আচ্ছা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তাঁরই সহপাঠীদের আপত্তিকর ছবি তুলেছেন গোপনে, তারপর এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিকৃত করেছেন—এ কথাও আমাদের হজম করতে হবে? শিক্ষার্থী বলতে তো সমাজে এগিয়ে থাকা একজন মানুষকেই বোঝানো হয়, কিন্তু শিক্ষার্থীর যদি এই দশা হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে?
এআই ব্যবহার করে এখন যা খুশি তা-ই তৈরি করা যায়। এ ব্যাপারে চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করলে সে নিজেই বেশ ভাবগম্ভীর উত্তর দিয়ে দেবে। তবে বলে রাখা ভালো, বিজ্ঞানের কোনো নতুন আবিষ্কারকে এককথায় বাতিল করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের অনেক কাজকেই সহজ করে দিয়েছে। যেকোনো ভাষায় যেকোনো কিছু জানতে চাইলেই মুহূর্তের মধ্যে নেট ঘেঁটে উত্তর হাজির করে দিতে পারে। তবে কখনো কখনো সে গাঁজাখুরি উত্তরও দিয়ে থাকে। সে কথা মনে করিয়ে দিলে আবার বিনয়ের সঙ্গে মেনেও নেয়। এহেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিজেরই সহপাঠীদের হেনস্তা করার মনোবাসনা থাকে যাঁর, তিনি তো ভালো মানুষ হতে পারেন না।
সাধারণ্যে এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এই মাধ্যম ব্যবহার করে ভুল তথ্য, ভুল ছবি, ভুল ভিডিও তৈরি করা যায়। মানুষের গোপনীয়তা নষ্ট হয়, এ রকম বহু ডেটা ব্যবহার করা হয়। এগুলো যে অপরাধ, সে কথা এআই ব্যবহারকারী জানতেও চায় না। বরিশালের এই ‘বীরপুঙ্গব’ এআই দিয়ে কী ধরনের বিকৃতি ঘটিয়েছেন ছবির, সে কথা প্রকাশিত খবরে আসেনি বটে, কিন্তু সত্যিই তিনি কতটা অন্যায় করেছেন, তা বোঝার জন্য তাঁর সঙ্গে মানসিক বিশেষজ্ঞদের আলোচনা হওয়া দরকার। এ ধরনের মানুষ শুধু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনই আছেন, এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। যেহেতু ছবি বিকৃত করে বিকৃত আনন্দ পাওয়ার সুযোগ আছে, তাই এই সুযোগ গোপনে কে বা কারা লালন করছেন, তা তো সহজে ধরা যাবে না। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেটির মতলব জেনে তা ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করলে সম্ভাব্য বিপথগামীরা ঠিকপথে ফিরে আসতে পারে।
হাতে একটা মোবাইল ফোন থাকলেই যা ইচ্ছা তা করা যায় না, এ ব্যাপারে শিশুকাল থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। এআইয়ের যুগ একটা নতুন যুগ। এ সময়ের সবকিছু পুরোনো প্রজন্মের মানুষ বুঝতে পারবে না। তাই নতুন মানুষদের নতুন করে জীবনযাপন প্রণালির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। যদি কারও মধ্যে এ ধরনের বিকৃতি দেখা যায়, তাহলে তাকে কাউন্সেলিং বা মানসিক সহায়তার মাধ্যমে ঠিক পথে ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া দরকার। শুধু মোবাইল ফোনই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটা দিক-নির্দেশনা থাকা দরকার। সংস্কৃতি মানুষকে ঋদ্ধ করে। নিজেকে আরও একটু ভালো করার জন্য ভালো কিছুর চর্চা করা হলে তার প্রভাব পড়ে মানুষের মনে। সে দিকগুলো নিয়ে ভাবা উচিত। আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেটি যেন পথে ফিরে আসেন, না ফিরলে যেন শাস্তি পান, সে আশা করাও অপ্রাসঙ্গিক নয়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আজ অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। থেমে নেই ইরানও। আক্রান্ত হওয়ার পরপরই তারাও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১৫টি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ইতিমধ্যে সারা পৃথিবী তার বিরূপ প্রভাব...
৩ ঘণ্টা আগে
৭ মার্চকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিগত ইউনূস সরকার। ৭ মার্চের জাতীয় ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তাতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে যা ঘটেছিল, তা কি উধাও হয়ে যাবে ইতিহাস থেকে?
৩ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো, ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। এটা শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ—এই তিনটি শব্দ বাস্তবায়িত না হলে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
৩ ঘণ্টা আগে
আবার কি পৃথিবী অশান্ত হয়ে উঠল? ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানবসভ্যতা অনেকবার এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অন্য সময়ের চেয়ে উদ্বেগ কিছুটা বেশিই বলে মনে হচ্ছে।
১ দিন আগে