Ajker Patrika

নেত্রী ও গাছ কাটা

সম্পাদকীয়
নেত্রী ও গাছ কাটা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর এলাকার বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই তিনটি সরকারি রাস্তার ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ কেটে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ‘ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি)’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার চেয়ারম্যান কে এম লুৎফর রহমান এবং মহিলা দলের নেত্রী আসমা ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ৬ জুলাই গাছগুলো নিলাম দেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তাঁরা।

বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস চলছে। এই অল্প সময়ে সরকারি দলের স্থানীয় একজন নেত্রী যদি এভাবে অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সেটা কোনো ভালো লক্ষণ নয়। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং সরকারি নিয়মনীতি মানেননি। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এখনই তাঁর বিরুদ্ধে যদি দলীয়ভাবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন। তাতে স্থানীয়ভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

আইন অনুযায়ী, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা যেকোনো গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়াকেও পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রথম দফায় বন বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তড়িঘড়ি করে দ্বিতীয়বার নিলামের আয়োজন করা হয়। ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় সরকারি গাছগুলো এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যখন উপজেলা বন কর্মকর্তা পরিষ্কারভাবে বলছেন যে এই বিষয়ে তাঁর দপ্তর কিছুই জানে না এবং কোনো আবেদনও করা হয়নি, তখন কোন ক্ষমতাবলে এই বৃক্ষনিধনযজ্ঞ চলছে; সেই প্রশ্ন এড়ানো অসম্ভব।

এখানে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, সরকারি সম্পদের ওপর বেসরকারি সংস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বেআইনি কর্তৃত্ব স্থাপন। জনস্বার্থে রোপণ করা গাছ কীভাবে একটি বেসরকারি সংস্থা নিজেদের সম্পত্তি মনে করে নিলামে তুলতে পারে? আর রাজনৈতিক দলের নেত্রীই-বা কার ইশারায় সরকারি নিয়মকে তাচ্ছিল্য করে নিলাম করতে পারেন? আসমা ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের নীতিমালা মানার যে দাবি করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তা নাকচ করে দিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি যে অবৈধ ও ক্ষমতার জোরে করা হয়েছে, তা কিন্তু স্পষ্ট।

উন্নয়ন ও কল্যাণের বুলি আওড়ানো বেসরকারি সংস্থা যখন নিজেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের অংশীদার হয়, তখন জনগণের ভরসার জায়গাটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। আর রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতি যদি বন্ধ করা না যায়, তবে দেশের পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ—কোনোটিই রক্ষা পাবে না।

অবিলম্বে এই অবৈধ গাছ কাটা বন্ধ করা হোক। বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে কীভাবে এই অপকর্ম করা হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত