সাড়ে ১২ মণ শাপলাপাতা মাছ জব্দ করা হয়েছে পটুয়াখালীর বাউফলে। একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে পাঁচ বস্তা শাপলাপাতা মাছ জব্দ করা হয়। মাছ তো জব্দ হলো, কিন্তু যারা শাপলাপাতা মাছ নিয়ে যাচ্ছিল, তাদের কি হদিস মিলল? না, মিলল না—তারা পগারপার!
সাগরে বসবাসকারী শাপলাপাতা মাছ খুবই নিরীহ। এদের প্রজনন খুব সহজ নয়। এরা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। তাই এদের ধরা, মারা, বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কিন্তু কে শোনে কার কথা? নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকর্ষণ—ও তো চিরন্তন এক সমস্যা। সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে না জেলেরা। সমুদ্রে শাপলাপাতা মাছ ধরতে পারলেই তাদের পোয়াবারো। লুকিয়ে বিক্রি করতে পারলে পকেট ভরে।
বাউফলে শাপলাপাতা মাছভর্তি যে বস্তাগুলো পাওয়া গেল, সেগুলো জব্দ করা হয়েছে, এটা খুব ভালো কথা। প্রশ্ন হলো, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যদি এই মাছ জব্দ করে থাকে বন বিভাগ, তাহলে যারা এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের কেন ধরতে পারল না? গোপন তথ্য থাকলে তো তারা সেভাবেই পদক্ষেপ নেবে। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পালিয়ে যেতে না পারে, সেটা নিশ্চিত না হয়ে শুধু মাছগুলো জব্দ করেই খুশি থাকল বন বিভাগ?
শাপলাপাতা মাছ সমুদ্রের খাদ্যশৃঙ্খলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলুপ্তপ্রায় এই মাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য জেলেদের মধ্যে প্রচারণা চালানো দরকার। যারা জেনেশুনেই শাপলাপাতা মাছ ধরছে, বিক্রি করছে, খাচ্ছে, তাদের সবারই দায় আছে। এই অন্যায়ের সঙ্গে এরা সবাই যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু মাছ আটক করলেই চলবে?
খোদ রাজধানীতেও কখনো কখনো কোথাও কোথাও শাপলাপাতা মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রকাশ্যেই তা বিক্রি হয়। কেউ এসে সেই বিক্রেতাদের ধরেছে, এমন কথা খুব একটা শোনা যায় না। তাহলে এই মাছ ধরা কমবে কীভাবে?
বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সবাই পড়বে, এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। কিন্তু বিরল বা বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলোর ছবি দিয়ে তা ধরা নিষিদ্ধ—এ রকম তথ্যসংবলিত প্রচারণা চালানো খুব প্রয়োজন। আর প্রয়োজন, যারা এই মাছ ধরছে আর বিক্রি করছে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আমাদের দেশে আইন ও আইন মানার মধ্যে একটা বিরোধ রয়েছে। আইন ভঙ্গ করার যে আনন্দ, তা পুরোপুরি ‘এনজয়’ করে আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষ। তারা বোধ হয় সত্যিই বিশ্বাস করে—আইনের জন্ম হয়েছে আইন ভঙ্গ করার জন্যই। আমরা জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রমাণ কি পাচ্ছি না? বড় বড় ব্যাপারেই আইন যেখানে অসহায়, সেখানে শাপলাপাতা মাছ বাঁচানোর আইন ভাঙা তো যে কারও কাছে নস্যি! তাই আইন থাকা ও তা রক্ষা করার অভ্যাস না হলে শাপলাপাতা মাছ নিয়ে অযথা কান্নাকাটির কোনো কারণ নেই। আইন ভাঙার ক্ষেত্রে যে রকম ‘সৃজনশীল’ হয়ে উঠছি আমরা, তাতে শাপলাপাতা মাছ অতি দ্রুতই হয়তো শুধু ছবি হয়ে টিকে থাকবে!

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা একটি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় সরকারব্যবস্থার প্রত্যাশা ও তদানুগ একটি সংবিধান দিয়ে শুরু হলেও এর বিগত ৫৫ বছরের বয়সকালের মধ্যে অন্তত ২৫ বছরই কেটেছে সংসদবহির্ভূত ব্যবস্থার অধীনে। আর কাগজ-কলমে যে ৩০ বছর সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনে ছিল, তার মধ্যেও অন্তত ১০ বছর সংসদে কোনো...
৮ ঘণ্টা আগে
আজকের লেখায় বলতে চাইছি আর্থিক খাতের নীতি নিয়ে। আমাদের দেশে প্রতিবছর অনেক নীতি প্রণয়ন হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই কিছুদিনের মধ্যে এই নীতি সবাই ভুলে যায়। এত নতুন নতুন নীতি প্রণয়ন হয়, যেটা সবার পক্ষে মনে রাখা বা নীতি মেনে কাজ করা দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়।
৮ ঘণ্টা আগে
কোথাও কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই যেন ঘুষ খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়! অবশ্য কাজ শুরু হওয়ার আগে থেকে শরিকেরা নির্ধারণ করে নেন কে কী পরিমাণ ঘুষ খাবেন। এই অতি সাধারণ দৃশ্য সম্পর্কে দেশের মানুষ কমবেশি সবাই জানে।
৮ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি হলো, বিশ্বের কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তাদের আনুগত্য না মানলে সেখানে যেকোনো উপায়ে তাঁকে উৎখাত করা। যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ইতিহাস তা-ই বলে। সেই
১ দিন আগে