Ajker Patrika

দুর্নীতি

সম্পাদকীয়
দুর্নীতি

মাগুরার আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামে মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজটি আছে কি নেই, তা নিয়েই রয়েছে সংশয়। টিকে আছে জরাজীর্ণ ভবন, কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তবে কলেজটির কোনো ফলপ্রসূ শিক্ষা কার্যক্রম নেই। যদি তা না থাকে, তাহলেও কি এই ভবনকে কলেজ বলে ধরে নিতে হবে? তারপর কলেজের নামে কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে?

যাঁরা দুর্নীতির খবর শুনে কলেজটি দেখতে গেছেন, তাঁরা জানাচ্ছেন, শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব সেখানে নেই। পুরো চত্বর পানিতে নিমজ্জিত, চারদিকে জঙ্গল ও আগাছা। জীর্ণ দুটি টিনশেড ঘরে ধুলাবালুতে ঢাকা কয়েকটি বেঞ্চ পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন এক আজব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের একটি অংশে ধান চাষ করা হচ্ছে। সড়কের পাশে বাঁশের খুঁটিতে কলেজের একটি সাইনবোর্ডও দেখা যাচ্ছে।

ঘটনা বা অঘটনটি প্রকাশ না করলে পাঠকের তা বুঝতে অসুবিধা হবে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে হুবহু তুলে দিচ্ছি কয়েকটি বাক্য—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি, যাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষক-কর্মচারী দাবি করেছেন, অভিযোগ করেন— সরকারি অনুদান ও ভবিষ্যতে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব তাঁদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নিয়ে অন্তত ১৫ জনকে শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে তাঁরা কখনো কোনো বেতন-ভাতা পাননি। ২০২০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে টাকা ফেরতও পাননি বলে তাঁদের অভিযোগ।

ব্যস! এ বিষয়ে আর কথা নয়। অধ্যক্ষ মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব কলেজটি নিয়ে সব তথ্য অস্বীকার করে বলতে চেয়েছেন, কলেজে ৭০ বা ৮০ জন শিক্ষার্থী আছে, দুই শিফটে পাঠদান হয়। অথচ সে রকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই কলেজের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দেড় কোটি টাকা। অচল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে যখন এ রকম বরাদ্দ হয়, তখন বুঝে নিতে হয়, দুর্নীতির বীজ মাটির কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। তবে এই দুর্নীতির জন্য বিগত কোনো সরকারকে দোষ দিলে হবে না। কবে কোথায় কীভাবে এই ভৌতিক কলেজের নামে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার সব তথ্যই এখন সামনে। সুতরাং দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া কঠিন কিছু নয়। যাঁরা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের অপকর্ম আরও ঘটতে থাকবে। অপরাধীরা সাহসী হয়ে বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরতে থাকবে।

বরাদ্দের বিষয়ে যা জানা গেছে, তা হলো মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ডিও লেটারের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে মন্ত্রীর কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি তো করা যায়।

শিক্ষাক্ষেত্রকে কলুষিত করার অধিকার কি কারও থাকা উচিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত