কাউকে খাটো করে কিংবা কাউকে বড় করে ইতিহাস বদলে দেওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধে কার কতটা অবদান, সেটা ইতিহাসই নির্ধারণ করে দেয়। তাই ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বদলের চেষ্টাকে অপচেষ্টা বলা ভুল হবে না। বড়ই পরিতাপের বিষয়, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই যে যার দলের মূল নেতাকেই স্মরণ করেছে। সময় এসেছে, মুক্তিযুদ্ধে যাঁর যে অবদান আছে, তা স্বীকার করে নেওয়ার। নইলে ইতিহাস তার সত্যিকারের সম্ভার নিয়ে জাতির সামনে উপস্থিত হতে পারবে না। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আমাদের পাঠ্যপুস্তক যেভাবে পরিবর্তিত হয়, তাতে দলীয়করণের স্পষ্ট চিহ্নই দৃশ্যমান হয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মূল নায়কদের যথাযথ সম্মান না করলে বক্তৃতা-বিবৃতিতে গর্ব করে যে শব্দচয়ন করা হয়, তার সবই ব্যর্থ হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বিএনপি আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন। দেশবাসীকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, ‘যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, সেই একই অপশক্তি আজ ভিন্ন মোড়কে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে। এদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ওপর যেকোনো আঘাত মোকাবিলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ কথাগুলো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির এ কথাও স্পষ্ট করে বলা উচিত যে কীভাবে এবং কোন পথে তারা এই অপশক্তিকে রুখে দেবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিগুলো যে যার মতো করে বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিদের মদদ দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে, তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে, এমনকি তাদের মন্ত্রীও বানিয়েছে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মিলে দেশজুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে যারা এবং যারা সেই অপরাধ করে এখনো প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি, তাদের ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে।
ইতিহাসকে তার নিজের জায়গায় রাখার একটা সুযোগ এসেছে জাতির সামনে। কিন্তু সে সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে পারলেই একটি ঐকমত্যের দেশ তৈরি হতে পারে। আমাদের ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা হলো ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়টি। এই সময়ের মধ্যেই জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনানায়কের তখ্ত-তাউস গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সে সময়কার পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরগুলো পড়লেই স্বাধীনতার ইতিহাস দীপ্যমান হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের মনে। এরপর ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধের ইতিহাস অর্থাৎ বাঙালির সবচেয়ে বড় বিজয়, সেটাও লিপিবদ্ধ আছে ইতিহাসে। ইতিহাসকে সেই তথ্য-উপাত্তের নিরিখেই দেখতে হবে। আর ইতিহাসের প্রতি অনুগত থেকেই গড়ে তুলতে হবে দেশ। নতুন প্রজন্ম যেন কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়, সেই নিশ্চয়তা দেশের জনগণের আরাধ্য, এ কথা যেন ভুলে না যাই।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২৩ মার্চ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইরানের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সেটি কতটা আন্তরিকতাপূর্ণ আর কতটা তাদের চতুর কৌশল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পাওয়া পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা এ যুদ্ধ বন্ধে কোনো অবদান রাখতে পারবেন...
২ ঘণ্টা আগে
সত্যি বলতে কি, এখন আর আমাদের অনেকেরই গ্রামে মন বসছে না। শহরের রঙিন জীবনের হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের। ওখানে আহা রে কত সুখ! কাজকম্ম আর টাকা, টিনের ঘর ছেড়ে দালানে বসবাস। একবারও আমাদের মনে এতটুকু চিন্তা আসছে না যে ওসব দালানের সুখের জন্য আমরা কী হারাচ্ছি!
২ ঘণ্টা আগে
ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই ঢাকার রাস্তায় একটা অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। মানুষ বাসের টিকিটের জন্য লড়াই শুরু করে, তারপর ব্যাগ গুছিয়ে ছোটা শুরু হয়। সবার মুখে একটাই কথা—বাড়ি যাব। এই ‘বাড়ি যাওয়া’র ভেতরে লুকিয়ে থাকে বছরের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে নেওয়ার স্বপ্ন, মায়ের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা....
১ দিন আগে
কদিন ধরেই ঘ্যান ঘ্যান করছেন। স্টিলের আলমারি থেকে শাড়িগুলো বের করে পাশের ছোট বিছানায় রাখতে হবে। বড় মেয়ে আগেই ছুটি নিয়েছে, বিশেষ সময় দিতে পারেনি। ছোট মেয়ে শরীর-স্বাস্থ্য, ঘর-সংসার আর চাকরি নিয়ে জেরবার। ছেলেই ভরসা।
১ দিন আগে