
একজন মধ্যবিত্ত মা বলছি। গল্পের শুরুটা আমার থেকেই। ২০২৩ সালে আমার ছেলের বয়স যখন প্রায় এক বছর, ফেসবুকের মায়েদের একটি গ্রুপে দেখলাম, রোটাভাইরাসে আক্রান্ত এক শিশু ডায়রিয়া আর পানিশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। জানতে পারলাম যে শীতকালে এই ঝুঁকি বেশি, কিন্তু এর টিকা আছে। বাজার থেকে রোটাটেক টিকা নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ছেলেকে টিকা দিলাম। অবাক হলাম জেনে, প্রতি ডোজের দাম ২ হাজার ৯৯৩ টাকা, সঙ্গে সার্ভিস চার্জ আর ডোজ দু-তিনটি। মধ্যবিত্ত হয়ে যদি এত চাপে পড়ি, নিম্নবিত্তের শিশুদের কী হবে? তাদের ঝুঁকি আরও বেশি, অথচ সরকারিভাবে এই টিকা দেওয়া হয় না। এই প্রশ্ন থেকে শুরু অনুসন্ধান।
আইসিডিডিআরবির ২০২৫ সালের ১৪ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর রোটাভাইরাসে পাঁচ বছরের কম বয়সী আনুমানিক আড়াই থেকে ৩ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। সেই সঙ্গে লক্ষাধিক শিশু আক্রান্ত হয়, পরিবারে আর্থিক চাপও বাড়ে। তিন-চতুর্থাংশের বেশি পরিবার রোটাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় মাসিক আয়ের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে। প্রতিটি সংক্রমণে গড়ে খরচ প্রায় ১৬১ মার্কিন ডলার। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাসপাতালে ভর্তিতে দেশে বছরে আনুমানিক ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।
আইইডিসিআর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাসপাতালভিত্তিক রোটাভাইরাস ও ইন্টুসাসেপশন নজরদারি (এইচবিআরআইএস) নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নজরদারি শুরু হয় ২০১২ সালের জুলাই মাসে। বর্তমানে সাতটি হাসপাতালে নজরদারি চলছে। নজরদারির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, শীতে সংক্রমণ বাড়ে। পুরো বছরে ৯৭৮ নমুনার ৬৩২টি (৬৪.৬২ শতাংশ) পজিটিভ ছিল। ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯৮৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ১৮ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ১১ হাজার ৪২২ জনের (৬০ শতাংশ) রোটাভাইরাস ধরা পড়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায়, রংপুরে ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা শিশুদের একটি বড় অংশ রোটাভাইরাসে আক্রান্ত থাকে। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা দেওয়া শুরু হলে সময়মতো সরবরাহ, নির্ধারিত বয়সের মধ্যে ডোজ সম্পন্ন করা, কোল্ড চেইন বজায় রাখা এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো হবে মূল চ্যালেঞ্জ। রংপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের টিকা দেওয়া অসম্ভব নয়; তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর।
কথা হয় অক্সফোর্ড পপুলেশন হেলথ ডিপার্টমেন্টের ফার্মাকোলজিস্ট সিনায়াত মাহজাবিনের সঙ্গে। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত রোটাভাইরাস টিকা শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা থেকে সুরক্ষা দেয়। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বলছে, এই টিকা অনেক শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। অথচ বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এটি এখনো যুক্ত হয়নি।
প্রশ্ন ওঠে, দেশের সব শিশু কি সমান স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে? টিকা চালুর প্রস্তুতি কতটা? এই টিকা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। তাই টিকা কেন্দ্র পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোল্ড চেইন জরুরি। তাপমাত্রা ঠিক না থাকলে কার্যকারিতা নষ্ট হয়। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে রোটাভাইরাস টিকা যুক্ত হলে ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা নিরাপদ থাকবে। একটি টিকা শিশুকে হাসপাতাল থেকে দূরে রাখবে, পরিবারকে দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচাবে।
বিশ্বের ১৩২টি দেশ জাতীয় কর্মসূচিতে এই টিকা যুক্ত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তখনো চালু করেনি শুধু বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে গাভির (Gavi) অনুমোদন পায়, ২০২০ সালে পরিকল্পনা হালনাগাদ করে এবং ২০২২ সালে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তবু টিকা চালু হয়নি।
১৪ আগস্ট আইসিডিডিআরবি ঢাকায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনার আয়োজন করে। সেখানে ইউনিসেফের চিকিৎসক মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, টিকা কর্মসূচি চালুতে আনুমানিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার লাগবে। বাংলাদেশে চারটি ডব্লিউএইচও প্রিকোয়ালিফায়েড টিকা (রোটারিক্স, রোটাটেক, রোটাভ্যাক ও রোটাসিল) পরীক্ষা হয়েছে। আলোচনায় অর্থায়ন, নীতিগত অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা উঠে আসে। কিন্তু সব শিশুর জন্য টিকা কবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই আলোচনা থেকে জানা যায়, বিলম্বের বড় কারণ বাজেট ও ব্যয়ের সুবিধা বিশ্লেষণ।
বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যে একটি শিশু জীবনের প্রথম ১ হাজার দিনে বারবার অসুস্থ হলে অপুষ্টিতে ভোগে, বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়; যা সার্বিকভাবে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনে। রোটাভাইরাস নিয়ে গবেষণা এখন পরিণত। তাই মূল কাজ হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা।
দেশে প্রচলিত রোটাভাইরাস টিকা ৮১ থেকে ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি কমায়। আর টিকা নেওয়ার পর আক্রান্ত হলেও এই রোগের তীব্রতা কমে। ৪ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এই রোগের ভাইরাসটি বেশি সময় বাঁচে। শীতে মানুষ ঘরে বেশি থাকে, তাই সংক্রমণ বাড়ে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে শীত বেশি দিন থাকায় এর ঝুঁকিও বেশি।
টিকা শুধু একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের সব শিশুর সমান সুযোগের ব্যাপার। তথ্য-প্রমাণ আছে, টিকা আছে, কোল্ড চেইনের চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত। এখন প্রয়োজন জাতীয়ভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত ও ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।
ফারিয়া এজাজ, সাংবাদিক

সব জিনিসেরই যখন ইতরবিশেষ আছে, গণতন্ত্রেরই-বা থাকবে না কেন। আছে, গণতন্ত্রেরও বাড়তি-কমতি রয়েছে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সে কথা এবং শুনেছিল সারা বিশ্ব। গণতন্ত্র যদি বাড়তির দিকে ঝুলে পড়ে, তখন ঘটনা কী ঘটে তার ছবি দিয়েছিলেন তিনি। ফল দাঁড়ায় সমকামিতা, নৈতিক অধঃপতন, বর্ণবিদ্বেষ, অর্থনৈতিক
১ ঘণ্টা আগে
দিন যত যাচ্ছে, অর্থনীতিতে চলমান মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিপরীতমুখী লক্ষ্যে টানাপোড়েন ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার। একই অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশের। ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবছরে
১ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়, গত শতকের আশি-নব্বই দশকের শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিক্ষকদের সম্মান করত আর বর্তমানের শিক্ষার্থীদের দেখলে শিক্ষকেরাই কতটা আতঙ্কিত বোধ করেন। কৌতুকপূর্ণ হলেও এই ধরনের ভিডিও কিন্তু সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে। তা না হলে শিক্ষার্থীর
২ ঘণ্টা আগে
সরকারি হাসপাতালে একটি চিকিৎসা যন্ত্র নষ্ট হলে প্রথম প্রশ্নটি করেন রোগী—আবার কবে সেবা পাওয়া যাবে? কিন্তু এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গেলেই সামনে আসে আরও কিছু জরুরি প্রশ্ন। যন্ত্রটি এখন কোথায়? কার দায়িত্বে রয়েছে? মেরামতের আবেদন কবে করা হয়েছে? সিদ্ধান্ত আটকে আছে কোন দপ্তরে? মেরামতের জন্য কত টাকা...
১৬ ঘণ্টা আগে