Ajker Patrika

সৌদি যুবরাজ আমাকে তোষামোদ করছেন: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৪১
সৌদি যুবরাজ আমাকে তোষামোদ করছেন: ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে অভিনন্দন জানান সৌদি যুবরাজ। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ফ্লোরিডার মায়ামিতে সৌদি আরব-সমর্থিত এক ব্যবসায়িক ফোরামে উপস্থিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ‘সফল’ বলে দাবি করেছেন। এ সময় তিনি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ বা বুলডগ হিসেবে আখ্যা দেন, যার কাজ হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভয়ভীতি দেখানো। এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁকে এখন তোষামোদ করছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের খবরে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এর বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। তবে তিনি দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (ন্যাটো) তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধে ন্যাটো তাঁকে ‘সহায়তা’ করছে না।

ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভে ট্রাম্প ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের বুলডগ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘৪৭ বছর ধরে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের বুলি বলা হয়েছে। কিন্তু এখন তারা আর বুলি নয়; তারা পালাচ্ছে।’ এ সময় উপস্থিত শ্রোতারা হালকা করতালি দেন। সাধারণত ইংরেজিতে বুলি বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার কাজই হলো অন্যকে ভয়ভীতি দেখানো, ধমকানো।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে ‘ধ্বংস করে না দিত’, তাহলে দেশটি ‘দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে’ পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত। যদিও তিনি আগেও বলেছেন, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের কর্মসূচি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে। উপস্থিত সৌদি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা এটা তোমাদের ওপর ব্যবহার করত, ইসরায়েলের ওপর, আর সবার ওপর।’

বক্তব্যে ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেও (এমবিএস) একহাত নেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের আগে সৌদি শীর্ষ নেতারা তাঁকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন—অবিশ্বাস্য, এক বছর আগে আপনারা ছিলেন মৃত একটি দেশ, আর এখন আপনারা বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় (হটেস্ট) দেশ। তিনি ভাবেননি যে এটা ঘটবে।’

এরপর হঠাৎ সুর পাল্টে তিনি সৌদি নেতৃত্বকে হালকা বিদ্রূপও করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি কখনো ভাবেননি যে তাঁর আমাকে তোষামোদ করতে হবে (কিসিং মাই অ্যাস)। একেবারেই ভাবেননি। তিনি ভেবেছিলেন আমি আর দশটা প্রেসিডেন্টের মতোই আরেকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হব, যে কিনা ব্যর্থ, যার দেশ অধঃপতনে যাচ্ছে। কিন্তু এখন তাঁকে আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাঁকে বলে দেবেন, তিনি যেন আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন।’

এরপর ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও বলেন, ‘আর যা-ই হোক কিউবাই এর। তবে ভেবে নিন যে এখন আমি এটা বলিনি।’ এ সময় তিনি গণমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, ‘দয়া করে, দয়া করে, দয়া করে—গণমাধ্যম, আপনারা এই বক্তব্য উপেক্ষা করুন। অনেক ধন্যবাদ।’

ইরান যুদ্ধ চলাকালে এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর দেশ থেকে অপহরণ করে আনার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে সেই চুক্তির সম্ভাব্য শর্তাবলি সম্পর্কে খুব কম তথ্যই দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, কিউবার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তাঁর জন্য ‘সম্মানের’ বিষয় হবে এবং তিনি ‘যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবেন।’

ফোরামটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুদ্ধের প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির অবস্থায় রয়েছে। নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী। এই যুদ্ধ শেষ হলে এটা রকেটের মতো ছুটবে। আমি ভেবেছিলাম আমরা আরও নিচে নামব, আর তেলের দাম আরও বেশি বাড়বে। এখনো শেষ হয়নি। কিছুটা শেষ হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি নয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

ইরানের প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসেফ পেজেশকিয়ানের ডায়েরিতে উঠে এল যুদ্ধের চিত্র

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৫

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত