মিরপুরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগার পর যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল, সে কথা সবাই এখন জানেন। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা জানেন এটা তাঁদের পরিবারের জন্য কত বড় ক্ষতি। নিহতদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে কি না, তাদের জীবনে স্থিতি ফিরিয়ে আনতে কী করা দরকার—তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয়ই ভাববেন। এ রকম একটা অবস্থায় দুর্ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে খুব কম মানুষই মাথা ঘামায়। দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়টিতে স্থানীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতি যে মোটেও অনুকূল থাকে না, সেটা বোঝা দরকার।
সম্প্রতি আমাদের প্রতিবেদক শিয়ালবাড়ীর ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক গুদামে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেছেন, এতগুলো দিন পার হওয়ার পরও বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে এখনো অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। রাসায়নিকের ড্রাম থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া মানুষকে অসুস্থ করে দিচ্ছে। অসুস্থদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। প্রায়ই দেখা যায়, একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দু-এক দিন সংবাদপত্রে রিপোর্ট হয়, তারপর একসময় সেটা ভুলে যায় মানুষ। কিন্তু যে মানুষেরা ভুক্তভোগী, তাদের প্রতিটি দিনই যে কাটছে ভয়ংকর রাসায়নিকের সঙ্গে লড়াই করে, সে খবর কয়জন রাখে?
চিকিৎসকেরা বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডের কয়েক দিন পরও বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ার ঘনত্ব বেশি থাকে। পরে ধীরে ধীরে তা কমে যায়। মাটিতে পড়ে থাকা রাসায়নিক দ্রব্যের অবশিষ্টাংশ ভুক্তভোগীর শরীরে ঢোকে। ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র ধূলিকণা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়। এই কারণে ভবিষ্যতেও তা বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।
বিষাক্ত কণিকা বা গ্যাস মানবদেহে ঢোকে শ্বাসের মাধ্যমে, ত্বকের মাধ্যমে এবং খাদ্যের মাধ্যমে। এই গ্যাস অ্যাজমা, কাশি, গলাজ্বলা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। চোখ আর ত্বকও তাতে আক্রান্ত হতে পারে। তৈরি হতে পারে মাথাব্যথা, বমি ও ক্লান্তির মতো ঘটনা। ভারী ধাতু দীর্ঘ মেয়াদে স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল করে দেয়। তাতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।
শিয়ালবাড়ীর দুর্ঘটনাস্থলের অন্তত এক হাজার গজ পর্যন্ত এলাকায় বাতাসে এখনো পোড়া জিনিস ও গ্যাসের মতো কটু গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাতে মনে হয়, এই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখনো রয়েছে সংকটের মুখে।
আমরা সবাই জানি, স্বাস্থ্য আমাদের মৌলিক অধিকারের একটি। কিন্তু দেশের মানুষ এ কথাও জানে, সেই মৌলিক অধিকার সব সময় সমুন্নত রাখা হয় না। রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে কীভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে, তার পূর্বপ্রস্তুতি কয়টি গুদামে আছে? এসব জায়গায় কি নিয়মিত ইন্সপেকশন হয়? শুধু গুদাম কেন, কারখানাগুলোয় কি সঠিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে? শ্রমিকেরা কি নিরাপদে তাঁদের কাজ করে যেতে পারেন?
এসব দুর্ঘটনায় মূলত সমাজের নিচুতলার মানুষেরা বিপদে পড়েন। তাঁদের পাশে যদি দাঁড়ানো না হয়, তাহলে বুঝতে হবে, শিল্প-ব্যবস্থাপনায় যে ঘাটতি আছে, তা নিরসনের কোনো চিন্তা কারও নেই।

১৯ শতকের প্রথমার্ধে আমাদের দেশে ইংরেজি তথা আধুনিক শিক্ষার গোড়াপত্তন ঘটেছিল মূলত ইংরেজদের হাত ধরে। তবে আর কিছু যেমনই হোক, শত বছরেও এখানকার কোনো প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স পড়ার কোনো সুযোগ সৃষ্টি কিংবা বন্দোবস্ত পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে
১ ঘণ্টা আগে
অ্যান্টার্কটিকার ওয়েডেল সাগরে সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি ছোট পাথুরে দ্বীপ বৈশ্বিক জলবায়ু রাজনীতির মানচিত্রে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। গিজার মহাপিরামিডের সমতুল্য এই দ্বীপটি এত দিন বিশাল বরফের স্তূপের নিচে লুকানো ছিল। ড্রোনের ক্যামেরায় যখন প্রথম এই পাথুরে ভূমির অস্তিত্ব ধরা পড়ল, তখন তা কেবল একটি ভৌগোলিক
১ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি একজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ার জন্য গাছে উঠতে হয়েছিল মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য। এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিছক একটি ভাইরাল ভিডিও ছিল না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। এখন প্রশ্ন হলো, একজন শিক্ষক
১ ঘণ্টা আগে
পদ্মা নদীর ভাঙন বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের ঝাপটায় প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীগর্ভে বিলীন হয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার উৎস। কিন্তু দুঃখজনক হলো, ভাঙন যেন আমাদের কাছে একটি মৌসুমি সংবাদে পরিণত হয়েছে; কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর সবকিছু আবার আগের মতো চলতে
১ ঘণ্টা আগে