আসলে খাসলত বলে যে কথাটা আছে, সেটা পরিবর্তিত হয় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও প্রবাদ বাক্যে বলা হচ্ছে, ‘স্বভাব না যায় ম’লে’—কথাটা সত্য হলে সিলেটের চা-বাগানে ঘুরতে আসা এক তরুণীকে যে তিন কিশোর উত্ত্যক্ত করেছে সম্প্রতি, তাদের স্বভাব বদলাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ১৩-১৪ বছর বয়সী এই তিন কিশোর কোন মানসিকতার বশবর্তী হয়ে একজন তরুণীকে উত্ত্যক্ত করছিল, তার সামাজিক ব্যাখ্যা পাওয়া কি সম্ভব?
প্রথমেই যে কথাটির ওপর জোর দিতে চাই, তা হলো, এই কিশোরদের তো অভিভাবক আছে, এরা তো কোনো না কোনো মহল্লায় বসবাস করে, তাহলে পরিবারে কিংবা মহল্লায় তারা কি কোনো রকম আদব-কায়দা শেখে না? দ্বিতীয়ত, কেন তাদের আচরণ এ রকম সহবতহারা হয়ে উঠেছে, সে প্রশ্ন কি তুলেছেন কেউ? তৃতীয়ত, এরা যে এলাকায় থাকে, সে এলাকার কোনো শিক্ষালয়ে কি যায় তারা? গেলে সেখানে কোন ধরনের শিক্ষা পায়? শিক্ষকেরা কি তাদের সামাজিক আচরণ শেখান না? যদি শিক্ষালয়ে না যায়, তাহলে এদের গতিবিধির দিকে সমাজের কোনো না কোনো অংশের মানুষ কি নজর রাখে? বলা হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে সালিস বসিয়ে নিজ নিজ অভিভাবকদের জিম্মায় এই তিন কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবার প্রশ্ন হলো, এদের নিয়ে অভিভাবকেরা এখন করবেন কী? কোনো ধরনের পারিবারিক শাসনের মধ্যে কি তারা পড়বে? বকা দিয়ে কিংবা মেরে কি আদৌ ‘খাসলত’ বদলানো যায়? মানসিকতায় যে অরুচিকর বাস্তবতা বিরাজ করছে, তা থেকে এরা বের হবে কী করে?
বিংশ শতাব্দীর মূল্যবোধগুলো একবিংশ শতাব্দীতে এসে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। মানুষের মধ্যে যান্ত্রিকতা, সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা বাড়ছে। বিশ্বজুড়েই এই প্রবণতা বাড়ছে। প্রকৃতির কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ, চোখ নিবদ্ধ করছে স্মার্টফোনে নেটের দুনিয়ায়। ফলে, বাস্তবজীবনে কী ঘটছে, তা নিয়ে ধারণাই জন্মাচ্ছে না অনেকের। এ রকম একটি অবস্থায় যে তারুণ্য গড়ে উঠছে, সে তারুণ্য মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হবে কী করে, তা নিয়ে গোটা বিশ্বই ভাবছে।
আরও একটা ভয়ংকর কথা এখানে বলা দরকার। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন যে তরুণী, তিনি যদি ফেসবুক পেজে লাইভ না করতেন, তাহলে কি এই বখাটে কিশোরদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেত? যদি প্রকাশ না পেত, তাহলে তারা কি স্বীকার করত যে এই আচরণ তারা করেছে? আর প্রকাশ না পেলে অবলীলায় তারা নতুন করে নতুন কোনো তরুণীকে উত্ত্যক্ত করত। এভাবেই বাধা-বন্ধনহীন এক বখাটে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যেত। এখন দেখা দরকার, অভিভাবকেরা এই কিশোরদের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন কি না। এটা একটা অ্যাসিড টেস্ট হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে। বদমায়েশি করার পর যখন ধরা পড়ে, পরবর্তীকালে তারা সংশোধিত জীবনযাপন করে কি না, সেদিকে নজর রাখা দরকার। যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে ‘স্বভাব না যায় ম’লে’ প্রবাদ বাক্যটিই ফলে যাবে, যা কারও কাম্য নয়।

দুটি প্রতিবেদনে চোখ পড়তেই মনে হলো, এখনই এই ব্যাপারগুলোয় সতর্ক না হলে দেশের রাজনৈতিক স্বাস্থ্য নাজুক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াবে। খবরগুলো সুখকর নয়। কিন্তু তার একটা প্যাটার্ন আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, যাঁরা এই অঘটনগুলো ঘটাচ্ছেন, তাঁদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়।
১২ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের পথটি আদালতে ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের কৌশল থেমে নেই; বরং তারা নতুন একটি হাতিয়ার খুঁজে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যখন ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্টের (আইইইপিএ) আওতায়...
১৪ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে গত রোববার ডিজিটালি চুক্তি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার...
১৮ ঘণ্টা আগে
আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক আরোপের বিষয়টি দুর্বল হওয়ার পরও বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের চাপ থামেনি। এখন ধারা ৩০১ ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ ৬০ অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের নতুন হুমকি তৈরি করা হচ্ছে।
১ দিন আগে