৮ ডিসেম্বর দুপুরের পর থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা জিপে-ট্রাকে করে বরিশাল শহরে প্রবেশ করছিলেন। সেকি গগন বিদারী আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করা ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি চারদিকে! ফাঁকা গুলির আওয়াজে কানপাতা দায়। ওপরে মুহুর্মুহু উত্তোলিত হচ্ছে রাইফেল হস্ত। দাড়ি-গোঁফে, তামাটে গায়ের রঙে, কপালে লাল পট্টিতে প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধা যেন একেকজন চে গুয়েভারা।

‘আজ রাতে যদি শ্রাবণের মেঘ
হঠাৎ ফিরিয়া যায়,
তবুও পড়িবে মনে।
চঞ্চল হাওয়া যদি ফেরে
কভু হৃদয়ের আঙ্গিনায়,
রজনীগন্ধা বনে
তবুও পড়িবে মনে।’
কত বছর হয়ে গেল। তবু তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়। আমার মুক্তিযোদ্ধা-বন্ধুদের কথা; বিশেষ করে সেই মুক্তিযোদ্ধা-বন্ধুদের কথা, যাঁদের আমরা মুক্তিযুদ্ধে হারিয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া বন্ধুরা তো আমার কাছে স্বপ্নের মানুষ ছিলেন না। তাঁদের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো, আড্ডা মারতাম, উত্তপ্ত তর্ক করতাম উনসত্তর আর সত্তরে—কলাভবনের বারান্দায়, পাঠাগারের চাতালে, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সবুজ মাঠে। কখনো মনে হয়নি তাঁরা একদিন একটা অসাধারণ কাজ করে ফেলবেন—আত্মপ্রকাশ করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, প্রাণ দেবেন দেশের জন্য, ছিনিয়ে আনবেন স্বাধীনতার লাল সূর্য। কখনো ভাবিনি, তাঁরা সময়ের একটা বিন্দুতে দাঁড়িয়ে অমরত্ব লাভ করবেন—সময় তার থাবা বসাতে পারবে না এঁদের ওপর, জরা এঁদের ছুঁতে পারবে না, বার্ধক্য পরাজয় মানবে এঁদের কাছে। এঁদের কর্মকাণ্ড আমাদের মতো মানুষদের পরিণত করবে অতিসাধারণে।
মনে পড়ছে শহীদ নিজাম উদ্দীন আহমেদের কথা, যাঁকে আমরা আজাদ নামেই ডাকতাম। সম্ভবত প্রয়াত বাল্যবন্ধু মাসুদ আহমেদ মাসুদই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ছাত্র ইউনিয়নের উঁচু দিকের নেতা ছিল আজাদ। ওর বাবা রাষ্ট্রদূত কামরুদ্দীন আহমেদের ‘পূর্ব পাকিস্তানের সামাজিক ইতিহাস’ নামক প্রামাণ্যগ্রন্থটি আমার খুব প্রিয় ছিল। পরিচয়ের প্রথম পর্বেই বোধ হয় বলেছিলাম, আজাদ শুধু হেসেছিল। মনে আছে।
সলিমুল্লাহ হলের অনাবাসিক ছাত্র ছিল সে। দলের সাংগঠনিক কাজের কারণে সন্ধ্যার পর অনেক সময় তাকে পাওয়া যেত হলে। প্রায়ই সে চলে আসত আমাদের ৩৩ নম্বর ঘরে—যতটা না আমার সহকক্ষবাসী কমরেড তাজুল ইসলামের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন বিষয়ে আলোচনা করতে, তার চেয়ে অনেক বেশি আমার কাছে রুশ সাহিত্যের গল্প শুনতে।
জানি না, কেমন করে সে যেন টের পেয়েছিল, প্রগতি প্রকাশনীর কল্যাণে রুশ সাহিত্যের বেশ কিছু ধ্রুপদি গ্রন্থ আমার পড়া। টলস্টয়, গোর্কি, চেকভ, তুর্গেনিভ, দস্তয়েভস্কির বহু লেখা বা গল্প আজাদকে আমি মুখে মুখে শুনিয়েছি। আমার বিছানায় সে শুয়ে থাকত আর আমি আমার পড়ার টেবিলের চেয়ারে বসে কথা বলে যেতাম। কখনো কখনো তাকিয়ে দেখতাম, আমার কথা শুনতে শুনতে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। বুঝতে পারতাম, সারা দিনের দলের কাজ আর ছোটাছুটির কারণে ক্লান্তি ভর করেছে তার শরীরে। ছোট শিশুর মতো তার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বড় মায়া হতো।
কখনো-সখনো গল্প করতে করতে রাত বেড়ে যেত। তখন বাড়ি ফিরে খাবার বদলে আমাদের সঙ্গে ছাত্রাবাসের খাবার ঘরেই খেয়ে নিত আজাদ। মাঝেমধ্যে মাসুদও আসত, যোগ দিত নানা আলোচনায়। তার পড়াশোনার ব্যাপ্তি ছিল ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। মনে আছে, এমিল জোলার ‘জার্মিনাল’ উপন্যাসটি সে-ই প্রথম পড়তে দিয়েছিল—‘এঁতিয়ে’ চরিত্রটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল।
আড্ডা কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত চলত। অনেক রাতে চায়ের জন্য আমরা প্রবল তৃষ্ণাবোধ করতাম। আমরা মানে আজাদ, মাসুদ, তাজুল ভাই ও আমি। গেলাসে গরম চা নিয়ে বসতাম পলাশী ব্যারাকের ছক্কু মিয়ার দোকানে। আলোচনা একটি সরলরেখায় চলত না, সে তার নিজস্ব মেজাজ-মর্জির ওপর ভর করে এগোত। কী না ছিল সেই কথাবার্তায়—বিশ্ব সমস্যা, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র—আরও কত কী! একসময়ে ছক্কু মিয়া দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করার জন্য তাড়া দিত। আমাদের উঠতে
হতো। গভীর রাতের বিরল যানের সড়কে একটি রিকশা জোগাড় করে আজাদ চলে যেত ধানমন্ডির দিকে আর তাজুল ভাই এবং আমি রাস্তা পেরিয়ে ফিরে আসতাম ডেরায়। সে সবই আজ স্মৃতি। বেতিয়ারার যুদ্ধে আজাদ শহীদ হয়। শহীদ নিজাম উদ্দিন আজাদের শেষ শয্যা রচিত হয়েছে কুমিল্লার বেতিয়ারায়।
মনে আছে, ৮ ডিসেম্বর দুপুরের পর থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা জিপে-ট্রাকে করে বরিশাল শহরে প্রবেশ করছিলেন। সেকি গগনবিদারী আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করা ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি চারদিকে! ফাঁকা গুলির আওয়াজে কানপাতা দায়। ওপরে মুহুর্মুহু উত্তোলিত হচ্ছে রাইফেল হস্ত। দাড়ি-গোঁফে, তামাটে গায়ের রঙে, কপালে লাল পট্টিতে প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধা যেন একেকজন চে গুয়েভারা। বোতাম খোলা মোটা জামার ওপরে কার্তুজের বন্ধনী কারও কারও এবং লুঙ্গি আর গামছা তো আছেই।
সার বাঁধা জিপ-ট্রাক আমাদের বাড়ির সামনে। ডজনে ডজনে মুক্তিযোদ্ধা লাফিয়ে লাফিয়ে নামছেন—বাবার পূর্ব ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা, আমার বন্ধুরা, অন্য তরুণেরা। শহরে ঢোকার আগে পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে সালাম করতে এসেছে তারা। বারান্দায় দাঁড়ানো বাবাকে সার বেঁধে পা ধরে সালাম করছে তারা। একটু ধাক্কাধাক্কিও হচ্ছে—কে আগে সালাম করবে, তা নিয়ে। বাবা সবার মাথায় হাত রাখছেন, বড় নরম তাঁর দৃষ্টি, সজল তাঁর চোখ। তাঁকে অনেকটা মনে হচ্ছিল ঋষির মতো।
বাবাকে সালাম করে তারা ঘরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছিল মাকে সালাম করার জন্য। বাবার কিছু নির্বাচিত শিক্ষার্থী এবং আমার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভিন্ন অন্যদের সামনে বেরোতেন না আমার মা। কিন্তু আজ সেসব কে মানে? মাকে সালাম করতেই তিনি সামনের কাঁসার বাটি থেকে এক চামচ করে পায়েস সবার মুখে তুলে দিচ্ছিলেন। যেন মেলা বসেছে চারদিকে।
আর আমি বাড়ির দেয়ালের কাছে ফটকের পাশে বকুলগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত হয়ে গল্প করছিলাম মুক্তিযোদ্ধা-বন্ধুদের সঙ্গে—আজিজ, মঞ্জু, স্বপন, রফিক, সজল—সবাই। তবে সেটা ঠিক গল্প ছিল না, ছিল দিশেহারা হইহুল্লোড়, বাঁধনহারা হাসি, সীমাহারা ঠাট্টা—অকারণ পুলকে ভেসে যাচ্ছিলাম আমরা সবাই।
এরপর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। এর মধ্যেই কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছিল, কোথায় যেন কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একটা টানা বিরোধ, গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে মত ও পথের অমিল, একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস ধীরে ধীরে গেড়ে বসছে।
মনে হচ্ছিল, যাঁরা একদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, আজ তাঁরা একে অন্যের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। বিপ্লবী তত্ত্বজ্ঞানের বিরোধ সব সম্পর্ককে দলিত করে দিয়েছে।
এর মধ্যেই এক সন্ধ্যায় একটা সংবাদ সারা বরিশাল শহরকে হতবাক করে দিল। সারা শহর থ হয়ে গেল। সদর রোডে কোনো এক ছবির দোকানে (শাপলা স্টুডিও) বসে সন্ধ্যার পর আড্ডা দিচ্ছিল আজিজ, তার বন্ধুদের সঙ্গে। হঠাৎ একদল সশস্ত্র তরুণ মেশিনগানের ব্রাশফায়ারে হত্যা করল মুক্তিযোদ্ধা আজিজকে। মঞ্জুও নিহত হলো আরেক দলের আক্রমণে। মুক্তিযোদ্ধা জালাল ভাই ওকালতি করতেন। এক সন্ধ্যায় বগুড়া রোড়ে তাঁর দপ্তরে ঢুকে তাঁকে হত্যা করা হয়। ঢাকায় বরিশালের কবি অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলা হয়।
এক এক করে খবর আসে আর আমার পাঁজর একটি একটি করে গুঁড়িয়ে যায়। এরা সবাই আমার পরিচিত, আমার বন্ধু, আমার জীবনের অংশ। আজিজ বরিশাল জিলা স্কুলে শুধু আমার সহপাঠীই ছিল না, তার পিতা মৌলভি মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ ছিলেন আমার প্রথম শ্রেণিশিক্ষক, জিলা স্কুলে ১৯৬০ সালে, চতুর্থ শ্রেণিতে। তিনি আবার বরিশাল নৈশ মহাবিদ্যালয়ে আমার বাবার শিক্ষার্থী ছিলেন। আজিজের ভাই কাদের আমাদের এক ক্লাস নিচে পড়ত। চতুর্থ শ্রেণির ষাণ্মাসিক পরীক্ষায় সব শাখার মধ্যে আমি প্রথম স্থান অধিকার করলে মোসলেহ উদ্দীন স্যারের সেকি গর্ব! অন্য শাখার শ্রেণিশিক্ষক নাজিমউদ্দীন স্যারের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসি—ভাবখানা, কী কেমন বোঝেন!
মঞ্জুর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় পা মাড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে। এক ক্লাস ওপরে পড়ত সে। এক বছর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পেরে সে আমাদের সঙ্গে চলে আসে। প্রথম ক্লাসের দিনই তাড়াহুড়োতে আমার জুতা দিয়ে তার পা মাড়িয়ে দিয়েছিলাম আমি। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ধরে মাফ চেয়েছিলাম। প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েও সে আমাকে কিছু বলেনি। পরে সে আমার প্রচণ্ড ভক্ত হয়ে পড়ে। আমার বিরুদ্ধে সামান্যতম নেতিবাচক কথাও সে সহ্য করতে পারত না। তার দেওয়া একটা নাম ছিল—‘টালি’, কেন কে জানে!
জালাল ভাই আমাদের চেয়ে অনেক বড়, আমার বাবার শিক্ষার্থী ছিলেন বিএম কলেজে। মনে আছে, তাঁর একটি কাপড়ের দোকান ছিল জগদীশ সিনেমা হলের উল্টো দিকে। একদিন বাবা আর তাঁর দোকানে গিয়েছিলাম কাপড় কিনতে। তখন জার্মানি থেকে ‘হ্যানোভার শার্ট’ বলে একধরনের জামা আসত। দাম মনে আছে ৪৫ টাকা। দেখালেও আমি কিনতে রাজি হইনি। মা-বাবার প্রতি এ বিবেচনায় তিনি বড় খুশি হয়েছিলেন। আমার মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছিল বিএম স্কুলে। প্রথম পরীক্ষার দিন বহু মানুষ এসেছিলেন পরীক্ষার আগে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে। জালাল ভাইও এসেছিলেন। আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘আমাদের মান রাখা চাই’। জনান্তিকে বলে রাখি, বাবা আমাকে পরে পিচ রঙের ভারি সুন্দর একটা হ্যানোভার শার্ট কিনে দিয়েছিলেন।
‘কুসুমিত ইস্পাত’-এর কবি হুমায়ুন কবিরকে আমি চিনেছি অনেক পরে। চিনতাম আমাদের পাড়ার ‘ফিরোজ ভিলার’ হুমায়ুন ভাইকে, যিনি দুর্দান্ত বোলিং করতেন। আমরা তখন প্রতি বিকেলে ক্রিকেট খেলতাম বিএম কলেজের মাঠে—কাক্কা, শম্ভু, সাহু ভাই, হুমায়ুন ভাই, বাবুল ভাই, বাচ্চু, কাজল, কামাল, আমি। একদিন ব্যাট করছি, বল করছেন হুমায়ুন ভাই। ব্যাটের হাতলে বল লেগে লাফিয়ে উঠল আমার চিবুকে—রক্তারক্তি কাণ্ড। বাচ্চু (প্রয়াত শিল্পী হাসি চক্রবর্তী) আমাকে নিয়ে গেল আমাদের পাড়ার কম্পাউন্ডার কাকা অনিল বাবুর কাছে।
পরে ঢাকায় এলেও হুমায়ুন ভাইয়ের সঙ্গে আর দেখা হয়নি; বরং তাঁর স্ত্রী রেবু আপার সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে। আমার বিতর্কের বিরাট ভক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আমি যখন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, তখন শামসুন নাহার হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে হলের বার্ষিক সাহিত্য প্রতিযোগিতায় বহুবার আমাকে বিচারক হিসেবে নিয়ে গেছেন তিনি। একসময়ে জানিয়েছিলেন রেবু আপা, তাঁদের প্রথম সন্তানের নাম ‘সেতু’। ভারি ভালো লেগেছিল নামটি। সেই ‘সেতু’ (আদিত্য কবির) সব সেতু ভেঙে দিয়ে এক রাতে চলে গেছে অন্য জগতে। হুমায়ুন ভাই নেই। কিন্তু তাঁর বলের আঘাত আমার চিবুকের পাশে যেখানে লেগেছিল, সেখানে একটা বুটলি পাকিয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে সেখানে হাত পড়ে, আর তখনই ‘কুসুমিত ইস্পাতের’ কবি হুমায়ুন কবিরের ‘আমার ভাই’ কবিতাটির কথা মনে পড়ে যায়।
কবি অমিয় চক্রবর্তী বলেছিলেন, ‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’। কিন্তু শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘মেঘনায় কত জল’ গল্পের ছেলেটি অসুখের ঘোরে বলছিল, ‘এক বাঁও মেলে না’। জীবনের বহু ঘটনা মেলাতে পেরেছি; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বহু ঘটনাই আজতক মেলাতে পারিনি। কিন্তু ওসব নিয়ে খুব একটা ভাবি না। জীবনের কতটুকুই-বা মেলাতে পারা যায় একজীবনে?
কিন্তু এটা জানি, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদই আমাদের পরম চেনা—হৃদয়ে, বোধে আর চেতনায়।
লেখক: অর্থনীতিবিদ

‘অতীতকে ছিন্ন করে’ নামের একটি বই লিখেছিলেন আলেকসান্দর ফিলিপভ। তিনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র ‘প্রাভদা’র নিজস্ব সংবাদদাতা। প্রাভদার সংবাদদাতা হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানে তিনি বহু বছর কাটিয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলার বুকে নেমে এসেছিল এক ভয়াল রাত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দেশ এখন এমন এক বাস্তবতার সম্মুখীন, যখন একাত্তরের ইতিহাস পুনর্বার স্মরণ করার প্রয়োজনীয়তা আছে।
২ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর নীল আকাশে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে খুশির সওগাত। আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। উৎসবের ঈদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলমানের হৃদয়তন্ত্রীতে বাজায় এক সাম্যের সুর।
৬ দিন আগে
দুটি সাম্প্রতিক খবর দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। প্রথম খবরটি হলো, রাশিয়ার তেলের ওপর শর্ত সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপর খবরটি হলো, চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়ে গেছে। দুটি সংবাদের সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত-সংকটের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে।
৬ দিন আগে