মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে পুরোনো ধারায় ফিরছে। অন্তর্বর্তী সরকার ওই দুটি অধ্যাদেশ জারির পর মানবাধিকারকর্মীরা একধরনের আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলেন।
কিন্তু বর্তমান সংসদে এটা বাতিল হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যে জায়গাটায় আমরা পৌঁছেছি, সেটি অনেক দুর্বল।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে সরকারের লিখিত আপত্তিগুলোতে একটি অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। সরকার বলছে, আরও পরামর্শের পর আরও শক্তিশালী আইন আনা হবে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি যুক্তির বিচারে টেকে না। কারণ, প্রতিবেদনে যে আপত্তিগুলো নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলোই হবে নতুন আইনের ভিত্তি। নতুন আইনকে এই আপত্তিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কিন্তু এই আপত্তিগুলো মানলে আইনের কার্যকারিতা হ্রাস পায়, এটি অনিবার্য।
সুতরাং সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—হয় আপত্তি মেনে দুর্বল আইন আনুন, নয়তো আপত্তি উপেক্ষা করে শক্তিশালী আইন আনুন। দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়। আরও শক্তিশালী আইন আনার প্রতিশ্রুতি তাই কার্যত একটি অসম্ভব দাবি।
সমস্ত জায়গায় সরকার আপত্তি দিয়েছে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে যখন কোনো অভিযোগ আসে, অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারত। কিন্তু গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি লাগত। আর সরকারের যে ইচ্ছা সেটা হচ্ছে সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে তদন্ত করতে হবে—এই হচ্ছে একটা।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যেসব বক্তব্য দিচ্ছিলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে যারা গুম করছে, তাদের ব্যাপারে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না। আসলে গুম প্রতিরোধ আইনে খুব স্পষ্টভাবে শাস্তি ১০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত ছিল। একটা লোক যদি গুম হয়, যদি নিশ্চিত হওয়া যায় এবং সে যদি পাঁচ বছরের ভেতর ফেরত না আসে, সে ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার একটা বিধান ছিল।
আরেকটা হচ্ছে, যদি লাশ পাওয়া যায় বা গুম হওয়া ব্যক্তি যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়, সে ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাজার কথা বলা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, নীতিনির্ধারকেরা অনেকেই এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, সেটা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরকার বলছে যে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমাদের কথা হলো, সব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান কেন? মানবাধিকার কমিশন স্বাধীন না হলে কাজের কত দুর্বলতা থাকে, সেটা তো আমরা বিগত দিনে দেখেছি। কমিশনারদের নিয়োগের ব্যাপারে সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিন্তু ২০২৫ সালের যে আইন, সেখানে সরকারের পাশাপাশি স্বাধীন সত্তার অভিজ্ঞজনেরাও আছেন। তো এই জায়গাগুলোকে যদি সরকার পুরোপুরি তাদের ইচ্ছামতো করে, তাহলে তো বিগত দিনে কমিশন যেভাবে কাজ করেছে বা যেভাবে কাজ করতে পারেনি, সেটাই হবে। সেটারই পুনরাবৃত্তি আমরা দেখব। দলদাসরা কমিশনে যুক্ত হবেন। বিচারিক ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তরের মাধ্যমে কমিশন রাজনৈতিক দলের মতো কাজ করবে।
সরকারের আপত্তি হলো, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের আগে সরকারের অনুমতি লাগবে। অথচ গত ১৫ বছরে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রায় সব অভিযোগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ছিল। যদি সেই বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের আগে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়, তাহলে কমিশনের কার্যকারিতা থাকে না।
২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কয়টি গুমের অভিযোগে সরকার তদন্তের অনুমতি দিয়েছিল? মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, এমনকি সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের তদন্ত কি সরকার করেছিল? এটা দায়মুক্তির পাঁয়তারা মাত্র।
দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, নির্বাচন কমিশনও নয়, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ও নয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন তোলার একটাই কারণ, সরকার এমন কমিশন চায় না, যা সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে পারে। মানবাধিকার কমিশনে মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মৌলিক লঙ্ঘন।
লেখক: নূর খান লিটন, মানবাধিকারকর্মী

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাস আত্মঘাতী কাজ হয়েছে বলে মনে করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন। তিনি বলেছেন, ‘অধ্যাদেশ রহিতকরণে আমার মনে হয় এরা (সরকার) আত্মঘাতী কাজ করছে।
২ ঘণ্টা আগে
বিএনপির যে রাজনৈতিক অবস্থান ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা—এগুলোর সঙ্গে এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।
২ ঘণ্টা আগে
পানিবেষ্টিত হাওরাঞ্চলে খাওয়ার জন্য সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ৭ এপ্রিল আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলায় ৩২ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত।
১৯ ঘণ্টা আগে
সংস্কৃতিমন্ত্রী এবারের পয়লা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে অনেকগুলো ইতিবাচক কথা বলেছেন, তার মধ্যে একটি হলো পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রাই থাকবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি নামটি পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামকরণ করেন।
১৯ ঘণ্টা আগে