ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩১টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই। ২০টি দলের নারী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী মিলে মাত্র ৭৬ জন। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ১০টি দল নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। এই একটি সংবাদেই নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, সমতা ও মুক্তির বাস্তবতা কতটুকু, তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, নারীবাদী ও সচেতন রাজনৈতিক মহল শঙ্কিত ও কিছুটা আতঙ্কিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো তাদের এই ব্যর্থতার জন্য সামান্য লজ্জিত!
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩টি এবং জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনের মধ্যে একটিতেও নারী প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের দুটি অংশ, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই। অন্যদিকে বিএনপি ১০ জন, এনসিপি ২ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, গণঅধিকার পরিষদ ৩ জন, গণসংহতি ৪ জন, কমিউনিস্ট পার্টি ১ জন, বাসদ ৫ জন, বাসদ-মার্ক্সবাদী ১০ জন, জেএসডির ৬ জন, নাগরিক ঐক্য ১ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২ জনসহ আরও কিছু পার্টির নারী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিমোন দ্য বোভোয়ার তাঁর বিখ্যাত বই ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’-এ বলেন, ‘নারী জন্মগতভাবে নারী নয়, তাকে নারী বানায় সমাজ।’ এর অর্থ হলো, নারী হয়ে ওঠা কোনো স্বাভাবিক বা জন্মগত বিষয় নয়, বরং সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবার, ধর্ম ও ইতিহাসই নারীর আচরণ, মর্যাদা, দায়িত্ব এবং সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে দেয়। তাঁর মতে, নারীর প্রতি বঞ্চনা ও শাসনের যে কাঠামো, তা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই সৃষ্টি, যা নারীর স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়কে সংকুচিত করে রাখে। এই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ভেঙে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাই মানবতার পূর্ণতা নিশ্চিত করে।
এই দুরবস্থার মধ্যেও বরিশালের মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা-৯ আসনের তাসনিম জারা, একজন হিজড়া প্রার্থী, বাম জোটের ১৬ জন নারী প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র ১৫ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে মানুষের মধ্যে একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। বিএনপির দলীয় নারী প্রার্থীদের বাইরে তাঁরা হয়তো নির্বাচনে জয়ী হবেন না, তবু এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থার শৃঙ্খল থেকে নারীর অধিকার, মর্যাদা, ক্ষমতায়ন ও মুক্তির জন্য তাঁদের লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।
ভাষা আন্দোলন থেকে সবশেষ চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা অনন্য ছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে, মানবসমাজে নারীর মর্যাদা, সমতা, ক্ষমতায়ন ও মুক্তি ছাড়া কোনো সংগ্রাম, অর্জন বা স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ।
সংরক্ষিত নারী আসনের ইতিহাস আমাদের আরেকটি সত্য মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭৩ সালে যেখানে ১৫টি সংরক্ষিত আসন দিয়ে শুরু, সেখানে আজ সংখ্যা ৫০। কিন্তু এই আসনগুলো নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। কারণ, এগুলো সরাসরি ভোটে আসা প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং দলীয় অনুগ্রহের রাজনীতি। ১৯৯১ থেকে ২০২৪—প্রতিটি নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, নারী প্রার্থী বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়নি। দ্বাদশ সংসদে ২৬ জন নারী সরাসরি লড়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে, জয়ী হয়েছেন ১৯ জন, কিন্তু সেই সাফল্যও মূলত একদলীয় কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। আজ যখন বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে, তখন প্রশ্ন ওঠে, সংসদের টিকিটেই যদি নারীকে জায়গা না দেওয়া হয়, তাহলে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে কীভাবে?
ইতিহাস দেখিয়েছে, নারীরা পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতরেই লড়াই করে অধিকার আদায় করেছেন। রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষমতার সর্বত্র এই লড়াই জারি রেখে, অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনের আলোকে আইন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও ক্ষমতায়নের অংশীদার হতে হবে।
নারীর মুক্তি সমগ্র সমাজ ও মানবতার মুক্তি, ন্যায় ও সমতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নারীর শিক্ষা, রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক সমতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে মানবসমাজ কখনো সত্যিকারের ন্যায়, প্রগতি ও সমতার পথে অগ্রসর হতে পারবে না।

দেশে নির্বাচনী আবহ বেশ ভালোভাবেই দেখা যাচ্ছে। জমজমাট প্রচার, শোরগোল তোলা প্রচারণার পাশাপাশি রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এসব সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচনে বাতিল ঘোষিত প্রার্থিতা পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি লড়াই এখনো অব্যাহত আছে।
৮ ঘণ্টা আগে
ঢাকার সরকারি সাতটি কলেজ ইস্যুতে গত কয়েক বছরে যা ঘটেছে, তা শিক্ষাক্ষেত্রে এককথায় নজিরবিহীন। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন সংশয়-সন্দেহ এবং অনাস্থা-অবিশ্বাস আমাদের গৌরব-গরিমাকে অনেকাংশেই ম্লান করে দিয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগে ও পর থেকে সারা দেশে নানা ধরনের সহিংসতার ঘটনা নির্বাচন কতটুকু শৃঙ্খলার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
‘লোকসানের জন্য মালিক কারখানা বন্ধ করে দেইল। এলাই হামার কামকাজ নাই। কেমন করি সংসার চলিবে? ছোট দুইখান ছাওয়াক নিয়া না খায়া মরির নাগিবে।’ কর্মহীন পোশাকশ্রমিক রোজিনার এই আক্ষেপ কোনো কর্তৃপক্ষের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়বে কি না, তা আমাদের জানা নেই। তবে এ কথা সত্যি, নীলফামারীর ২৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে...
১ দিন আগে