছে সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটি।
৫ ঘণ্টা আগে
সুমন সাজ্জাদ কবি, লেখক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু প্রবন্ধের বই হলো—‘প্রকৃতি, প্রান্তিকতা ও জাতিসত্তার সাহিত্য’, ‘আধুনিকতা ও আত্মপরিচয়’, ‘ধর্ম নিম্নবর্গ ঠাট্টা’, ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ ও ‘শব্দরম্য’।
৬ ঘণ্টা আগে
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবার মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে বিজয়ের হাসি হেসেছেন মাত্র সাতজন। তাহলে এবার সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে ৫৭ জন নারীর সংসদে পা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থীদের জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ১৫৩ জনের সবাই বিপুল পরিসরে পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু রাজনীতির মাঠে ভোট টানতে বামপন্থা আদর্শের আলোড়ন কমবেশি সবার মধ্যে দেখা যায়। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, শ্রেণিবৈষম্য রোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা
১৫ ঘণ্টা আগে