বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে’ শীর্ষক সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফল থেকে জানা যায়, দেশের মানুষের অসুস্থতায় ১০টি রোগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৮.২৮ জন এই রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া সন্তান জন্মদানে সিজার করার হার ৪৯ শতাংশ, যা একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাণিজ্যিকীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাকে স্পষ্ট করছে।
উচ্চ রক্তচাপসহ অন্য গুরুতর রোগগুলো মানুষকে আক্রান্ত করে শুধু দেহগত ত্রুটির কারণে নয়। মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার অভাব, জীবনযাপনের পদ্ধতি এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে রোগগুলো আক্রমণ করে। আবার রোগ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে টোটকা চিকিৎসা নেয় অনেকে। ফলে রোগের বিস্তার দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে যায়। কথায় আছে, রোগে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা জরুরি।
রুটিন মেনে খাদ্যাভ্যাস করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, দৈনন্দিন ব্যায়াম—এ সবই হলো সুস্থ থাকার জরুরি উপায়। দেশের অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ। এর বাইরে খাদ্য উৎপাদনে কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারের কারণে খাদ্যে আর পুষ্টিগুণ থাকছে না। এ ছাড়া খাদ্যে রাসায়নিকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণেও নানা জটিল রোগ তৈরি করছে। এসব ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মানুষকে সচেতন করার কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে ক্রমেই অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করা যাচ্ছে না। তাহলে কি আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা হেরে যাবে? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাই জীবনযাপন পদ্ধতি মানার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ—রোগীদের সে বিষয়ে সচেতন না করে শুধু গাদা গাদা ওষুধ লিখে দেন তাঁরা। তাই চিকিৎসকদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি।
রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় হেলথ গাইডলাইন তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা করা সম্ভব হলে, মানুষ স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাবে। আর সেটা কার্যকর করা সম্ভব হলে দেশের জনগণই উপকৃত হবে। কিন্তু রাষ্ট্রকে তার জনগণের প্রতি দায়বোধ থাকতে দেখা যায় না। যেহেতু চিকিৎসা জনগণের মৌলিক অধিকার, তাই এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকা কোনো ভালো লক্ষণ নয়।
উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মান ও সেবার পরিধি বাড়িয়ে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে তারা ওষুধের দোকানের বদলে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্রে যায়।
বিবিএসের এই জরিপের তথ্যকে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নেওয়া উচিত সরকারকে।

রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা যে কেউ ভাবেন না, সেটা আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর থেকে স্পষ্ট হওয়া যাবে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডসংলগ্ন জয়পাহাড়ের কোলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।
৮ ঘণ্টা আগে
আমরা কি বারবার এইসব লোককে দিয়ে রাষ্ট্র শাসন করব? যদিও মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর কোনো শাসকই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। নানা ধরনের দুর্বলতার কারণে তাঁরা রাষ্ট্র শাসনে অক্ষম হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে এত বড় ভারতবর্ষ রাষ্ট্রটাকে বিক্রি করে দিয়েছেন।
৮ ঘণ্টা আগে
পাবলিক পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের সঙ্গে শূন্য পাসের হার বা শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেলের বিষয়টিও সম্পর্কযুক্ত। যদিও অনেক বছর আগেই এর সূত্রপাত। শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিভিন্ন বোর্ডে বছর বছর কমে এলেও, ধারাবাহিকভাবে এক মন্দ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
৮ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় প্রবীণদের শুধু অন্যের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি তাঁদের নতুন চোখে দেখতে শুরু করেছে। কারণ, প্রবীণেরা শুধু অভিজ্ঞতার ভান্ডার..
১১ ঘণ্টা আগে