দেশের শিক্ষাব্যবস্থা গভীর সংকটের মধ্যে নিপতিত। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জটিল আকার ধারণ করেছে। ফলে দেশের বৌদ্ধিক সম্ভাবনা ও মেধার বিকাশকে ক্রমেই ক্ষয় করছে। এটি শুধু শিক্ষার মান হ্রাস নয়, বরং একটি সামাজিক, নৈতিক এবং মানসিক সংকট, যা দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় প্রতিভার ধ্বংসসাধন করছে। একই সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার ক্ষেত্রকে যদি রাজনৈতিক স্বার্থ প্রভাবিত করে, তবে তা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ তৈরিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করতে পারে।
এ দেশের শিক্ষার্থীরা একসময় জাতির আশা ও ভবিষ্যতের প্রতিভা হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় থেকে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাপন্থী ছাত্ররাজনীতি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষাজীবনকে রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষমতার মঞ্চ হিসেবে গ্রহণ করছেন। এতে তাঁরা স্বাধীন চিন্তা, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী মননশীলতা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ছাত্ররাজনীতি নেতৃত্ব, সংগঠন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের একটি মাধ্যম। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকে তা সহিংসতা, সংঘাত এবং পার্টিভিত্তিক প্রভাবের খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, প্রশাসনিক অনিয়ম, অস্থিরতা—এই সব মিলিয়ে তাঁরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের মেধার অপচয় হচ্ছে।
শিক্ষকদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকেরা কেবল জ্ঞান প্রদানের মাধ্যম নন; তাঁরা শিক্ষার্থীর নৈতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের দিশারি। শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা নয়; শিক্ষার্থীর অন্তর্দৃষ্টি, উদ্ভাবনী মনন এবং নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা। তবে রাজনৈতিক চাপ, স্বার্থান্বেষী প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ শিক্ষকদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।
রাজনীতির প্রভাব শিক্ষাক্ষেত্রে সীমিত করা না গেলে, তা দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকেও প্রভাবিত করবে। সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের উচিত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা। তাঁদের মননশীলতা, স্বাধীন চিন্তাশীলতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।
শিক্ষা, মেধা এবং নৈতিকতার সঠিক সমন্বয় দেশের শক্তি নির্ধারণ করে। শিক্ষাক্ষেত্রে মেধার অবক্ষয় মানে দেশের ভবিষ্যতের সংকট। শিক্ষার্থীর মননশীলতা, শিক্ষকের নৈতিকতা এবং রাজনীতির স্বাস্থ্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে মেধা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।

আমরা কি বুঝতে পারছি কী ভয়ানক অনিরাপদ সমাজে বেড়ে উঠছে আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা? কোন ঘটনা ছেড়ে কোনটার উদাহরণ দেওয়া যায়—নেত্রকোনার ১১ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া, সিরাজগঞ্জের ৯ বছরের শিশুকে আমের লোভে ধর্ষণ নাকি সিলেটের ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা? এসব ঘটনায় অভিযুক্তরা সবাই...
১ দিন আগে
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নিয়ে কেন এত ভয় চব্বিশের সাহসী অভ্যুত্থানকারীদের? রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তো মোকাবিলা করতে হয় রাজনীতি দিয়েই। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য সেটা করেনি। তাদের শাসনামলের দেড় বছর এমন সব নির্মমতার জন্ম দিয়েছে, যা স্বল্প সময়ে নির্যাতনের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে কি না...
১ দিন আগে
কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া সুপ্রিম কোর্ট হানা পেইন নামক একজন বিচারপ্রার্থীর নতুন বিচার চাওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। বিচারকের দেওয়া সেই আদেশে এমন সব মামলার উদ্ধৃতি ছিল, যেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। আদেশটির খসড়া প্রস্তুতকারী আইনজীবী স্বীকার করেছেন, তিনি আদেশের...
১ দিন আগে
কত মা-বাবার বুক খালি হচ্ছে! কিন্তু রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের এ নিয়ে কোনো হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। ২০ মে আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৫টি।
২ দিন আগে