গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিয়েছে। তারেক রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তখন দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর। আওয়ামী রেজিমের ব্যাংক লুটপাটের ধকল সামলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ১০টি ব্যাংক। ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমার অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসেনি। ফলে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের ক্রয়সীমা কমে গেছে। ফলে একটি বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের ওপর পাহাড়সম প্রত্যাশা।
এ প্রত্যাশাকে আমলে নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে জনগণকে দেওয়া বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর একটি এই ফ্যামিলি কার্ড। উপমহাদেশের মানুষকে আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং দারিদ্র্যমুক্ত করতে এ ধরনের কার্ডগুলো কার্যকর ভূমিকা রেখে আসছে।
যেহেতু ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় প্রকল্প। তাই, এ প্রকল্পকেন্দ্রিক সরকারের বড় রকমের কর্মযজ্ঞ থাকবে। উপকারভোগী বাছাই এবং অর্থ পৌঁছানোর কাজ যত সুন্দরভাবে করা যাবে, এ কাজের তত সুবিধা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সরকারের নানাবিধ সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা, দারিদ্র্য নিরসন, সেবামূলক এবং কমিউনিটি ক্ষমতায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম, সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কার্যক্রম, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, রোহিঙ্গা শিশু সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি সেক্টরে সমাজসেবা অধিদপ্তর কাজ করে আসছে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের ভাতা উপকারভোগীরা সরাসরি পেয়ে থাকেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ। ৬১ লাখ মানুষ মাসিক ৬৫০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা পায়। ২৯ লাখ নারী মাসিক ৬৫০ টাকা হারে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা পায়। ৩৪.৫০ লাখ মানুষ মাসিক ৯০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। সাধারণত সরকারের খাতায় একবার নাম লেখাতে পারলে নির্দিষ্ট সময় পরপর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে এ টাকা যোগ হয়ে যায়।
অন্যদিকে একই কার্যক্রমের আওতায় ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদ্রোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর উপকারভোগী ৬০ হাজার জনকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও এ অর্থ সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছাতে সাধারণত ছয় মাস লেগে যায়। অনেক সময় এ ভাতা পেতে পেতে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর জীবনের অবসান হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সময় কমানোর জন্য সরকার ডিজিটাইজেশনের সুবিধা নিতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার চাইলে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় থাকা বিদ্যমান উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোন এলাকায় কে এই ভাতা পাচ্ছেন, তার তথ্য অনলাইনে অ্যাভেলেবল রাখা যেতে পারে। সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক তথ্য অ্যাভেলেবল রাখলে তা সেখানকার জনগোষ্ঠী দেখতে পারবে এবং কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দিতে পারবে।
অনেক সময় অনেক এলাকায় ভাতার জন্য নাম তুলতে গেলে উপকারভোগীকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঘুষ দিতে হয়। বিভিন্নজনের কাছে ধরনা ধরলেও নাম তোলা যায় না। যা দূর করার জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ভাতার জন্য আবেদনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা যাচাই করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিলে তার নাম উপকারভোগীর তালিকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে।
ফ্যামিলি কার্ডের মূল চ্যালেঞ্জ হবে বর্তমানে কোনো ভাতা না পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। এ ক্ষেত্রে হতদরিদ্র বা পরিবারের কোনো সন্তানকে ন্যূনতম এসএসসি পাস করানোসহ বিভিন্ন আওতা যুক্ত হতে পারে।
শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা প্রদান করলেও ভবিষ্যতে তাদের পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার এবং ওষুধ বিক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সুবিধাভোগীদের ডেটাবেইস প্রণয়ন করার লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেইসের আন্তসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল এমআইএস প্রদানের সুপারিশের কথা বলা হয়েছে।
বিষয়টিতে ধারণাগত একটু ঘাটতি থেকে যায়। কারণ, ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেইসের সর্বশেষ কাজ করা হয়েছে ৯ বছর আগে ২০১৭ সালে। ৯ বছর আগে হওয়ায় এ ডেটা থেকে যথাযথ তথ্য পাওয়া যাবে না। তবে সরকার চাইলে ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির ডেটা কাজে লাগাতে পারে।
উপকারভোগী নির্ধারণের পরে জাতীয় পরিচয়পত্র কাজে লাগানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো হবে, তা সে জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় রেজিস্টার্ড কি না, যাচাই করতে হবে। এমন অনেক মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টধারী রয়েছেন, যাঁরা অন্যের অ্যাকাউন্ট দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, পরে আর ঠিক করেননি।
সরকার এ ধরনের কোনো কিছু ঘোষণা দিলে চারপাশে প্রচুর প্রতারণার তথ্যও পাওয়া যায়। যেমন, উপবৃত্তির কথা বলে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন এবং এসএমএস আসত। ইতিপূর্বে এ ধরনের ঘটনায় অনেক মানুষের বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতানোর ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণ এবং তাদের সুবিধা ঠিকভাবে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা

কেউ বিশ্বাস করবে না, এ রকম এক মামলায় এক মা ও তাঁর দেড় মাস বয়সী শিশু জেলখানা ঘুরে এল। শিশু কোলে নিয়ে মায়ের সেই ছবিটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এই মাকে গ্রেপ্তার করেছে যে পুলিশ সদস্যরা, তাঁদের ‘বীরপুঙ্গব’ হিসেবে পুরস্কৃত করা উচিত। সরকারি দলের যে আইনজীবী এই অসহায় নারী ও শিশুর জামিন দেওয়া কেন উচিত...
২৭ মিনিট আগে
দেশের জনগণ কি কোনো সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে আর? শঙ্কা নিয়ে মনে, তারা কি ভাবছে, যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ? এই তো, ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে গেল জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যে কথামালার রাজনীতি হয়েছে, তাতে কি খুব একটা বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা শোনা গেছে? শোনা গেছে শিক্ষা নিয়ে কথা? স্বাস্থ্য নিয়ে কথা?...
১ ঘণ্টা আগে
১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময়েই এমন একটি সিদ্ধান্ত হলো, যার প্রভাব সকাল থেকেই প্রতিটি পরিবারের খরচে পড়েছে। লিটারপ্রতি কয়েক টাকা বাড়তি অঙ্ক কাগজে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এর ওজন অনেক বেশি। ভোরে সেচপাম্প চালানো কৃষক, বাসে চড়ে কাজে যাওয়া শ্রমিক, কেরোসিনের আলোয় সন্তানের...
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দুই মাসে গড়াতে চলল। এরই মধ্যে এক দফার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে একবার আলোচনার টেবিলেও বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সে আলোচনা ফলপ্রসূ তো হয়ইনি, বরং যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করেছে।
১ দিন আগে