এত মানুষ হঠাৎ রোমিও হয়ে যাচ্ছে কেন, তা নিয়ে জরিপ হওয়া উচিত। আশঙ্কার বিষয় হলো, ওই সব রোমিওর জীবনে জুলিয়েট নেই। তারা নিজেদের প্রেমিক পরিচয়ে তৃপ্ত হয়ে কোনো মেয়েকে প্রস্তাব দিয়ে বসে। তার কাছ থেকে নেতিবাচক উত্তর পেলে, তাদের ভালোবাসা যেন উথলে ওঠে। সেই ভালোবাসা প্রকাশ করার জায়গা যখন খুঁজে না পায়, তখন বন্ধুদের সাহায্যে সেই মেয়েকে অপহরণ করে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক প্রেমিকপ্রবর দুজন সহযোগীসহ তেমন এক কাজ করার পর র্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া সেই মেয়েকে প্রেমিক এবং তাঁর দুই সহযোগী ১০ দিন অপহরণ করে রেখেছিলেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সমস গ্রামের বেল্লাল হোসেনের বয়স ৩৩। নবম শ্রেণিতে পড়া ওই মেয়েকে দেখে তাঁর মনে প্রেমের বন্যা বয়ে যায়। বোঝা যাচ্ছে, মেয়েটির সঙ্গে বেল্লাল হোসেনের বয়সের পার্থক্য অনেক। তা ছাড়া একজন প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার সময় মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করবে, এ কেমন কথা! মেয়েটি অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়েছিল। সে অপহৃত হওয়ার পর পরিবারের লোকেরা এই ঘটনা বেল্লাল হোসেনের পরিবারকেও জানান। তাঁরা খুঁজে দেবেন বলে আশ্বাস দেন; কিন্তু কোথায় কী। শেষে র্যাবের মাধ্যমে উদ্ধার হয় মেয়েটি।
হঠাৎ এত প্রেমিকে কেন ভরে যাচ্ছে দেশটা? কত কিসিমের মানুষ যে কত ধরনের যৌন অপরাধ করে বেড়াচ্ছে, তা কি গুনে শেষ করা যাবে? প্রশ্ন উঠতে পারে, আগের কালেও কি এই রোমিওগিরি এতটা বিস্তার পেয়েছিল, নাকি এটা বর্তমানের একটি বড় রোগ? আগের কালে খবর ছড়ানোর উপায় জানা ছিল কম, তাই মানুষ সব খবর পেত না, নাকি এখন খবরের জন্ম হচ্ছে একের পর এক? হাতের সঙ্গে লেপ্টে থাকা ডেটাসহ মোবাইল ফোন কি জন্ম দিচ্ছে বিপজ্জনকভাবে প্রেমরোগের? নিষিদ্ধ ছবির দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাতে তাকাতেই কি শরীরী উত্তেজনায় নিজেকে প্রেমিক ভাবতে শুরু করছে বুড়ো-ধুরো-যুবক-কিশোরেরা? মেয়েদের ভোগ্যসামগ্রীর বাইরে ভাবার ক্ষমতা কি লোপ পেয়ে যাচ্ছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। সামাজিক দৃশ্যপটে হঠাৎ কি এসব নেতিবাচক মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে? ইদানীং নাবালিকা ধর্ষণের মতো কত ঘটনার খবরই তো পড়তে হচ্ছে। এমনও দৃশ্য দেখতে হচ্ছে, শিশুকে ধর্ষণ করার পর হত্যাও করছে এসব নরপশু। গাইবান্ধার মেয়েটিকে মরতে হয়নি বটে, কিন্তু যে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে, তার কোনো প্রতিকার তো হবেই না, তবে মেয়েটির ভবিষ্যৎ ভয়মুক্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা কি দেওয়া যায়?
এসব প্রেমিকের শাস্তি কী হতে পারে? গায়ের জোরে অথবা ক্ষমতা কিংবা টাকার জোরে যেসব রোমিও একেবারে ভুঁই ফুঁড়ে উঠে আসছে, তাদের ঠেকানোর একটা উপায় থাকতে হবে। সেই উপায়ের কথাই ভাবুন সমাজের মস্তিষ্করা, যদি সেই মাথায় জং ধরে না থাকে।

ধরুন, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বোকার মতো এক কাজ করে বসল। তখন নিশ্চয়ই সেই কাজটাকে ‘ফুলিশ’ কাজই মনে হবে। আর কাজটা যদি অপরাধমূলক হয় তাহলে? তখন কিন্তু শুধু ‘ফুলিশ’ বলে পার পাওয়া যাবে না। এখন বগুড়া পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
৮ ঘণ্টা আগে
ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি ইউজিসি থেকে পদত্যাগ করেছেন এর প্রশাসনে একদল অসৎ ও দুর্নীতিপ্রবণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে।
৯ ঘণ্টা আগে
আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি আর শুধু জীবনের সহায়ক অংশ নয়। এটি এখন একটি জাতির টিকে থাকা, স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের প্রধান ভিত্তি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর সুফলও তারা পাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ডিজিটাল সাক্ষরতা...
১১ ঘণ্টা আগে
আমার এক বন্ধু বাংলা সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র এবং খুবই পড়ুয়া। তার নিজস্ব লাইব্রেরিটিও খুবই সমৃদ্ধ। দুর্লভ সব বই সংগ্রহ করে থাকে। খুঁজে খুঁজে বড় বড় বইমেলায় যায়। এ বাংলার উৎসাহী বন্ধুদেরও নিজ খরচে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসাটি করে গার্মেন্টস শিল্পের। ব্যবসাটিও ভালোই।
১ দিন আগে